অশোধিত তেলের ক্রমবর্ধমান মূল্যবৃদ্ধির মোকাবিলায় ভারত

For Sharing

                                   

 ইরানের বিরুদ্ধে CAATSA আইনের নিষেধাজ্ঞা থেকে ভারত সহ সাতটি দেশের ওপর থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রেহাইয়ের মেয়াদ শেষ হতে চলেছে সেই কারণে তেলের বাজার বা ভারতের ওপর এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। উল্লেখ্য,অশোধিত তেলের মূল্য গতমাসে ব্যারেল প্রতি ৭০ ডলারের মাত্রা অতিক্রম করেছে। নিষেধাজ্ঞা পীড়িত ইরান এবং ভেনেজুয়েলা উৎপাদন হ্রাস  করায় আন্তর্জাতিক তেলের বাজারে যোগান কমতে শুরু করেছে।

মনে রাখতে হবে ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম গত কয়েক মাস থেকে উর্ধগামী, গত ডিসেম্বর থেকে মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে প্রায় ৫০ শতাংশ আর এটি পেট্রোল রপ্তানিকারক দেশগুলি OPECর উৎপাদন হ্রাসের সিদ্ধান্তের সরাসরি ফলশ্রুতি। উৎপাদন ঘাটতি জনিত কারণে তেলের মূল্যে যাতে বৃদ্ধি ঘটে সেই কারণেই উৎপাদন কম করার এই সিদ্ধান্ত।  ভারত ইরান থেকে প্রায় ১১ শতাংশ অশোধিত তেল আমদানি করে থাকে, গত সপ্তাহ পর্যন্ত নিষেধাজ্ঞা থেকে রেহাইএর ফলে তারা এই প্রভাবকে কিছুটা নিস্ক্রিয় রাখতে পেরেছে। ২০১০ পর্যন্ত সৌদি আরবের পরেই ভারতে দ্বিতীয় বৃহত্তম তেল সরবরাহকারী দেশ ছিল ইরান। পরে পরমাণু কর্মসূচির অভিযোগে তেহেরানের বিরুদ্ধে পশ্চিমী দেশেগুলির নিষেধাজ্ঞা এবং অন্যান্য উৎস থেকে ভারতের তেল আমদানি বৃদ্ধির ফলে ইরান সপ্তম স্থানে নেমে আসে।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রক এবং পেট্রোলিয়াম মন্ত্রকের বিবৃতিতে দেখা যাচ্ছে যে  এখন জ্বালানী শক্তির বিকল্প উৎসের সন্ধান চলছে যাতে ভারতের বাজারে এর প্রভাব কম করা যায়। ভারত অন্যান্য দেশ থেকে তেল আমদানির ব্যাপক পরিকল্পনা করেছে। এদিকে, ইরানী তেলের জন্য ভারতের তেল কোম্পানীগুলি আর বরাত দিচ্ছে না।

পরপর দু’বছর ধরে ইরাক ভারতের বৃহত্তম অশোধিত তেল সরবরাহকারী দেশ হয়ে উঠেছে। ২০১৮-২০১৯ অর্থ বর্ষে দেশের প্রয়োজনের প্রায় অর্ধেক তেল সরবরাহ করেছে ইরাক। ২০১৮র এপ্রিল থেকে ২০১৯ এর মার্চ পর্যন্ত ইরাক ভারতকে ৪৬.৬১ মিলিয়ন টন তেল সরবরাহ করেছে ২০১৭-১৮র তুলনায় ২০১৭-১৮তে এই পরিমাণ ছিল ৪৫.৭৪ মেট্রিক টন অধিক। বিভিন্ন সংরক্ষণমূলক ব্যবস্থার ফলে এবং বিকল্প জ্বালানী উৎসে রুপান্তরের দরুণ এটি সম্ভব হয়েছে।

পেট্রলিয়াম এবং প্রাকৃতিক গ্যাস দপ্তর বলেছে যে আমদানিকৃত তেল এবং গ্যাসের ওপর থেকে দেশের নির্ভরশীলতা কম করার লক্ষ্যে তারা কাজ করে চলেছে। ২০২১-২০২২ সালের মধ্যে তেলের আমদানি ১০ শতাংশ হ্রাস করার লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করা হয়েছে। পেট্রো পণ্য সংরক্ষণের লক্ষ্যে পাঁচ দফা নীতি-কৌশল নিয়ে কাজ চলছে। এই নীতির মধ্যে রয়েছে অশোধিত তেল এবং গ্যাসের অভ্যন্তরীণ  উৎপাদন বৃদ্ধি করা, জ্বালানী দক্ষতা বৃদ্ধি করা এবং সংরক্ষণমূলক ব্যাবস্থাদি গ্রহণ করা। জৈব জ্বালানী এবং অন্যান্য নবীকরণযোগ্য বা বিকল্প জ্বালানীর ব্যবস্থা করা এবং শোধনাগার প্রক্রিয়ার উন্নয়নের ব্যবস্থাও এর অন্তর্ভুক্ত।                                         

তেল এবং গ্যাসের অনুসন্ধান এবং উৎপাদনের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে, এর মধ্যে রয়েছে হাইড্রোকার্বন অনুসন্ধান লাইসেন্সিং নীতি এবং ওপেন এক্রেজ লাইসেন্সিং নীতি, আবিস্কৃত ক্ষুদ্র ক্ষেত্র নীতি, গ্যাসের মূল্যে সংস্কার প্রভৃতি। ভারত তেল এবং গ্যাস উৎপাদনের বর্তমান শেয়ারিং চুক্তি এবং উন্নত উদ্ধার পদ্ধতি সহজ করার বিষয়ে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। শেল অয়েল এবং গ্যাস এবং কোল বেড মিথেনের মত অচিরাচরিত হাইড্রোকার্বনের অনুসন্ধান এবং ব্যবহারের প্রতি উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে।

এদিকে,  ইন্ডিয়ান স্ট্র্যাটেজিক রিজার্ভস লিমিটেড বিশাখাপট্টনম, ম্যাঙ্গালুরু এবং পাডুরে পেট্রলের কৌশলগত ভান্ডার ব্যবস্থার সুবিধা সৃষ্টি করেছে। এর জন্য ৪,০৯৮.৩৩ কোটি টাকা মঞ্জুর করা হয়েছে। এর লক্ষ্য হল অর্থনীতিকে সচল রাখতে আমদানিকৃত অশোধিত তেলের দামে ওঠানামা সত্বেও অভ্যন্তরীন প্রয়োজনে অত্যাবশ্যক জ্বালানী সরবরাহ অব্যাহত রাখা।  ভারত অশোধিত তেলের ক্ষেত্রে যে কোনো রকম সম্ভাব্য সমস্যার মোকাবিলায় প্রস্তুত রয়েছে। মুলরচনাঃ জি শ্রীনিবাসন)