আজকের সংবাদপত্র থেকে

For Sharing

আজ পশ্চিমবঙ্গের কলকাতা এবং বাংলাদেশের ঢাকা থেকে প্রকাশিত বাংলা সংবাদপত্রগুলিতে ভিন্ন ভিন্ন বিষয়  প্রাধান্য পেয়েছে।

কলকাতা থেকে প্রকাশিত ‘আনন্দবাজার পত্রিকা’ ““আন্তর্জাতিক সম্মেলনের মুখে মাসুদ আজহারের ফাইল বেজিংয়ের হাতে তুলে দিল দিল্লি” শীর্ষকে একটি খবর প্রকাশ করেছে। পত্রিকাটি লিখেছে,

“যাদের পর পর তিন বারের বাধায় মাসুদ আজহারের মতো কট্টর জঙ্গিকে রাষ্ট্রপুঞ্জের নিরাপত্তা পরিষদ ‘আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদী’র তকমা লাগাতে পারেনি, সেই চিনের হাতে ভারত এ বার সংশ্লিষ্ট যাবতীয় তথ্যপ্রমাণ তুলে দিল। বেজিংয়ের স্বপ্নের প্রকল্প ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ (বিআরআই)’ নিয়ে আন্তর্জাতিক সম্মলনের ঠিক প্রাক-মুহূর্তে।

ভারতের বিদেশ সচিব বিজয় গোখেল সোমবার বলেন, “জইশ-ই-মহম্মদের চালানো সন্ত্রাসের খুঁটিনাটি ও মাসুদ আজহারের বিষয়ে আমরা যা যা জানতে পেরেছি, সেই সব তথ্যই বেজিংকে দিয়েছি।” বিজয় মঙ্গলবার দেখাও করেছেন চিনের বিদেশ সচিবের সঙ্গে। দিল্লিতে বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্রও একই কথা জানিয়ে বলেছেন, “এ বার মাসুদকে আন্তর্জাতিক জঙ্গির তকমা দেওয়া হবে কি না, সে সিদ্ধান্ত নেবে রাষ্ট্রপুঞ্জের নিরাপত্তা পরিষদের ১২৬৭ নিষেধাজ্ঞা কমিটি। যা নির্ভর করছে নিরাপত্তা পরিষদের সবক’টি দেশের সম্মতির উপর।”

মাসুদকে রাষ্ট্রপুঞ্জের ‘আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদী’ আখ্যা দেওয়ার প্রয়াসে বার বার বাধা দিয়ে বেজিং যে দ্বিপাক্ষিক সমঝোতার শর্তকেই লঙ্ঘন করছে, পরোক্ষে তা মনে করিয়ে দিয়ে চিনের বিদেশসচিবের সঙ্গে এ দিন বৈঠকের শুরুতেই গোখলে  বলেন, “আমরা দু’দেশ পারস্পরিক সহযোগিতায় কাজ করব, যাতে দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক মজবুত হয় ও দুই দেশের স্পর্শকাতর বিষয়গুলি গুরুত্ব পায়।”

আগামী ২৫ থেকে ২৭ এপ্রিল, ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড’ ফোরামের আন্তর্জাতিক সম্মেলন হতে চলেছে বেজিংয়ে। সেখানে ৪০ জন রাষ্ট্রপ্রধানের মুখোমুখি হবেন চিনা প্রেসিডেন্ট শি চিনফিং। মাসুদ আজহারকে ‘আন্তর্জাতিক জঙ্গি’ তকমা দেওয়ার প্রস্তাবে বার বার ভেটো দিয়ে রাষ্ট্রপুঞ্জে বহু দেশের বিরাগভাজন হয়েছে চিন। সেই তালিকায় ভারত তো বটেই, রয়েছে আমেরিকা, ফ্রান্সও। দেশের সবচেয়ে বড় সম্মেলনের আগে তাই মুখরক্ষার দায়টা এখন বেজিংয়েরই!”

