এশিয় সহযোগিতা বার্তালাপ-শান্তি ও সমৃদ্ধির স্বার্থে অংশীদারিত্বের আদর্শ

For Sharing

কাতারের রাজধানী দোহায় এ সপ্তাহে ষোড়শ-তম এশিয় সহযোগিতা আলোচনা ACD সভা অনুষ্ঠিত হল। এশিয়ার  দেশগুলির মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ১৮ টি দেশের প্রয়াসে ২০০২ সালে  ACD গঠিত হয়। বর্তমানে ৩৪ টি দেশগোষ্ঠীর এই সংগঠনের দুটি উদ্দেশ্য হল-সদস্য দেশগুলির মধ্যে নিয়মিত আলোচনা ও বিভিন্ন উন্নয়নী প্রকল্প রূপায়ণ। সংস্থাটি গঠনের পর থেকেই প্রতি বছর এর মন্ত্রীস্তরীয় বৈঠক হয়ে থাকে। সহযোগিতামূলক প্রকল্পগুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল  কৃষি, তেজঃশক্তি, জৈব প্রযুক্তি, পর্যট্ন,তথ্য প্রযুক্তি, ই-শিক্ষা, আর্থিক বিষয় ও দারিদ্র দূরীকরণ।

এবারের মন্ত্রীস্তরীয় বৈঠকে  কৃষি, পর্যটন, দারিদ্র দূরীকরণ, নির্মল পরিবেশ, পরিকাঠামো উন্নয়ন ও তেজঃশক্তি সহযোগিতার ক্ষেত্রগুলিতে ঘনিষ্ঠ অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে ধারাবাহিক উন্নয়নের বৃহত্তর লক্ষ্য অর্জনের নীতিকৌশল নিয়ে আলোচনা হয়। সামগ্রিক ভাবে ACD সংস্থাকে পরিবেশ সংরক্ষণ, সামাজিক তথা অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার স্বার্থে একটি আঞ্চলিক সহযোগিতা ব্যবস্থাপনা হিসেবে গড়ে তোলার ওপর এই আলোচনায় জোর দেওয়া হয়।

বৈঠকে শিক্ষা ও মেধা ভিত্তিক অর্থব্যবস্থা  গড়ে তোলার লক্ষ্যে এই অঞ্চলের ৬ টি বিশ্ব বিদ্যালয়ের মধ্যে একটি সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষর করা হয়। এগুলি হল- এশিয়া অন লাইন বিশ্ববিদ্যালয়; সিয়াম বিশ্ববিদ্যালয়, থাইল্যান্ড; ড্যাফোডিল আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ; পাঞ্জাব বিশ্ব বিদ্যালয়,ভারত; সুরব্য বিশ্ববিদ্যালয়, ইন্দোনেশিয়া; Our Lady of Fatima বিশ্ববিদ্যালয়, ফিলিপিনস। এ ছাড়াও এই আলোচনায়, ACD দেশগোষ্ঠীর বিশ্ববিদ্যালয়গুলির মধ্যে শিক্ষা সহযোগিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সিয়াম বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি কেন্দ্র গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

মন্ত্রীস্তরীয় সম্মেলনের শেষে জারি করা দোহা ঘোষণাপত্রে আন্তর্জাতিক দুনিয়ায় এশিয়ার প্রতিযোগিতাশক্তি ও মর্যাদা বৃদ্ধির স্বার্থে সদস্য দেশগুলির মধ্যে সহযোগিতা ও নিয়মিত আলাপ আলোচনার প্রয়োজনের কথা বলা হয়েছে। গত এক দশক সময়ে এশিয়ায় অর্থনৈতিক বিকাশ ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা অর্জনের ক্ষেত্রে তাৎপর্যপূর্ণ সাফল্য অর্জন করা গেছে বলে অভিমত ব্যক্ত করা হয়েছে। সম্মেলনে গৃহীত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ACD’র পরবর্তী বৈঠক হবে তুরস্কে সে দেশের সরকারের সভাপতিত্বে। কাতার ২০২০ সালে তৃতীয় ACD শিখর সম্মেলনের আয়োজন করবে বলে সে দেশের প্রস্তাবে সম্মেলনে সন্তোষ ব্যক্ত করা হয়। সম্মেলনে প্রতি বছর জুন মাসের ১৮ তারিখটিকে  ACD দিবস হিসেবে উদযাপনের অঙ্গীকারটি পুনর্ব্যক্ত করা হয়।

ACD’র প্রতিষ্ঠাতা সদস্য দেশ হিসেবে ভারতের পক্ষ থেকে এই সম্মেলনে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল অংশ গ্রহণ করে। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী  তাঁর ভাষণে সন্ত্রাসবাকে এশিয়ার সব চেয়ে মারাত্মক বিপদ হিসেবে উল্লেখ করেন এবং এর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে একটি সহযোগিতামূলক ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলার গুরুত্বের কথা বলেন। তিনি শ্রীলংকায় সাম্প্রতিক সন্ত্রাসবাদী আক্রমণের কথা উল্লেখ করেন এবং এই ঘটনার প্রেক্ষিতে যত শীঘ্র সম্ভব রাষ্ট্রসংঘে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদ দমন বিষয়ক সর্বাত্মক চুক্তি স্বাক্ষরের প্রয়োজনের কথা বলেন।

এ বারের ACD সম্মেলনে ‘উন্নয়নী প্রক্রিয়ায় অংশীদারিত্বের আদর্শ’ –এই মূল বিষয় ভাবনায় নতুন দিল্লির “সম্মিলিত প্রয়াস ও সর্বাত্মক বিকাশ”এর আদর্শেরই প্রতিফলন ঘটেছে। ভারতীয় প্রতিনিধি আন্তর্জাতিক স্তরে শান্তি ও স্থিতিশীলতার পরিবেশ শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে নিরলস প্রয়াসের পাশাপাশি ধারাবাহিক উন্নয়ন ও দূষণমুক্ত পরিবেশ সৃষ্টিতে স্বচ্ছ জ্বালানী ব্যবহারে নতুন দিল্লির অগ্রণী ভূমিকা পালনের  কথা উল্লেখ করেন।  এরই প্রেক্ষিতে ভারত এই সম্মেলনে ACD’র সকল দেশকে ২০১৫’র মার্চ মাসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে গঠিত আন্তর্জাতিক সৌর আঁতাত’এ যোগদানের আহ্বান জানিয়েছে। সম্মেলনে ভারতীয় প্রতিনিধিদলের নেতা তেজঃশক্তি, খাদ্য নিরাপত্তা, গবেষণা ও উন্নয়ন, পরিশুদ্ধ পানীয় জল ও আর্থিক অন্তর্ভুক্তির মত বিভিন্ন ক্ষেত্রে ACD’র সকল সদস্য দেশের মধ্যে সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেন।

সংক্ষেপে বলতে গেলে, এশিয়া মহাদেশের সামগ্রিক সমৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও অর্থনীতিতে ACD’র ভূমিকা ক্রমশ অধিক গুরুত্বপুর্ণ হয়ে উঠছে। (মূল রচনাঃ- ডঃ মহম্মদ মুদাসসির কামার)