আজকের সংবাদপত্র থেকে

For Sharing

আজ পশ্চিমবঙ্গের কলকাতা এবং বাংলাদেশের ঢাকা থেকে প্রকাশিত বাংলা সংবাদপত্রগুলিতে ভিন্ন ভিন্ন বিষয়  প্রাধান্য পেয়েছে।

কলকাতা থেকে প্রকাশিত ‘আনন্দবাজার পত্রিকা’ “শ্রীলঙ্কায় বিস্ফোরণে নিহত কর্নাটকের দুই জেডিএস কর্মী, মৃত ৬ ভারতীয়” শীর্ষকে একটি খবর প্রকাশ করেছে। পত্রিকাটি লিখেছে,

“বিস্ফোরণের পর থেকেই নিখোঁজ ছিলেন। সময় যত এগোচ্ছিল, আশঙ্কাটা বাড়ছিল। অবশেষে সেই দুঃসংবাদই দিল ভারতীয় বিদেশমন্ত্রক। শ্রীলঙ্কায় ধারাবাহিক বিস্ফোরণে নিহত হয়েছেন কর্নাটকের দুই জেডিএস কর্মী। এই নিয়ে বিস্ফোরণে নিহত ভারতীয়দের সংখ্যা বেড়ে হল ৬। নিহত দুই কর্মীর পরিবারের পাশে থাকার বার্তা দিয়ে টুইট করেছেন কর্নাটকের মুখ্যমন্ত্রী কুমারস্বামী।

রবিবার শ্রীলঙ্কার কলম্বো, নেগেম্বো ও বাত্তিকালোয়া শহরে হোটেল, গির্জা, চিড়িয়াখানা মিলিয়ে মোট আটটি বিস্ফোরণ ঘটে। সেই বিস্ফোরণে নিহতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ২৯০। আহত পাঁচ শতাধিক। তার মধ্যেই রবিবার চার ভারতীয়ের মৃত্যুর খবর আসে। সোমবার সকালে বিদেশমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ টুইট করে জানান, আরও দুই ভারতীয়ের মৃত্যু হয়েছে।

সুষমা টুইটারে লিখেছেন, কলম্বোর ভারতীয় হাই কমিশন আরও দুই ভারতীয়ের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে। তাঁদের নাম কে জি হনুমানাথারায়্প্পা এবং এম রঙ্গাপ্পা। পরে জানা যায়, ওই দু’জনই কর্নাটকের জেডিএস কর্মী।

বিস্ফোরণের পরই কর্নাটকের মুখ্যমন্ত্রী কুমারস্বামী টুইট করেছিলেন, টুমকুর এবং চিকবালপুর থেকে জেডিএস কর্মীদের ৭ জনের একটি দল কলম্বোর শাংগ্রি-লা হোটেলে ছিলেন। বিস্ফোরণের পর থেকে তাঁরা নিখোঁজ। তাঁদের মধ্যে দু’জনের মৃত্যুর আশঙ্কাও প্রকাশ করেছিলেন কুমারস্বামী। সুষমার টুইটের পর সেই আশঙ্কাই সত্যি হয়।

সুষমা স্বরাজের টুইটের উল্লেখ করে এর পরই কুমারস্বামী টুইটারে লিখেছেন, ‘‘জেডিএস কর্মীদের মৃত্যুর খবরে আমি গভীর ভাবে শোকাহত।ওই দু’জনকে আমি ব্যক্তিগত ভাবে চিনতাম। ওঁদের পরিবারকে গভীর সমবেদনা জানাই। তাঁদের পাশে আছি।’’ প্রাথমিক ভাবে জানা গিয়েছে, ওই সাত জেডিএস কর্মী শ্রীলঙ্কায় বেড়াতে গিয়েছিলেন।”

 

কলকাতা থেকে প্রকাশিত ‘বর্তমান’ পত্রিকা’ “সন্দেহের তির এনটিজের দিকে” শীর্ষক খবরটি প্রকাশ করেছে। পত্রিকাটি লিখেছে,

“প্রায় তিন দশক ধরে চলা গৃহযুদ্ধে লক্ষাধিক মানুষের মৃত্যু দেখেছে শ্রীলঙ্কা। কিন্তু ২০০৯ সালে শ্রীলঙ্কা সেনার অভিযানে প্রভাকরনের মৃত্যুর পর থেকেই এলটিটিই নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ে। রবিবার ধারাবাহিক বিস্ফোরণে দুই শতাধিক মানুষের মৃত্যুর খবরে নতুন করে শিরোনামে চলে আসে এই দ্বীপরাষ্ট্রটি। হামলার পিছনে কারা, তাহলে কি ফের এলটিটিই? ঘুরপাক খেতে শুরু করে নানা প্রশ্ন। তারই মধ্যে শ্রীলঙ্কার পুলিস প্রধান দাবি করেন, সতর্কতা জারি হয়েছিল ১০ দিন আগে। বিদেশি গোয়েন্দাদের থেকে খবর মিলেছিল, বিখ্যাত চার্চগুলিতে হামলার চেষ্টা চালাচ্ছে এনটিজে। কিন্তু এনটিজে কাদের সংগঠন? শ্রীলঙ্কা পুলিস জানাচ্ছে, সংগঠনটির পুরো নাম ন্যাশনাল থোউহিথ জামাত। কট্টরপন্থী ইসলামি সংগঠন এই এনটিজে। বুদ্ধমূর্তি ভাঙচুর করে এক বছর আগে প্রথম নজরে আসে এই সংগঠনটি।

