আজকের সংবাদপত্র থেকে

For Sharing

আজ পশ্চিমবঙ্গের কলকাতা এবং বাংলাদেশের ঢাকা থেকে প্রকাশিত বাংলা সংবাদপত্রগুলিতে ভিন্ন ভিন্ন বিষয়  প্রাধান্য পেয়েছে।

কলকাতা থেকে প্রকাশিত ‘আনন্দবাজার পত্রিকা’ “গির্জায় হামলা হতে পারে, বিস্ফোরণের দু’ঘণ্টা আগেই শ্রীলঙ্কাকে সতর্ক করেছিল ভারত” শীর্ষকে একটি খবর প্রকাশ করেছে। পত্রিকাটি লিখেছে, 

 

“বিস্ফোরণের দু’ঘণ্টা আগেই শ্রীলঙ্কাকে সতর্কবার্তা পাঠিয়েছিল ভারত। কিন্তু গুরুত্ব না দেওয়াতেই দ্বীপ রাষ্ট্রের অন্যতম বড় জঙ্গি হামলার ঘটনা ধটে গিয়েছে। এ কথা স্বীকার করে নিয়েছেন খোদ শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রী রনিল বিক্রমসিঙ্ঘে। শুধু তাই নয়, নির্দিষ্ট করে গির্জায় বিস্ফোরণ হতে পারে, এমন বার্তাও দিয়েছিল ভারত।

রবিবার রাজধানী কলম্বো-সহ আরও দু’টি শহরে গির্জা ও হোটেলে মোট আটটি বিস্ফোরণ ঘটে। এই ধারাবাহিক বিস্ফোরণে মৃতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৩৫৯। তার মধ্যে অন্তত ১০ জন ভারতীয়ও রয়েছেন। মঙ্গলবারই এই হামলার দায় স্বীকার করেছে আইএস জঙ্গি গোষ্ঠী। তার পরের দিনই শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রীর এই স্বীকারোক্তি।

শ্রীলঙ্কার প্রতিরক্ষা এবং ভারতীয় গোয়েন্দা দফতরের পদস্থ দুই কর্তাকে উদ্ধৃত করে সংবাদ সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, প্রথম বিস্ফোরণের দু’ঘণ্টা আগেই ভারতীয় গোয়েন্দারা শ্রীলঙ্কার প্রতিরক্ষা দফতরের  সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। ভারতীয় গোয়েন্দারা নির্দিষ্ট করে বলেন, গির্জায় বিস্ফোরণের মতো হামলা হতে পারে। হামলাকারীরা শ্রীলঙ্কার সাধারণ মানুষ এবং বিদেশিদের সঙ্গে মিশে রয়েছে বলেও সাবধানবাণী দেওয়া হয় শ্রীলঙ্কাকে।

কিন্তু ভারতের এই বার্তাকে যে শ্রীলঙ্কা গুরুত্ব দেয়নি, তা প্রধানমন্ত্রী বিক্রমসিঙ্ঘের কথাতেই তা স্পষ্ট। ভারতের একটি বেসরকারি টিভি চ্যানেলে তিনি বলেছেন, ‘‘ভারত আমাদের হামলার সম্পর্কে সতর্ক করে বার্তা দিয়েছিল। কিন্তু কোথাও না কোথাও কোনও গাফিলতি ছিল আমাদের। যে কারণে সেই তথ্য নিচু স্তরের আধিকারিকদের কাছে সেই বার্তা পৌঁছনো যায়নি এবং আগাম সতর্কতা নেওয়া যায়নি।’’ তিনি আরও বলেন, ‘‘ভারতের সঙ্গে আমাদের গোয়েন্দা তথ্য আদান প্রদানের সুসম্পর্ক রয়েছে। যখনই কোনও প্রয়োজন হয়, নয়াদিল্লি আমাদের সাহায্য করে। সেই কারণেই জঙ্গিদের পিছনে বিদেশি কোনও জঙ্গিগোষ্ঠী বা অন্য কোনও মদত রয়েছে কিনা, তা খতিয়ে দেখতে বিভিন্ন দেশের গোয়েন্দাদের সাহায্য নিচ্ছি আমরা।’’

কিন্তু জঙ্গিরা এখনও দেশে রয়েছে কিনা, থাকলে কোথায় রয়েছে, তা নিয়ে প্রচণ্ড উদ্বিগ্ন শ্রীলঙ্কা সরকার। অন্য দিকে মঙ্গলবারই উঠে আসে, ক্রাইস্ট চার্চে মসজিদে হামলার প্রতিশোধ নিতেই শ্রীলঙ্কায় হামলা হয়েছে। তবে সেই সম্ভাবনা উড়িয়ে দিয়ে বিক্রমসিঙ্ঘে বলেন, ক্রাইস্টচার্চে হামলার আগেই শ্রীলঙ্কার এই বিস্ফোরণের পরিকল্পনা করা হয়েছিল।

