আজকের সংবাদপত্র থেকে

For Sharing

আজ পশ্চিমবঙ্গের কলকাতা এবং বাংলাদেশের ঢাকা থেকে প্রকাশিত বাংলা সংবাদপত্রগুলিতে ভিন্ন ভিন্ন বিষয়  প্রাধান্য পেয়েছে।

কলকাতা থেকে প্রকাশিত ‘আনন্দবাজার’ পত্রিকা’ “ছাত্রীর দেহ ফেরাতে তৎপর বিদেশমন্ত্রী” শীর্ষকে একটি খবর প্রকাশ করেছে। পত্রিকাটি লিখেছে,

“বিদেশে সমস্যায় পড়ে কেউ সুষমা স্বরাজের সাহায্য চেয়েছেন, অথচ পাননি এমন লোক হয়তো খুঁজে পাওয়া যাবে না। এ বার বাংলাদেশ থেকে এক কাশ্মীরি ছাত্রীর মৃতদেহ দেশে ফেরাতে উদ্যোগী হয়েছেন বিদেশমন্ত্রী। আজ টুইট করে সুষমা জানিয়েছেন, ওই ছাত্রীর মৃতদেহ দ্রুত দেশে ফেরানোর ব্যবস্থা হবে।

কাশ্মীরের অনন্তনাগের বাসিন্দা কুয়ারাতুল ঐইন বাংলাদেশের তাহির-উল-নিসা মেডিক্যাল কলেজের এমবিবিএসের ছাত্রী। গত কাল বাংলাদেশেই মারা যান তিনি। জম্মু-কাশ্মীরের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা পিডিপি নেত্রী মেহবুবা মুফতি প্রথম বিষয়টি নিয়ে বিদেশমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। সুষমার উদ্দেশে তাঁর টুইট, ‘‘কাশ্মীরি ছাত্রী কুয়ারাতুল ঐইন বাংলাদেশে মারা গিয়েছেন। তিনি তাহির-উল-নিসা মেডিক্যাল কলেজের পড়ুয়া। আপনাকে আমার অনুরোধ, ওই ছাত্রীর মরদেহ দেশে ফেরাতে পরিবারকে সাহায্য করুন।’’ বিদেশমন্ত্রীকে একই আবেদন করেন জম্মু-কাশ্মীরের আর এক প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা ন্যাশনাল কনফারেন্সের নেতা ওমর আবদুল্লাও। তাঁর কাছে সাহায্য চেয়ে আর্জি জানিয়েছিল, অনন্তনাগের জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন। সুষমার উদ্দেশে করা টুইটে ওই আবেদন পত্রটির ছবিও জুড়ে দিয়েছেন ওমর।

এর পরই আজ সকালে টুইট করে সুষমা জানান, ওই এমবিবিএস ছাত্রীর পরিবারের সঙ্গে ঢাকায় অবস্থিত ভারতীয় হাইকমিশন যোগাযোগ রাখছে। তিনি লিখেছেন, ‘‘ওই ছাত্রীর ভাইয়ের সঙ্গে গত কাল আমার কথা হয়েছে। ছাত্রীর মরদেহ দ্রুত দেশে ফেরানো হবে।’’ ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনও জানিয়েছে, দফতরের আধিকারিকেরা কুয়ারাতুলের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। কথা চলছে শেখ হাসিনা সরকারের সঙ্গে।”

 

কলকাতা থেকে প্রকাশিত ‘বর্তমান’ পত্রিকা’ “নেপালে বিমান দুর্ঘটনায় কো-পাইলট সহ তিনজনের মৃত্যু” শীর্ষক খবরটি ছেপেছে। পত্রিকাটি লিখেছে,

“ফের নেপালে বিমান দুর্ঘটনা। রবিবার হিমালয়ের পাদদেশে অবস্থিত লুকলা বিমানবন্দরে টেক অফের সময় রানওয়ে থেকে ছিটকে যায় একটি ছোট বিমান। বিমানটি রানওয়ে থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর হেলিপ্যাডে দাঁড়িয়ে থাকা দু’টি কপ্টারের সংঘর্ষ হয়। দুর্ঘটনায় বিমানের সহকারী পাইলট এবং দু’জন পুলিসকর্মীর মৃত্যু হয়েছে। এদিন সকালে লুকলা বিমানবন্দরে টেক অফের জন্য তৈরি হচ্ছিল সামিট এয়ারের ৯এন-এএমএইচ নামে নথিভুক্ত হওয়া একটি বিমান। তখনই বিমানের চাকা আচমকাই পিছলে রানওয়ে থেকে ৩০ থেকে ৫০ মিটার দূরে থাকা হেলিপ্যাডের দিকে এগিয়ে যায়। সেখানে দাঁড়িয়েছিল দু’টি হেলিকপ্টার। এছাড়াও ছিলেন নিরাপত্তারক্ষী ও পুলিসকর্মীরা। বিমানটি গিয়ে ধাক্কা দেয় হেলিকপ্টারগুলিকে। তখন বিমানের কো-পাইলট এবং দুই পুলিসকর্মী গুরুতরভাবে জখম হন। তাঁদের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন। এছাড়াও পুলিসের এক সাব ইন্সপেক্টর জখম হয়েছেন। উল্লেখ্য, হিমালয় পর্বতে যাওয়ার জন্য এই লুকলা বিমানবন্দরই বেশি ব্যবহার করেন অভিযাত্রীরা। এটি তেনজিং ও হিলারি বিমানবন্দর নামেও পরিচিত। এভারেস্টের কাছাকাছি হওয়ায় বিমানবন্দরটি অত্যন্ত দুর্গম স্থানে অবস্থিত। বিমান কিংবা কপ্টার এই বিমানবন্দরে ওঠানামার সময় পাইলটদের খুবই সতর্ক থাকতে হয়। এদিন প্রতিকূল পরিস্থিতি এবং আবহাওয়া খারাপ থাকার কারণেই দুর্ঘটনাটি ঘটেছে বলে মনে করছে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ। কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন বিমানবন্দরের মুখপাত্র প্রতাপবাবু তিওয়ারি বলেন, বিমানটি টেক অফের সময় চাকা পিছলে হেলিপ্যাডে ঢুকে পড়ে। তখনই দু’টি কপ্টারের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। দুর্ঘটনায় বিমানের কো-পাইলট এস ধুঙ্গানা, সাব ইন্সপেক্টর রাম বাহাদুর খাড়কার এবং এক পুলিসকর্মীর মৃত্যু হয়েছে। রাম বাহাদুর হেলিকপ্টারগুলির নিরপত্তার দায়িত্বে ছিলেন। দুর্ঘটনায় মারাত্মক জখম হয়েছেন রুদ্র বাহাদুর শ্রেষ্ঠ। এর আগে ফেব্রুয়ারি মাসে হিমালয়ের কাছে একটি কপ্টার দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয়েছিল সাতজনের।।”

