চীনের বেল্ট এবং রোড মঞ্চের বিষয়ে এশিয় দেশগুলির প্রতিক্রিয়া

For Sharing

পেইচিং-এ বেল্ট এবং রোড মঞ্চের দ্বিতীয় শিখর বৈঠকের শেষ জারী করা এক যৌথ ইস্তাহারে  চতুর্মুখি অর্থনৈতিক এবং সামাজিক বিকাশের জন্য উন্নততর সংযোগ এবং বর্ধিত সহযোগিতার বিষয়ে সদস্যদের আগ্রহ প্রদর্শিত হয়েছে। চীনের রাষ্ট্রপতি শি চিনফেং-এর ডাকা ফোরামের গোল টেবিল বৈঠকে ৩৭জন সরকার ও রাষ্ট্র প্রধান যোগ দেন। অনেক দেশ এবং আন্তর্জাতিক সংগঠনগুলির প্রতিনিধিরা ছাড়াও রাষ্ট্রসংঘের মহাসচিব এ্যান্টোনিও গুতেরেস এবং আন্তর্জাতিক অর্থ তহবিলের ম্যানেজিং ডাইরেক্টর খ্রীস্টিন লাগার্ডে  বৈঠকে অংশ নেন। চীনের বেল্ট এবং রোড ইনিশিয়েটিভের একটি মূল প্রকল্প ৬০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের চীন- পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডোর সি পি ই সির বিষয়ে উদ্বিগ্ন ভারত দ্বিতীয় বি আর এফ বৈঠকে অনুপস্থিত ছিল, এমনকি একই কারণে ২০১৭র মে মাসে অনুষ্ঠিত প্রথম বৈঠক ভারত বয়কট করে। উল্লেখ্য, এই করিডোর পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরের মধ্য দিয়ে গিয়েছে যা ভারতের আঞ্চলিক অখন্ডতা এবং সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘনের সামিল।

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান, নেপালের রাষ্ট্রপতি বিদ্যা দেবী ভান্ডারী এবং মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সিলর অং সান সু চি বৈঠকে যোগ দেন এবং জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, ব্রিটেন, ফ্রান্স, জার্মানী, স্পেন এবং ইওরোপীয় সংঘের মত অনেক দক্ষিণ এশিয় এবং  অন্যান্য দেশ তাদের প্রতিনিধি পাঠায়।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র চীনের এই প্রয়াসের সব চেয়ে বড় সমালোচক, তারা অভিযোগ করে যে তাদের অর্থ লোভ অনেক ছোট ছোট দেশকে ঋণের ফাঁদে ঠেলে দিয়েছে। শ্রীলংকা ঋণ পরিশোধ করতে  ব্যর্থ হওয়ায় হ্যাম্বাটন বন্দরকে ৯৯ বছরের লীজে চীনের অধিগ্রহণের পর, চীনের এই প্রয়াসের বিষয়ে বিভিন্ন দেশের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। যদিও চীনের রাষ্ট্রপতি শি দ্বিতীয় বি আর আই বৈঠকের উদ্বোধনী অধিবেশনে এই ধরণের উদ্বেগকে অমূলক বলে নির্ভয় দেবার চেষ্টা করেছেন। ধীরে ধীরে আরো দেশে চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাবের ফলে সন্দিহান হয়ে উঠছে। উপরন্তু তাদের ভীতির কারণ হল যে চীনের এই সব প্রকল্পের ফলে পর্যাপ্ত কর্মসংস্থান সৃষ্টি হচ্ছে না এবং তাদের দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না।  এই সব কারণে অনেক চীনা প্রকল্প বন্ধ হয়ে যাচ্ছে বা পুনর্গঠিত হচ্ছে।

নেপাল চীনের রাষ্ট্রায়ত্ব গেঝোবা গ্রুপ কর্পোরেশনের সঙ্গে ১২০০ মেগা ওয়াটের বুড়ি গন্ডক জলবিদ্যুৎ প্রকল্প চুক্তি বাতিল করেছে। গত বছর চীনের জর্জেস করপরেশনকে দেওয়া পশ্চিম সেটি প্রকল্পটিও বাতিল করা হয়েছে।                                                                      

তবে উভয় দেশ ট্রান্স হিমালয়ান বহুমুখি সংযোগ নেটওয়ার্ক নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। কেরুং-কাঠমন্ডু-পোখরা রেলওয়ে এবং লুম্বিনীর বৌদ্ধ পর্যটন তীর্থ কেন্দ্রের সম্ভাব্যতা সমীক্ষার কাজ সম্পূর্ণ হয়েছে। দুটি দেশ ২০১৬য় নেপালের প্রধান মন্ত্রী কে পি শর্মা ওলির প্রথম চীন সফরের সময় স্বাক্ষরিত ট্রানজিট এবং ট্রান্সপোর্টেশন চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। নেপালী ব্যবসায়ীরা এখন চারটি চীনা সমুদ্র বন্দর এবং তিনটি ড্রাই পোর্ট ব্যবহার করতে পারবে। এর ফলে তৃতীয় বিশ্বের বাণিজ্যের জন্য ভারতের হলদিয়া এবং বিশাখাপত্তনম বন্দরগুলির বিকল্প তাদের কাছে খুলে যাবে।

পাকিস্তানও সম্প্রতি তাদের ১৪ বিলিয়ন ডলারের ডায়ামার-ভাষা  ড্যাম প্রকল্প থেকে প্রত্যাহার করে নিয়েছে। পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরের সিন্ধু নদীতে এই ড্যাম নির্মাণের কথা ছিল। তবে ইসলামাবাদ কৃষি এবং খাদ্য সুরক্ষা ক্ষেত্রে চীনের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। চীন-মিয়ানমার অর্থনৈতিক করিডোরের বিষয়ে একটি সহযোগিতা পরিকল্পনা স্বাক্ষরতি হয়, তবে মিয়ানমার তাদের পশ্চিম রাখাইন প্রদেশে চীনের সহায়তায় গভীর সমুদ্র বন্দর নির্মানের ব্যয় কম করার জন্য নতুন করে আলোচনা শুরু করেছে বলে জানা গেছে।

মালায়েশিয়া এবং সিঙ্গাপুরও কুয়ালালামপুর ও সিঙ্গাপুরের মধ্যে সংযোগকারী তাদের ১৩.৮ বিলিয়ন মূল্যের দ্রুতগতির রেল প্রকল্প ৩১শে মে ২০২০ পর্যন্ত পিছিয়ে দিয়েছে।

 

যদিও দ্বিতীয় বেল্ট এবং রোড মঞ্চের বৈঠক সফল বলে জানানো হয়েছে তবে এশিয়া, ইওরোপ এবং আফ্রিকার সংযোগকারী একাধিক পরিকাঠামো প্রকল্পের বিষয়ে সমালোচনা হচ্ছে যে ছোট ছোট কিছু দেশ ঋণের ফাঁদে আটকে পড়েতে পারে। (মুল রচনাঃ রতন সালডি)