 

কলকাতা থেকে প্রকাশিত ‘বর্তমান’ পত্রিকা’ “বিস্ফোরণের জেরে ধাক্কা খাবে শ্রীলঙ্কার পর্যটন ব্যবসা, চিন্তায় সরকার থেকে হোটেল মালিকরা” শীর্ষক খবরটি ছেপেছে। পত্রিকাটি লিখেছে,

“শ্রীলঙ্কায় সাম্প্রতিক হামলার প্রভাব পড়তে চলেছে পর্যটনেও। মঙ্গলবার এমনই আশঙ্কাপ্রকাশ করেন পর্যটন দপ্তরের এক আধিকারিক। শ্রীলঙ্কার অর্থনীতির একটা বড় অংশই পর্যটন নির্ভর। এই বিস্ফোরণকাণ্ডের পর এই ক্ষেত্রে বড়সড় ধাক্কা আসতে চলেছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
জানা গিয়েছে, গত রবিবার তিনটি গির্জার পাশাপাশি হামলার শিকার হয় কলম্বোর সাংগ্রি-লা, সিন্নামোন গ্র্যান্ড ও কিংসবেরির মতো পাঁচতারা হোটেলও। ধারাবাহিক বিস্ফোরণে হত ৩২১ জনের মধ্যে রয়েছেন ১০ জন ভারতীয় সহ মোট ৩৮ জন বিদেশি নাগরিক। হামলায় জখমদের মধ্যেও রয়েছেন বহু বিদেশি। হামলার এই আতঙ্ক কাটিয়ে শ্রীলঙ্কায় পর্যটকরা আসতে কতটা আগ্রহী হবেন, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকেই। গত বছর শুধুমাত্র ভারত থেকেই প্রায় ৪ লক্ষ ৫০ হাজার পর্যটক শ্রীলঙ্কায় গিয়েছিলেন। এবছর সেই সংখ্যাটি ১০ লক্ষ ছাপিয়ে যাবে বলে মনে করা হচ্ছিল। কিন্তু এই বিস্ফোরণকাণ্ডের পর পরিস্থিতি কোন দিকে গড়াবে, তা নিয়ে চিন্তিত পর্যটন ব্যবসার সঙ্গে জড়িতরা।
শ্রীলঙ্কার পর্যটন উন্নয়ন পর্ষদের চেয়ারম্যান কিশু গোমস জানিয়েছেন, হামলার পর থেকেই শ্রীলঙ্কা ছেড়ে দেশে ফেরার জন্য মরিয়া পর্যটকরা। এখনও পর্যন্ত সঠিক কোনও সংখ্যা জানা না গেলেও অন্তত কয়েক হাজার পর্যটক দ্বীপরাষ্ট্র ছাড়তে মরিয়া বলে খবর। অন্যদিকে, শ্রীলঙ্কায় আসার জন্য যে সমস্ত পর্যটকরা বিভিন্ন উড়ান সংস্থায় টিকিট বুক করেছিলেন, এখন তাঁরাও আতঙ্কের কারণে টিকিট বাতিল করছেন বলে জানা গিয়েছে। পাশাপাশি, বহু হোটেলের প্রি-বুকিংও বাতিল করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন পর্যটন ব্যবসায়ীরা। যদিও পর্যটকদের আশ্বস্ত করে পর্যটনমন্ত্রী জন অমরাতুঙ্গা জানিয়েছেন, সাধারণ মানুষ ও পর্যটকদের নিরাপদে রাখতে সমস্ত ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে শ্রীলঙ্কা সরকার। কিন্তু তারপরও আতঙ্ক পুরোপুরি কাটেনি। এর মধ্যেই দ্বীপরাষ্ট্রে যেতে আগ্রহী পর্যটকদের জন্য সতর্কবার্তা জারি করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা। এই সময়ে যে সমস্ত পর্যটক শ্রীলঙ্কায় যেতে আগ্রহী, তাঁদের অত্যন্ত সতর্কতা অবলম্বন করার জন্য বার্তা দিয়েছে দুই দেশের সরকার। পর্যটকদের সুরক্ষার জন্য ইতিমধ্যেই গ্যালে ফেস হোটেল, রামাডা, তাজ সমুদ্রার মতো বিলাসবহুল হোটেলগুলি অতিরিক্ত নিরাপত্তার ব্যবস্থা করছে। কিন্তু তারপরও বহু পর্যটক বুকিং বাতিল করেছেন বলে জানিয়েছ মাউন্ট লাভিনিয়া এবং গ্যালে ফেস হোটেলের আধিকারিকরা।
ইস্টার রবিবারের ধারাবাহিক আত্মঘাতী হামলায় রক্তাক্ত হয়েছে কলম্বোর অন্যতম নামজাদা বিলাসবহুল হোটেল সাংগ্রি-লা। এরপরেই সাময়িকভাবে হোটেল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। মঙ্গলবার সাংগ্রি-লা হোটেলের জনসংযোগ বিভাগের ডিরেক্টর মাহিকা চন্দ্রসেনা বলেন, ‘পরবর্তী নোটিস না দেওয়া পর্যন্ত হোটেল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’ প্রসঙ্গত, এলটিটিইর সঙ্গে তিন দশক দীর্ঘ গৃহযুদ্ধের সময় কখনও পর্যটকদের উপর হামলা চালানো হয়নি। কিন্তু এবারের ধারাবাহিক বিস্ফোরণের ঘটনায় প্রচুর সংখ্যক পর্যটকের মৃত্যু এই শিল্পের পথে বড় বাধা হয়ে পড়বে বলে আশঙ্কাপ্রকাশ করেছেন হোটেল ব্যবসায়ীরা।”