শ্রীলঙ্কায় সংখ্যালঘু তামিল ও সংখ্যাগরিষ্ট সিংহলিদের মধ্যে বিবাদ দীর্ঘদিনের। দীর্ঘ গৃহযুদ্ধ পেরিয়ে এলেও তাতে ভাটা পড়েনি। সিংহলিরা মূলত বৌদ্ধ। আর তামিলদের মধ্যে হিন্দু, মুসলিম ও খ্রিস্টানরা রয়েছেন। কিন্তু বিবাদ যে আরও গভীরে প্রবেশ করেছে, সম্প্রতি তা প্রকাশ্যে আসতে শুরু করেছিল। একটি খ্রিস্টান গোষ্ঠীর দাবি, এই সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উপর হামলার ঘটনা ক্রমেই বাড়ছে। গত বছর শ্রীলঙ্কার খ্রিস্টানদের উপর হামলা ও হুমকির ৮৬টি ঘটনা ঘটেছিল। চলতি বছরে এখনও পর্যন্ত ঘটেছে ২৬টি ঘটনা। ২০১৮ সালে মার্কিন বিদেশ দপ্তরের বক্তব্য ছিল, শ্রীলঙ্কায় ধর্মাচরণের স্থানগুলি বন্ধ করে দেওয়ার জন্য চাপ তৈরি করা হচ্ছে খ্রিস্টানদের উপর। বৌদ্ধ সন্ন্যাসীরা খ্রিস্টান ও মুসলিম ধর্মাচরণের স্থানগুলি বন্ধ করে দেওয়ার অনবরত চেষ্টা চালাচ্ছেন। হামলার মুখে পড়তে হচ্ছে মুসলিমদেরও। এমনকী মুসলিম বিরোধী দাঙ্গার কারণে শ্রীলঙ্কার সরকারকে জরুরি অবস্থা জারি করতেও হয়েছিল। কট্টরপন্থী বৌদ্ধ সংগঠনগুলির আবার দাবি, মুসলিমরা ধর্মান্তরকরণে বাধ্য করছে। পবিত্র বৌদ্ধ তীর্থস্থানগুলিকে ধ্বংস করছে। এরই মধ্যে বুদ্ধমূর্তি ধ্বংস করে এক বছর আগে নজরে চলে আসে এনটিজে। রিপোর্ট অনুযায়ী, সম্প্রতি চার্চে হামলার চক্রান্ত শুরু করে কট্টরপন্থী এই মুসলিম সংগঠনটি।”

 

বাংলাদেশের ঢাকা থেকে প্রকাশিত বাংলা সংবাদপত্র’ দৈনিক ইত্তেফাক’ তার অন লাইন সংস্করণে “নির্বাচনের আগে ক্ষমতা ছাড়বে না সুদানের মিলিটারি কাউন্সিল” শীর্ষকে একটি  খবর প্রকাশ করেছে। পত্রিকাটি লিখেছে,

নির্বাচনের আগে বেসামরিক কর্তৃপক্ষের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরের ব্যাপারে অস্বীকৃতি জানিয়েছে সুদানের মিলিটারি কাউন্সিল। ব্যাপক গণআন্দোলনের মুখে প্রেসিডেন্ট উমর আল-বশিরকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর এই কাউন্সিল এখন দেশটির অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

সুদানের আন্দোলনকারী ও বিরোধী দলগুলো একটি বেসামরিক কর্তৃপক্ষের কাছে এই ক্ষমতা হস্তান্তরের দাবি জানিয়েছে। মিলিটারি কাউন্সিল এই দাবি না মানায় এখন তাদের সঙ্গে চলমান সব আলোচনা বাতিল করেছেন তারা। মিলিটারি কাউন্সিলকে তারা বশির সরকারের ‘অবশিষ্টাংশ’ বলে আখ্যা দিয়েছে।

রাজধানী খার্তুমে হাজার বিক্ষোভকারী সেনা সদর দফতরের সামনে জড়ো হয়েছে। যেখানে তাদের একটি বেসামরিক কাউন্সিল ঘোষণা করার কথা। সেই কাউন্সিলের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের দাবিতে তারা দেশটিতে অবস্থান নিয়েছে।

দেশটির সেনাবাহিনী বলছে তারা ক্ষমতা হস্তান্তরে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং একটি সিভিল-মিলিটারি যৌথ কাউন্সিলের কথা বিবেচনা করতে রাজি আছে। এদিকে বিক্ষোভকারী আন্দোলনের একজন মুখপাত্র মোহামেদ আল-আমিন জানান, তারা মিলিটারি কাউন্সিলকে ‘বশির আমলের সম্প্রসারণ’ হিসেবেই দেখছেন। তাই বিক্ষোভের পরিমাণ আরও বাড়ানোর কথা ভাবা হচ্ছে।

