আজকের সংবাদপত্র থেকে

For Sharing

আজ পশ্চিমবঙ্গের কলকাতা এবং বাংলাদেশের ঢাকা থেকে প্রকাশিত বাংলা সংবাদপত্রগুলিতে ভিন্ন ভিন্ন বিষয়  প্রাধান্য পেয়েছে।

কলকাতা থেকে প্রকাশিত ‘আনন্দবাজার পত্রিকা’ “ফের বিস্ফোরণে নতুন করে আতঙ্ক ছড়াল শ্রীলঙ্কায়, হতাহতের খবর নেই” শীর্ষকে একটি খবর প্রকাশ করেছে। পত্রিকাটি লিখেছে, 

“ফের বিস্ফোরণ ঘটল কলম্বোর পূর্ব দিকের একটি শহরে। রবিবারের মতো দূর নিয়ন্ত্রিত বিস্ফোরণ এটি নয়। এই বিস্ফোরণে হতাহতের কোনও খবর নেই। বিস্ফোরণের পরই পুলিশ এলাকার দখল নিয়েছে। তবে এই ঘটনায় নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়েছে দ্বীপরাষ্ট্রে ।

পুলিশের মুখপাত্র জানিয়েছেন, কলম্বো থেকে ৪০ কিলোমিটার দূরে পুগুদায় ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টের পিছনে একটি ফাঁকা জায়গায় বিস্ফোরণটি হয়েছে। তদন্ত চলছে। তবে প্রাথমিক ভাবে মনে করা হচ্ছে, রবিবারের বিস্ফোরণগুলির মতো এটি নিয়ন্ত্রিত বিস্ফোরণ নয়।

রবিবারের বিস্ফোরণের পর থেকেই হাই অ্যালার্টে রয়েছে শ্রীলঙ্কা। এখনও পর্যন্ত বিস্ফোরণে ৩৫৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত আরও প্রায় ৫০০ জন। রবিবারের বিস্ফোরণের পরও একাধিক জায়গায় বিস্ফোরক খুঁজে পাওয়া গিয়েছে।

 

কলকাতা থেকে প্রকাশিত ‘বর্তমান’ পত্রিকা’ “শ্রীলঙ্কায় ধারাবাহিক হামলার তদন্তে উঠে এল এক কট্টরপন্থী মৌলবীর নাম” শীর্ষক খবরটি ছেপেছে। পত্রিকাটি লিখেছে,

“ জাহরান হাসিম। ইস্টার রবিবারে শ্রীলঙ্কায় ঘটে যাওয়া ধারাবাহিক বিস্ফোরণে অন্যতম মূল চক্রী হিসেবে উঠে এসেছে এই বিতর্কিত মৌলবীর নাম। সাম্প্রতিক হামলায় তার নাম উঠলেও গত কয়েক বছর ধরেই এই মৌলবীর বিরুদ্ধে সরব হয়েছে শ্রীলঙ্কার মুসলিম সম্প্রদায়। এমনকী, সরকারকে তার কার্যকলাপ নিয়েও সতর্ক করা হয়েছিল বলেও দাবি করেছেন মুসলিম সম্প্রদায়ের একাংশ।
গত মঙ্গলবার হামলার দায় স্বীকার করে বিবৃতি দেয় জঙ্গিগোষ্ঠী আইএস। নিজেদের দাবির সপক্ষে একটি ভিডিও প্রকাশ করে আইএস। ভিডিওটিতে কালো জোব্বা পরিহিত আটজনকে দেখা যায়। সেখানেই কাঁধে রাইফেল নিয়ে জাহরান হাসিমকে দেখা যায়। বিতর্কিত এই মৌলবী বাদে অপর সাতজনের মুখই সাদা-কালো চেক স্কার্ফ দিয়ে ঢাকা ছিল। রবিবারের এই হামলার জন্য নাম না করে হাসিমের দিকেই আঙুল তুলেছে শ্রীলঙ্কা সরকার। পাশাপাশি, ধারাবাহিক এই বিস্ফোরণের জন্য দায়ী করা হয়েছে স্থানীয় এক কট্টরপন্থী মুসলিম সংগঠন ন্যাশনাল থোউহিথ জামাতকে (এনটিজে)। বিস্ফোরণের তদন্তে নেমে বিভিন্ন অসমর্থিত সূত্রে হাসিমের নাম জানতে পারেন গোয়েন্দারা। এরপরে আইএসের ভিডিওটি প্রকাশ্যে আসতেই স্পষ্ট হয়ে যায়, এই হামলার পিছনে মূল চক্রী শ্রীলঙ্কার এই মৌলবীই।
জানা গিয়েছে, ফেসবুক, ইউটিউব সহ বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়ায় জাহরান হাসিমের কয়েক হাজার তরুণ ফলোয়ার রয়েছে। শ্রীলঙ্কার মুসলিম কাউন্সিলের সহ-সভাপতি হিলমি আহমেদ জানিয়েছেন, তিন বছর আগে জাহরান হাসিমের কার্যকলাপ নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে তিনি স্থানীয় প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। অভিযোগ, কোরান ক্লাসের আড়ালে তরুণ সম্প্রদায়কে জেহাদি পাঠ দিতেন হাসিম। কিন্তু এই গোষ্ঠী এত বড় একটি হামলা চালাতে পারে, তা ঘুণাক্ষরেও কেউ বুঝতে পারেননি। তিনি আরও জানান, প্রায় ৪০ বছর বয়সি এই ব্যক্তি মহম্মদ জাহরান এবং মৌলবী হাসিম নামেও পরিচিত। বাত্তিকালোয়ার এক মধ্যবিত্ত মুসলিম পরিবারের সন্তান হাসিম কাট্টানকুড়ের ইসলামিক কলেজের ছাত্র ছিল। কিন্তু মাঝপথেই পড়া ছেড়ে দেয় সে। স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায়ের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরেই বিরোধ ছিল এই মৌলবীর। সেই কারণেই ২০১৪ সালে এনটিজে তৈরি করে হাসিম। ভারত সহ বিভিন্ন দেশে হাসিমের যোগাযোগ রয়েছে বলেও দাবি করেন হিলমি আহমেদ। যদিও গোয়েন্দা সূত্রে খবর, আত্মঘাতী হামলাকারীদের মধ্যে হাসিম রয়েছে কি না, সেই বিষয়ে কোনও প্রমাণ মেলেনি। ডিএনএ টেস্ট ছাড়া এই সম্পর্কে নিশ্চিত করে কিছু বলা সম্ভব নয় বলেও জানিয়েছেন গোয়েন্দাকর্তারা।”