 

কলকাতা থেকে প্রকাশিত ‘বর্তমান’ পত্রিকা’ “শ্রীলঙ্কা বিস্ফোরণের তদন্তে উঠে আসছে গোয়েন্দা ব্যর্থতার প্রসঙ্গ” শীর্ষক খবরটি ছেপেছে। পত্রিকাটি লিখেছে,

“ধারাবাহিক বিস্ফোরণে রক্তাক্ত শ্রীলঙ্কা। পুলিস, প্রশাসন ও গোয়েন্দাদের নজর এড়িয়ে কীভাবে একের পর এক বিস্ফোরণ ঘটানো সম্ভব হল, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন তুলেছে বিভিন্ন মহল। হামলার তদন্তে নেমেছে পুলিস। হামলার আগাম কোনও আভাস না পাওয়ার জন্য প্রাথমিকভাবে গোয়েন্দা ব্যর্থতাকেই তুলে ধরা হচ্ছে। ধারাবাহিক বিস্ফোরণের পরেই শ্রীলঙ্কার পুলিশ প্রধান পুজুথ জয়সুন্দরের দাবি করেন, হামলার আশঙ্কায় ১০ দিন আগেই দেশজুড়ে সতর্কতা জারি করা হয়েছিল। তিনি জানিয়েছেন, দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ গির্জা, এমনকী কলম্বোয় ভারতীয় হাই কমিশনে আত্মঘাতী হামলার ছক কষা হচ্ছে বলে একটি বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার কাছ থেকে খবর মিলেছিল। এবিষয়ে পুলিসের শীর্ষ কর্তাদের গত ১১ এপ্রিল সতর্ক করে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তারপরও হামলা রোখা যায়নি।
এই হামলার পরিপ্রেক্ষিতে শ্রীলঙ্কা সরকারের দু’জন মন্ত্রীও গোয়েন্দা ব্যর্থতা নিয়ে সরব হয়েছেন। টেলিকমমন্ত্রী হারিন ফার্নান্দো ট্যুইটে লেখেন, ‘কয়েকজন গোয়েন্দাকর্তার কাছে হামলা হতে পারে বলে খবর ছিল। কিন্তু তারপরও যথাযথ ব্যবস্থা নিতে দেরি হয়। যাঁরা এই সতর্কবার্তা অগ্রাহ্য করেছিলেন, তাঁদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।’ হারিন ফার্নান্দো আরও জানিয়েছেন, ইস্টারের মধ্যে হামলার সম্ভাবনার কথা জানতেন তাঁর বাবাও। কোনও গির্জায় না যাওয়ার জন্য হারিনকে সতর্কও করেছিলেন তিনি। সেচ দপ্তরের মন্ত্রী মানো গণেশন জানান, রাজনীতিবিদদের লক্ষ্য করে দু’টি আত্মঘাতী হামলার সম্ভাবনার বিষয়ে তাঁর দপ্তরের নিরাপত্তা আধিকারিকরা সতর্ক করেছিলেন। ইস্টার রবিবারের সকালে বিস্ফোরণের পরেই হামলার পিছনে জঙ্গিযোগের সম্ভাবনার কথা বলেছিলেন শ্রীলঙ্কার প্রতিরক্ষামন্ত্রীও। কিন্তু এখনও পর্যন্ত কোনও সংগঠন এই হামলার দায় স্বীকার করেনি।
এদিকে, বিস্ফোরণের ঘটনার তদন্তে শ্রীলঙ্কা প্রশাসনকে সাহায্য করতে চেয়ে বার্তা পাঠিয়েছে ইন্টারপোল। সংস্থার সেক্রেটারি জেনারেল জার্গেন স্টক এক ট্যুইটে লেখেন, ‘ইন্টারপোল এই হামলার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছে। শ্রীলঙ্কা সরকারের তরফে যে তদন্ত চালানো হচ্ছে, তাতে সাহায্য করতেও তৈরি ইন্টারপোল।’ বিস্ফোরণে হতদের পরিবারবর্গকে সমবেদনা জানানোর পাশাপাশি তিনি আরও বলেন, কোনও সদস্য রাষ্ট্রের আবেদনের ভিত্তিতে তদন্তে সহায়তার জন্য ইন্সিডেন্ট রেসপন্স টিমও পাঠাতে পারে ইন্টারপোল।”

 

