IBSAকে পুনরুজ্জীবিত করা

For Sharing

কেরালার কোচীতে ভারত, ব্রাজিল ও দক্ষিণ আফ্রিকাকে নিয়ে গঠিত IBSA দেশগোষ্ঠীর প্রতিনিধিদের (শেরপা) বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়ে গেল। ২০১৮র সেপ্টেম্বর মাসে নিউ ইয়র্কে আয়োজিত রাষ্ট্র সঙ্ঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের পাশাপাশি নবম  IBSA মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকের ফলশ্রুতি হিসেবে এই বৈঠক হল। IBSA এক অনন্য মঞ্চ যা ভারত, ব্রাজিল ও দক্ষিণ আফ্রিকার মত ভিন্ন মহাদেশে অবস্থিত তিন বৃহৎ গণতন্ত্র ও অর্থনীতিকে এক জায়গায় এনেছে। এই সব দেশগুলি একই ধরণের চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন, এই দেশগুলি বিকাশশীল, বহুত্ববাদী, বহু-সংস্কৃতি, বহু-জাতি, বহু ভাষা ও বহু –ধর্মের দেশ। IBSA ২০০৩ সালে ব্রাসিলিয়ায় তাদের বিদেশ মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে প্রকাশ পায়  এবং গত বছরে তারা তাদের ১৫তম বার্ষিকী উদযাপন করে।

IBSA হল সমমনা দেশগুলির এক দক্ষিণ-দক্ষিণ গোষ্ঠী যারা তাদের দেশের জনগণের ও বিকাশশীল বিশ্বের কল্যানে সর্বাত্মক দীর্ঘস্থায়ী উন্নয়নে অঙ্গীকারবদ্ধ।  IBSAয় আলোচনার আদর্শ হল অংশগ্রহণমূলক গণতন্ত্র, মানবাধিকারকে সম্মান প্রদর্শন, আইনের শাসন বলবৎ এবং বহু-পক্ষীয়তাকে মজবুত করা। IBSA সহযোগিতায় রয়েছে সদস্য দেশগুলির সরকারের মধ্যে সাধারণ উদ্বেগ সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক বিষয়গুলি নিয়ে আলোচনা,  পারস্পরিক স্বার্থে বিভিন্ন প্রকল্পে ত্রিপাক্ষিক সমঝোতা এবং অন্য বিকাশশীল দেশকে বিভিন্ন প্রকল্পে IBSA তহবিল থেকে সহায়তা করা। IBSAর সাফল্য স্পষ্টতই বিশেষজ্ঞ ও প্রশিক্ষণ ক্ষেত্রে চিরাচরিত বিনিময়ের বাইরেও দক্ষিণ-দক্ষিণ সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তা ও সম্ভাব্যতাকে প্রদর্শন করে।

এখনও পর্যন্ত IBSAর পাঁচটি শীর্ষ সম্মেলন হয়েছে। পঞ্চম শীর্ষ সম্মেলনটি হয় ২০১১র অক্টোবরে প্রিটোরিয়ায়। ষষ্ঠ IBSA শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে ভারতে। এই তিন দেশের নেতাদের পারস্পরিক সুবিধাযুক্ত দিন পাওয়া না যাওয়ায় এই সম্মেলন  আয়োজনে বিলম্ব হচ্ছে।  ষষ্ঠ শীর্ষ সম্মেলনের আশু আয়োজনের গুরুত্ব তিনটি দেশই জানে এবং একারণেই এই তিন দেশের নির্বাচন সম্পন্ন হয়ে যাওয়ার পরেই এই সম্মেলনের আয়োজন করা হবে। উল্লেখ্য, এই তিন দেশের মধ্যে সহযোগিতার উন্নয়নে ও বিভিন্ন কর্মসূচী গ্রহণের মাধ্যমে তাদের প্রসার ঘটাতে মন্ত্রী ও কার্যকরী পর্যায়ের বৈঠক কিন্তু নিয়মিত হয়ে চলেছে।   

এই তিন দেশের মঞ্চ ২০০৪ সালে যে  অন্যতম প্রকল্পটি সূচনা করেছিল তা হল দারিদ্র্য ও ক্ষুধা দূরীকরণ সংক্রান্ত  IBSA তহবিল। এটি এক অনন্য প্রয়াস যার মাধ্যমে উন্নতশীল দেশগুলিতে উন্নয়নমূলক প্রকল্প রূপায়ন করা হয়। এ পর্যন্ত  IBSA তাদের ২০টি সহযোগী বিকাশশীল দেশের স্বচ্ছ পানীয় জল, কৃষি ও পশুসম্পত্তি, সৌর শক্তি, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, স্বাস্থ্য প্রভৃতি ক্ষেত্রে ৩১টি প্রকল্পে সহায়তা করছে। এগুলির মূল লক্ষ্য হল দীর্ঘস্থায়ী উন্নয়নের লক্ষ্য অর্জন।

বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে এই তিন দেশের উন্নয়নমূলক অভিজ্ঞতা ছড়িয়ে দিতে উদ্ভাবনমূলক দৃষ্টিভঙ্গী গ্রহণের জন্য তাদের কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ IBSA তহবিল রাষ্ট্র সঙ্ঘের দক্ষিণ-দক্ষিণ অংশীদারিত্ব পুরস্কার ২০০৬ (হাইতি ও  গিনি বিসাউ-এর প্রকল্পগুলির জন্য), ২০১০ সালে দক্ষিণ –দক্ষিণ সহযোগিতা জন্য MDG পুরস্কার এবং ২০১২ সালে দক্ষিণ-দক্ষিণ চ্যাম্পিয়ান পুরস্কার পেয়েছে। IBSA ত্রিপাক্ষিক সহযোগিতার আরও একটি উল্লেখযোগ্য বিষয় হল প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে নৌ-বাহিনীর যৌথ মহড়া  IBSAMAR। ৬বার এই মহড়া ইতিমধ্যেই হয়ে গিয়েছে যার মধ্যে সাম্প্রতিকতমটি হয় ২০১৮ সালের অক্টোবরে দক্ষিণ আফ্রিকার উপকূলীয় অঞ্চলে।

কোচীতে আয়োজিত IBSA প্রতিনিধিদের বৈঠকে গোষ্ঠীর সাম্প্রতিক কাজকর্ম খতিয়ে দেখা হয় ও বিশেষ করে দক্ষিণ-দক্ষিণ অংশিদারিত্ব ও পর্যটন ক্ষেত্রে সহযোগিতা কিভাবে  আরও মজবুত করা যায় তার পন্থা পদ্ধতি নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়। ‘শেরপা’গণ (প্রতিনিধি) যৌথ কর্মী গোষ্ঠীর কাজকর্মেরও পর্যালোচনা করেন। IBSAর ১৫ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে গত  এক বছরে যে সব অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল তারা সেগুলিরও প্রশংসা করেন। ২০১৯-এ নতুন দিল্লীতে দক্ষিণ আফ্রিকার রাষ্ট্রপতির দেওয়া প্রথম গান্ধী-ম্যান্ডেলা স্মারক বক্তৃতা নিয়েও তারা সন্তোষ  প্রকাশ করেন। এই তিন দেশের প্রতিনিধিদের বৈঠক IBSA সদস্য দেশগুলির মধ্যে ক্রমবর্ধমান সহযোগিতার গতি আরও বৃদ্ধি করে।

[মূল রচনা-  অশোক সজ্জনহার]