ব্রেক্সিট চুক্তি নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত- অতঃকিম্‌ ?

For Sharing

ব্রিটেনের সংসদে  প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে-র ব্রেক্সিট চুক্তি আগেও তিনবার প্রত্যাখ্যান হওয়ায় ব্রিটিশ নেত্রী তাঁর চুক্তির  বিষয়ে শেষ এবং চূড়ান্ত চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হতে চলেছেন এবং এবারেও তা খারিজ হলে এই চুক্তি ও বর্তমান সরকারের কাছে  তা বিপদজনক হয়ে উঠতে পারে। স্টিফেন বার্কলে বলেন এই চুক্তিটি খারিজ হলে, চুক্তিটিই শেষ। এমন এক কঠিন পরিস্থিতিতে থাকা থেরেসা মে, সংসদের অনুমোদনের জন্য শীঘ্রই চুক্তিটিকে হাউস অফ কমন্সে পেশ করতে চলেছেন। গত ছয় সপ্তাহের আলোচনায় চুক্তির সংস্থানে কোনও নতুন পরিবর্তন আনা হয়েছে কিনা সে বিষয়টিই এই চুক্তির বিরোধীদের প্রাথমিক উদ্বেগ।

তাঁর নিজের কনজারভেটিভ পার্টির মধ্যেই এই চুক্তি নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। ডেমোক্র্যাটিক ইউনিয়নিস্ট পার্টি (ডি ইউ পি) জানিয়েছে যে অর্থনৈতিক ও সাংবিধানিক অখন্ডতাকে বাঁচিয়ে রাখতে এবং উত্তর আয়ারল্যান্ড ও গ্রেট ব্রিটেনের মধ্যে সীমান্ত ব্যবস্থাপনাকে শিথিল করার জন্য প্রয়োজনীয় পরিবর্তন চুক্তিতে থাকলেই কেবলমাত্র এই চুক্তিটি দিনের  আলো দেখতে পারে। লেবার পার্টি, শ্রমিকদের অধিকার সহ ব্রিটেনে বসবাসকারী ইউরোপীয় সঙ্ঘের নাগরিকদের এবং ইউরোপীয় সঙ্ঘের মধ্যে বসবাসকারী ব্রিটিশ নাগরিকদের আধিকারের বিষয়টি নিয়ে এই চুক্তিটি বিরোধাতা করে আসছে। লেবার পার্টি ইউরোপীয় সঙ্ঘ সদস্যপদ নিয়ে দ্বিতীয় গণভোটের দাবি তুলেছে। প্রাথমিক পর্যায়ে থেরেসা মে-র এই চুক্তিটিকে সংসদীয় অনুমোদনের ক্ষেত্রে  লেবার পার্টি হয়তো চতুর্থ ভোটে নিজেদের সরিয়ে নিতে পারে। গ্রিন পার্টি, লিবারেল ডেমোক্র্যাটস, স্কটিশ ন্যাশানাল পার্টি এবং প্ল্যাড কুমরি, সবই ব্রেক্সিটকে পুরোপুরি বিরোধিতা করে আসছে।

কনজারভেটিভ পার্টির কাছে আগামীদিনে এই সব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা বেশ কঠিন হবে। সংসদে অবস্থান আরও কঠোর হয়ে উঠবে এবং চুক্তি বাতিল বা ব্রেক্সিট বাতিলেরও দাবি উঠবে। ব্রেক্সিট নিয়ে জলঘোলা ছাড়াও, এই মাসে অনুষ্ঠিত  স্থানীয় নির্বাচনে কনজারভেটিভ পার্টির বড় ক্ষতি হয়েছে; ১৩৩৪ জন কাউন্সিলর পরাজিত হয়েছেন এবং ইউরোপীয় সঙ্ঘের পক্ষে থাকা লিবারেল ডেমোক্র্যাটসদের লাভ হয়েছে ৭০৩টি আসন। ২০১৯-এর ২৩শে মে অনুষ্ঠিত হতে চলা ইউরোপীয় সঙ্ঘ সংসদীয় নির্বাচনেও গড় ভোটের সর্বশেষ রিপোর্টে জানা গেছে যে নিগেল ফারেজের ব্রেক্সিট পার্টি বাকি দুই প্রধান দলের থেকে এগিয়ে রয়েছে।

প্রতিবারেই চুক্তিটি খারিজ হয়ে যাওয়ার পরে পদত্যাগের বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে বারে বারে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, চতুর্থবারেও চুক্তিটি খারিজ হয়ে গেলেও সাংসদদের গণভোটের ফলাফলকে সম্মান করা উচিত। থেরেসা মে যদি এই অচলাবস্থা কাটিয়ে উঠতে পারেন তবে সেটি অবশ্যই তাঁর ও তাঁর সরকারের কৃতিত্ব হবে। অন্যথায় প্রকৃত অর্থনৈতিক ও সাংবিধানিক অখন্ডতা বহাল রাখার আগে ব্রিটেনকে বেশ কয়েকটি বাধার সম্মুখীন হতে হবে। তবে যাই হোক না কেন ইউরোপীয় সঙ্ঘের বাকি ২৭টি দেশ ব্রিটেনকে এই বছরের ৩১শে অক্টোবর পর্যন্ত এই চুক্তিটিকে অনুমোদনের বা চুক্তি প্রত্যাহারের  পুনর্বিবেচনার জন্য সময় দিয়েছে।

ব্রেক্সিট চুক্তি হলে বা না হলে তা ইউরোপীয় সঙ্ঘের সঙ্গে ভারতের বাণিজ্য ও বিনিয়োগকে কিভাবে প্রভাবিত করবে তার ভিন্ন ভিন্ন মতামত সামনে এসেছে। ২০১৯-এর ফেব্রুয়ারি মাসে ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাঙ্কের এক রিপোর্টে বলা হয়েছে – ২০১৯-এর মার্চ মাসে ব্রেক্সিটের সম্ভাবনায় দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি নতুন করে রূপায়িত হলে ভারতীয় রপ্তানিকারকদের কাছে বড় সুযোগ আসতে পারে। অন্যদিকে এক সুদৃঢ় বিনিয়োগ সম্পর্কের জন্য ব্রেক্সিট ভারতের কাছে এক সমস্যারও কারণ হয়ে উঠতে পারে। চুক্তি না হলে সেই পরিস্থিতিতে প্রথমেই ব্রিটিশ পাউন্ডের ওপর এবং পরবর্তীকালে উদীয়মান বাজারগুলিতে প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা বেশি। যদি ব্রিটিশ আর্থিক বাজারের ওপর এর প্রতিকূল ও বিপর্যয়মূলক প্রভাব পড়ে, তবে সেই অবস্থা থেকে নিজেদের বের করে নিয়ে আসার ক্ষেত্রে অবশ্যই বেশ কিছু সময় লাগবে।

 

[মূল রচনা- ডক্টর সঙ্ঘমিত্রা শর্মা]