বাংলাদেশের ঢাকা থেকে প্রকাশিত বাংলা সংবাদপত্র’ দৈনিক ইত্তেফাক’ তার অন লাইন সংস্করণে “ক্রাইস্টচার্চের বদলা নিতেই শ্রীলঙ্কায় হামলা” শীর্ষকে একটি  খবর প্রকাশ করেছে। পত্রিকাটি লিখেছে,

নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে মুসলিমদের ওপর হামলার বদলা নিতেই শ্রীলঙ্কায় হামলা হয়েছে বলে দাবি করেছেন লঙ্কান প্রতিরক্ষামন্ত্রী রুয়ান বিজয়বর্ধনে। শ্রীলঙ্কার সংসদে তিনি বলেন, এ বিষয়ে তার কাছে তথ্য-প্রমাণ রয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, তদন্তে কর্মকর্তারা প্রমাণ পেয়েছেন, কয়েক মাস আগে নিউজিল্যান্ডের মসজিদে যে হামলা হয়েছিল তার বদলা নিতেই এই হামলা হয়েছে।

রবিবার একের পর এক বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে শ্রীলঙ্কার রাজধানী কলম্বো।প্রাণ গিয়েছে প্রায় তিন শতাধিক মানুষ। মঙ্গলবার জাতীয় শোক দিবস পালন করে ভারত মহাসাগরের এই দ্বীপরাষ্ট্র।

তিন মিনিটের জন্য নীরবতা পালন করে গোটা দেশ। গত রবিবার সকাল সাড়ে আটটার সময়ে হামলা হয়েছিল। নীরবতা পালনের পাশাপাশি বিভিন্ন সরকারি দপ্তরেও জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত অবস্থায় রাখা হয়।

নীরবতা পালনের কিছুটা পরেই শ্রীলঙ্কা পুলিশের মুখপাত্র বলেন, মৃতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৩১০ জন। বিস্ফোরণে আহত হওয়ার অনেকেই হাসপাতালে ভর্তি হন। পরে তাঁদের মধ্যে কয়েকজনের মৃত্যু হয়েছে।

হামলায় নিহত কয়েকজন বিদেশি নাগরিকের শেষকৃত্য আজ সম্পন্ন হয়েছে। পাশাপাশি সোমবার রাত থেকেই গোটা দেশে জরুরি অবস্থা জারি হয়েছে। হামলার কারণের পাশাপাশি প্রশাসনের অনুমান জঙ্গি সংগঠন আইএস এর একটি সহযোগী সংগঠন এই হামলা চালিয়েছে।”

 

বাংলাদেশের ঢাকা থেকে প্রকাশিত বাংলা সংবাদপত্র ‘কালের কণ্ঠ’ তার অন  লাইন সংস্করণে “পুলিৎজারপ্রাপ্ত রয়টার্সের দুই সাংবাদিকের সাজা বহাল” শীর্ষকে একটি  খবর প্রকাশ করেছে। পত্রিকাটি লিখেছে,

“মিয়ানমারে কারাবন্দী রয়টার্সের দুই সাংবাদিকের সাজার বিরুদ্ধে করা আপিল খারিজ করে দিয়েছে দেশটির সর্বোচ্চ আদালত।

তাদের সাত বছরের সাজা বহাল রেখেছে দেশটির আদালত। মঙ্গলবার আপিল খারিজ হয়ে গেছে।

রোহিঙ্গা নিপীড়ন নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করায় তাদের আটক করে মিয়ানমার।

রয়াটার্সের ওই সাংবাদিকের নাম ওয়া লোন (৩২) ও কিয়াও সো ও (২৮)। তারা চলতি সম্প্রতি সাংবাদিকতার সর্বোচ্চ পুরস্কার পুলিৎজার পান।

রাষ্ট্রীয় গোপন নথি ফাঁসের অভিযোগ এনে ২০১৭ সালের ১২ ডিসেম্বর ওয়া লোন এবং কিয়াও সো ওকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তবে সে অভিযোগ তারা অস্বীকার করে আসছে।

আন্তর্জাতিক মানবাধিকার বিষয়ক বিভিন্ন সংগঠন, গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় কাজ করা সংগঠনগুলো, জাতিসংঘ এবং যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশের সরকার প্রধান ওই সাংবাদিকদ্বয়ের গ্রেপ্তারের প্রতিবাদ জানিয়েছে।”