 

বাংলাদেশের ঢাকা থেকে প্রকাশিত বাংলা সংবাদপত্র’ দৈনিক ইত্তেফাক’ তার অন লাইন সংস্করণে “ব্যক্তিগত ট্রেনযোগে রাশিয়ায় পৌঁছলেন কিম” শীর্ষকে একটি  খবর প্রকাশ করেছে। পত্রিকাটি লিখেছে,

“রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে প্রথমবারের মত বৈঠক করতে রাশিয়ায় পৌঁছেছেন উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন। রাশিয়ার দৈনিক একটি পত্রিকা এ তথ্য জানিয়েছে।

বুধবার ব্যক্তিগত ট্রেনযোগে কিম দেশটির শীর্ষ নেতা, সামরিক বাহিনীসহ রাশিয়ার উদ্দেশ্যে রওনা দেন।

রাশিয়ার উপকূলবর্তী শহর ভ্লাদিভস্তকে বৃহস্পতিবার পুতিন-কিম বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। কিম-পুতিন বৈঠকের মূল বিষয় হিসেবে ‘পারমাণবিক সমস্যা’ প্রাধান্য পাবে বলে খবরে বলা হয়েছে।

উত্তর কোরিয়ার ওপর আরোপিত মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার নিয়ে মতবিরোধে ফেব্রুয়ারিতে ভিয়েতনামের হ্যানয়ে ওয়াশিংটন-পিয়ংইয়ং দ্বিতীয় শীর্ষ বৈঠক ভেস্তে যাওয়ার পর কিম-পুতিনের এ বৈঠক হতে যাচ্ছে।”

 

বাংলাদেশের ঢাকা থেকে প্রকাশিত বাংলা সংবাদপত্র ‘যুগান্তর’ তার অন  লাইন সংস্করণে “সৌদিতে মঙ্গলবার ৩৭ জনের শিরশ্ছেদ করা হয়” শীর্ষকে একটি  খবর প্রকাশ করেছে। পত্রিকাটি লিখেছে,
“সন্ত্রাসবাদী হামলায় জড়িত থাকার অভিযোগে সৌদি আরবে গত মঙ্গলবার ৩৭ জনের শিরশ্ছেদ করা হয়েছে।

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদ ছাড়াও মক্কা ও মদিনা, মধ্যাঞ্চলীয় কাসিম ও সংখ্যালঘু শিয়া অধ্যুষিত পূর্বাঞ্চলীয় একটি প্রদেশে অভিযুক্তদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। খবর আরব নিউজের।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ৩৭ জনের মধ্যে ৩৪ জনই শিয়া সম্প্রদায়ের বলে জানিয়েছেন সৌদির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। সাজাপ্রাপ্তদের মধ্যে দুজনকে শিরশ্ছেদের পর ক্রুসবিদ্ধ করা হয়।

উল্লেখ্য, অতিরক্ষণশীল সৌদি আরবে সাধারণত মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তদের শিরশ্ছেদ করা হয়। সৌদি সরকারি পরিসংখ্যান অনুসারে, এ বছরের শুরু থেকে এখনও পর্যন্ত সৌদি আরবে কমপক্ষে ১০০ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের তথ্য অনুযায়ী গত বছর এ সংখ্যা ছিল ১৪৯।

২০১৬ সালের পর একদিনে এত শিরশ্ছেদের ঘটনা ঘটেনি। ওই বছর ২ জানুয়ারি ৪৭ জনের শিরশ্ছেদ করা হয়েছিল।”