 

বাংলাদেশের ঢাকা থেকে প্রকাশিত বাংলা সংবাদপত্র’ দৈনিক ইত্তেফাক’ তার অন লাইন সংস্করণে “মাদুরোকে পদত্যাগ করতে পম্পেও’র আহ্বান” শীর্ষকে একটি  খবর প্রকাশ করেছে। পত্রিকাটি লিখেছে,

ভেনিজুয়েলার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে পদত্যাগ করতে আহব্বান জানিয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও।

এছাড়া মানবিক সাহায্য প্রবেশের সুযোগ করে দিতে মাদুরোকে সীমান্ত খুলে দেয়ার আহ্বান জানান। রবিবার কুকুতায় কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্টের পাশাপাশি শরণার্থীদের সঙ্গে সাক্ষাত করেন পম্পেও।

তিনি বলেন, ‘বিভিন্ন সেতু ও সীমান্ত খুলে দিয়ে আপনি আজকেই এই সমস্যার সমাধান করতে পারেন।’

গত ২৩ জানুয়ারি ভেনিজুয়েলার প্রধান বিরোধী নেতা হুয়ান গুয়াইদো নিজেকে অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট ঘোষণা করেন। এরপর দেশটিতে চরম রাজনৈতিক সংকটের দেখা দেয়।

এছাড়া বিশ্বের ৫০টিরও বেশি দেশ ভেনিজুয়েলার বিরোধী দলীয় নেতা গুয়াইদোকে স্বীকৃতি দেয়।

মাদুরো এটাকে অবৈধ উল্লেখ করে গত ২২ ফেব্রুয়ারি ভেনিজুয়েলা ও কুকুতার মধ্যে সংযোগ স্থাপন করা চারটি সীমান্ত সেতু বন্ধ করে দেয়।”

 

বাংলাদেশের ঢাকা থেকে প্রকাশিত বাংলা সংবাদপত্র ‘ প্রথম আলো’ তার অন  লাইন সংস্করণে “জার্মানি জুড়ে বাংলা নববর্ষ” শীর্ষকে একটি  খবর প্রকাশ করেছে। পত্রিকাটি লিখেছে,

“জার্মানিতে প্রতিকূল ঠান্ডা আবহাওয়া থাকা সত্ত্বেও বাঙালির প্রাণের বৈশাখ বরণ অনুষ্ঠানে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি। তাপমাত্রা শূন্য হিমাঙ্কের কাছাকাছি থাকলেও জার্মানির বিভিন্ন বাঙালি অধ্যুষিত শহরে জাঁকজমক আয়োজনে বাংলা নববর্ষ ১৪২৬ উদ্‌যাপন করা হয়েছে।

দেশটির সবচেয়ে বড় বাংলা বর্ষবরণ অনুষ্ঠানটি হয়েছে রাজধানী বার্লিনে। সেখানে সিমেন্স সড়কের সেন্টার ফর আর্ট অ্যান্ড আরবানইজ মিলনায়তনে সহস্রাধিক প্রবাসী বাঙালি ও জার্মান নাগরিকেরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

এ দিকে কোলন শহরের ভিডারডর্ফ সড়কসংলগ্ন সবুজঘেরা বাগান বাড়িতে প্রতি বছরের মতো এবারও উদ্‌যাপিত হয়েছে বাংলা নববর্ষবরণ উৎসব। সবুজ চত্বরে উড়েছে বাংলাদেশের লাল-সবুজ পতাকা ও জার্মানির পতাকা। বাগানেই করা হয়েছিল আকর্ষণীয় মঞ্চ।

এ ছাড়া মিউনিখ, আউগসবুর্গ, স্টুটগার্ড, ফ্রাঙ্কফুর্ট, বন, কোলন, হ্যানোভার, ভলফেনবয়েটেল, হামবুর্গে নববর্ষ উৎসব উদ্‌যাপন করা হয়। এই বছরে বাংলা নববর্ষ সাপ্তাহিক ছুটির দিন রোববারে হওয়াই প্রবাসীদের ব্যাপক সমাগম হয়। নারীরা লাল শাড়ি আর পুরুষের লাল পাঞ্জাবি পরে উপস্থিত হয়েছিলেন বৈশাখীর মিলনমেলায়। সবখানেই ছিল বাঙালির ঐতিহ্যবাহী খাবার আর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। জার্মানিতে জন্ম নেওয়া দ্বিতীয় প্রজন্মের বাঙালি ছেলেমেয়েরা বড়দের সঙ্গে তাল মিলিয়ে নাচে গানে মাতিয়েছে বাংলা বর্ষবরণ অনুষ্ঠান।”