বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার নতুন দিল্লির মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠক

For Sharing

দরিদ্র এবং বিকাশশীল দেশগুলির সহায়তার জন্য বিশেষ এবং পার্থক্যমূলক সুবিধা ( এস ও ডি টি) ব্যবস্থা বলবতের জন্য বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার নতুন দিল্লির বৈঠকে  আলোক সম্পাত করা হল। এতে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বাণিজ্য চুক্তির সুবিধা গ্রহণের এবং বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার অধীনে বহুপাক্ষিক বাণিজ্য ব্যবস্থাকে মজবুত করার আহ্বান জানানো হয়েছে। সদ্য সমাপ্ত নতুন দিল্লি বৈঠকে ২২টি দেশের উচ্চ পদস্থ আধিকারিকরা অংশ গ্রহণ করেন। এই সম্মেলনের লক্ষ্য ছিল চলতি ডব্লু টি ও আলোচনার অচলাবস্থা দূর করা এবং এই সংস্থার বহু পাক্ষিক বৈশিষ্ট অক্ষুন্ন রাখা। তাছাড়া, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ব্যবস্থাকে মজবুত করাও এই সম্মেলনের অন্যতম উদ্দেশ্য। বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার বিবাদ নিস্পত্তির জন্য আপীল সংক্রান্ত সংগঠন এ বি-র সদস্য নিয়োগের বিষয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের বিরোধীতার সমালোচনা করেন প্রতিনিধিরা যাতে বিবাদ নিস্পত্তির সময় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের  অনুকূলে কোনো রকম পক্ষপাতমূলক ব্যবস্থা না নেওয়া যায়। এই প্রেক্ষিতে মনে রাখতে হবে যে বর্তমানে একাধিক দেশের সঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যিক সংঘাত চলছে। ডব্লু টি ওর সদস্যরা এই বিষয়ে একমত হন যে অবিলম্বে এ বি-র শূন্যপদগুলি পূরণের বিষয়ে গঠনমূলক পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে।

ভারতের বাণিজ্য মন্ত্রী বৈঠকের শুরুতেই উল্লেখ করেন যে বড় বড় বাণিজ্যিক দেশগুলির মধ্যে বাণিজ্য  উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে কারণ সংরক্ষণবাদের প্রবণতা মাথা চাড়া দিয়ে উঠছে যা অবাধ ও ন্যয্য ব্যবসা বাণিজ্যের ক্ষেত্রে প্রতিকূলতার সৃষ্টি করছে, এই পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে বর্তমান বৈঠক খুবই তাৎপর্যপূর্ণ। ভারতীয় মন্ত্রী উদ্বোধনী অধিবেশনে জোরদার আপীল করেন যে বিকাশশীল বিশ্বে বসবাসরত ৭.৩ বিলিয়ন মানুষকে কোনো ভাবেই বিকাশের সুফল থেকে বঞ্চিত রাখা যায় না, কারণ বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থাই এমন একটি সংগঠন যারা বিকাশের  উদ্বেগের সমাধান করে এবং সহায়তার মাধ্যমে নয়-বাণিজ্যিক বিকাশের মাধ্যমে এই উদ্বেগের নিরসন করে থাকে।

অনুরুপ উদ্বেগ প্রকাশ ক’রে ডব্লু টি ওর মহানির্দেশক রবার্টো আজেভেদো বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার চলতি সংস্কারের বিষয়গুলির উল্লেখ করেন এবং বলেন যে এটি আপনাদের সংগঠন… বিতর্কে আপনারা সরব হোন। ডব্লু টি ওর কাজের তিনটি স্তম্ভ নিরীক্ষণ, বিবাদ নিস্পত্তি এবং আলোচনার বিষয়ে তিনি সদস্যদের আলোকপাত করেন।

এস এবং ডিটি বিকাশশীল এবং স্বল্পোন্নত দেশগুলিকে বহুপাক্ষিক বাণিজ্য নিয়ম-বিধি রুপায়ণের জন্য অধিক সময় দিয়েছে তাই ডব্লু টি ও প্রধান আজেভেদো বলেন এস ও ডি টি ব্যবস্থায় অভিনবত্ব থাকতে হবে এবং  অচলাবস্থা কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হতে হবে।

তিনি বলেন সর্বোত্তম পন্থা হল বাণিজ্য সুবিধা চুক্তি ধরণের একটি মডেল থাকা, যেখানে বিভিন্ন দেশ তাদের নিজস্ব শর্তাবলী নির্ধারণ করতে পারে। কিন্তু ভারত ও চীন সহ ১৭টি সদস্য দেশ বলেছে যে এস ও ডি টি সংস্থানগুলি হল বিকাশশীল সদস্যদের অধিকার যা বর্তমান ও ভবিষ্যৎ ডব্লু টি ও চুক্তিগুলিতে সংরক্ষিত রাখতে এবং মজবুত করতে সহায়ক হতে পারে। এক্ষেত্রে স্বল্পোন্নত দেশগুলির প্রতি অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত। কাজাকস্তান, তুরক্স, আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল এবং গুয়াতেমালা-এই পাঁচটি সদস্য দেশ যৌথ চুক্তিতে স্বাক্ষর করে নি। ডব্লু টি ওতে ভারতের স্থায়ী প্রতিনিধি জে এস দীপক অবশ্য বলেন যে এস ও ডি টিতে ভারতের অবস্থান অত্যন্ত স্পষ্ট। এটি ডব্লু টি ও ব্যবস্থাপনার এক অত্যাবশক অংগ। ভারত দেশগুলির আর শ্রেণী বিন্যাসের পক্ষে নয়। এক কথায় উপস্থিত ২২টি সদস্য দেশের  মধ্যে ৭টি দেশ ডব্লু টি ওর বিশেষ এবং পার্থক্যমূলক সংস্থানকে মজবুত করার কথা জোর দিয়ে বলেছে, এটি নতুন দিল্লি মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকের এক কৌশলগত জয়।

যৌথ মন্ত্রী পর্যায়ের ঘোষণাপত্রে ৭৫টি সদস্য দেশের মধ্যে ভারতের অংশ গ্রহণ ব্যতিরেকে বৈদ্যুতিন বাণিজ্য সংক্রান্ত চলতি বহু-পাক্ষিক চুক্তির উল্লেখ করা হয় নি, তবে বহু পাক্ষিক প্রক্রিয়া সংরক্ষণের প্রয়োজনীতার কথা বলা হয়েছে। সর্বাত্মক উন্নয়ন ভিত্তিক সুফল অর্জনের উপায় হিসেবে ঐক্যমত্য ভিত্তিক বহুপাক্ষিক পথই সর্বাধিক কার্যকর বলে বৈঠকে উল্লেখ করা হয়। এটি হওয়া উচিত বন্ধুত্বপূর্ণ যাতে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার নিয়ম বিধির সঙ্গে তা সংগতিপূর্ণ হয় এবং বহু পাক্ষিক বাণিজ্য ব্যবস্থাকে মজবুত করতে সহায়ক হয়। নিঃসন্দেহে নতুন দিল্লীর মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠক এই সংস্থাকে প্রাণবন্ত করে তুলেছে এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে বিশেষ অবদান রাখার লক্ষ্যে এই  বিশ্ব প্রতিষ্ঠানকে ভবিষ্যৎ-পথের দিশা দেখিয়েছে। (মূল রচনাঃ জি শ্রীনিবাসন)