এখনও বিপুল পরিমাণ মানুষ সেখানে উপস্থিত রয়েছেন এবং তারা শ্লোগান দিচ্ছেন। কিন্তু এ ধরনের বিক্ষোভকে কীভাবে আরও বড় আকারে রূপ দেয়া এবং দীর্ঘ মেয়াদে ধরে রাখা যায়; বিরোধীরা এখন সেই বিষয়টি ভাবছেন। একইসঙ্গে যদি শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে বিক্ষোভকে দমাতে চায়, তখনকার করণীয় সম্পর্কে ভাবছেন।

আন্দোলনকারীদের গত রাতেই একটি বেসামরিক কাউন্সিলের সদস্যদের নাম ঘোষণা করার কথা ছিল। যারা একটি গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকার গঠনের ব্যবস্থা করবে। তবে গত রাতে তারা সেই কাজটি করতে ব্যর্থ হয়েছে। এক্ষেত্রে অনেকে মনে করছেন, বিরোধীদের মধ্যে নীতি ও অবস্থানের ক্ষেত্রে মতানৈক্য তৈরি হয়েছে। এ অবস্থায় বিরোধীরা মিলিটারি কাউন্সিলের সঙ্গে আলোচনা বন্ধ করে বড় বিক্ষোভের ঘোষণা এলো।

মিলিটারি কাউন্সিল ইতোমধ্যে দেশে কিছুটা স্থিতিশীল অবস্থা ফেরাতে সক্ষম হয়েছেন। বিশেষ করে তারা সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সৌদি আরব থেকে তিন বিলিয়ন ডলার অর্থ পাওয়ার পর এখন বেশ শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছেন। বেসামরিক কর্তৃপক্ষের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে মিলিটারি কাউন্সিলের অস্বীকৃতিকে সন্দেহজনক হিসেবে দেখছে বিরোধীরা।

উল্লেখ্য, অর্থনৈতিক সংকট ও মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে গত ডিসেম্বর থেকে বিক্ষোভ শুরু করে। এই বিক্ষোভের মধ্যে গত ১১ এপ্রিল ওমর আল বশিরকে ক্ষমতাচ্যুত করার কথা জানায় সেনাবাহিনী। বশিরের স্থলে মিলিটারি কাউন্সিলের মাধ্যমে নির্বাচনের পূর্ব পর্যন্ত দেশ পরিচালনার ঘোষণা দেয় তারা।”

 

বাংলাদেশের ঢাকা থেকে প্রকাশিত বাংলা সংবাদপত্র ‘কালের কণ্ঠ’ তার অন  লাইন সংস্করণে “হামলা চালায় সাত আত্মঘাতী” শীর্ষকে একটি  খবর প্রকাশ করেছে। পত্রিকাটি লিখেছে,
“শ্রীলঙ্কায় অন্তত সাত আত্মঘাতী সিরিজ বোমা হামলা চালায় বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা অ্যাসোসিয়েট প্রেস (এপি)। সূত্র জানায়, গতকাল স্থানীয় সময় সকাল ৮টা ৪৫ মিনিটে কলম্বো থেকে ২০ মাইল উত্তরের শহর নেগোম্বোতে অবস্থিত সেন্ট সেবাস্তিয়ান চার্চে প্রথম হামলাটি চালানো হয়। এরপর কলম্বোর সিনামন গ্র্যান্ড, সাংরি-লা এবং কিংসবারি হোটেল এবং  কলম্বোর বাইরের আরো দুটি চার্চে বোমা বিস্ফোরণ ঘটানো হয়।

হামলায় এ পর্যন্ত ২৪ জনকে আটক করা হয়েছে।

পুলিশের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, শ্রীলঙ্কার আট  বোমা বিস্ফোরণে এ পর্যন্ত নিহত হয়েছে ২৯০ জন। এতে ৫০০ জন আহত হয়েছে।

বিবৃতিতে আরো বলা হয়, রবিবার (২১ এপ্রিল) ইস্টার সানডেতে  শ্রীলঙ্কায় সিরিজ বোমা হামলা চালানো হয়। প্রথম ছয়টি বিস্ফোরণ ঘটে রাজধানী কলম্বো এবং দুই শহরতলী নেগোম্বো ও বটিকলিয়ার তিন গির্জা এবং তিন হোটেলে। এ ছাড়া অন্য দুই শহরতলী দেহিওয়ালা এবং দিমাটাগোদায় ঘটে আরো দুই বোমা বিস্ফোরণ।

এ ছাড়া বন্দরানায়েক আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছে একটি উন্নতমানের বিস্ফোরক যন্ত্র উদ্ধার করা হয়। এসব হামলার প্রধান লক্ষ্য ছিল সেখানকার খ্রিষ্টান সম্প্রদায়।”