 

বাংলাদেশের ঢাকা থেকে প্রকাশিত বাংলা সংবাদপত্র’ দৈনিক ইত্তেফাক’ তার অন লাইন সংস্করণে প্রথমবারের মতো কিম-পুতিন বৈঠক” শীর্ষকে একটি  খবর প্রকাশ করেছে। পত্রিকাটি লিখেছে,

“প্রথমবারের মতো রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠকে বসেছেন উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উন। বৃহস্পতিবার রাশিয়ার পূর্বাঞ্চলীয় শহর ভ্লাদিভস্তকে এই শীর্ষ দুই নেতা বৈঠকে বসেন। এই দুই নেতার বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক আরও ভালো হবে বলে আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা বিবিসির একটি প্রতিবেদনে জানানো হয়।

বৈঠকে কোরিয়া উপ-দ্বীপের ‘পারমাণবিক সমস্যা’ নিয়ে আলোভনার কথা রয়েছে। বৈঠকে এই ইস্যুর রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সমাধানের বিষয়টি গুরুত্ব পাবে। তবে বিবিসির একটি প্রতিবেদনে বলা হয়, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত দুই দফা বৈঠক ব্যর্থ হওয়ায় ক্ষমতাধর কোনো দেশের সমর্থন পাওয়ার লক্ষ্যেই কিমের এই রাশিয়া যাত্রা।

এ বিষয়ে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিনের পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক উপদেষ্টা জুরি উশাকোভ জানান, ‘সম্প্রতি কয়েক মাস ধরে কোরীয় উপদ্বীপের পরিস্থিতি কিছুটা স্থিতিশীল রয়েছে। এই পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী করতে রাশিয়া যেকোনো ভাবে সাহায্য করতে ইচ্ছুক’।”

 

বাংলাদেশের ঢাকা থেকে প্রকাশিত বাংলা সংবাদপত্র ‘ কালের কন্ঠ’ তার অন  লাইন সংস্করণে “চীনের ‘টপ সিক্রেট’ মিসাইলের তথ্য ফাঁস” শীর্ষকে একটি  খবর প্রকাশ করেছে। পত্রিকাটি লিখেছে,

“চীনের সর্বাধুনিক ‘টপ সিক্রেট’ অস্ত্রের খবর ফাঁস হলো ইন্টারনেটে। সেখানে ঘণ্টায় ১১ হাজার ৫০৯ মাইল বেগে ছোটা হাইপারসনিক রকেট সিস্টেম দেখানো হয়। এটি আমেরিকার মিসাইল প্রতিরক্ষাব্যবস্থাকে ফাঁকি দিয়ে আঘাত হানতে সক্ষম।

ভিডিওটি চাইনিজ মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে। দেখানো হয়েছে ‘জিয়া গেং নাম্বার ১’ রকেট। এই মিসাইল পেন্টাগনে ট্রাম্পের প্রতিরক্ষা প্রধানের রক্ষণব্যবস্থাকে অকার্যকর প্রমাণিত করতে পারে।

ছবিতে দেখানো প্রোটোটাইপ মিসাইলটি নাকের ডগা থেকে লেজ পর্যন্ত দৈর্ঘ্যে ৮.৭ মিটার (২৮.৭ ফুট)। এর ওজন ৪ হাজার কেজির কাছাকাছি। মিসাইলটি দহনক্রিয়ার মাধ্যমে লক্ষ্যবস্তুর দিকে ছুটে যায়। শব্দের চেয়েও দ্রুতগতির মিসাইলটি এখন ভাইরাল।

যে দহনপ্রক্রিয়ায় মিসাইলটি ছুটবে তাকে বলা হয় ‘স্ক্র্যামজেট’। তত্ত্বগতভাবে এ পদ্ধতির রকেট সিস্টেমের সর্বোচ্চ গতি ‘সাচ ১৫’ এর সমান উঠতে পারে, যার গতি ঘণ্টায় ১৫০০ মাইলেরও বেশি।

ফাঁসকৃত তথ্যে বলা হয়, মিসাইলটি ভূমি ১৬ মাইল ওপর দিয়ে ছুটতে সক্ষম।

পপুলার মেকানিক্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, চীনের উত্তর-পশ্চিমের এক মরুভূমিতে সফল পরীক্ষাও সম্পন্ন হয়েছে।

তবে এ নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেও প্রতিবেদন বেরিয়েছে। এসব প্রতিবেদনে বলা হয়, এটা এটা গবেষণামূলক প্রজেক্ট। একটিতে এমনও বলা হয়েছে, এটা পুরো নিরাপদ সিভিলিয়ান প্রজেক্ট। ”