সপ্তদশ সাধারণ নির্বাচনের জন্য ভোটগ্রহণ সম্পন্ন  

For Sharing

২০১৯’এর লোকসভা  নির্বাচনের জন্য ভোটগ্রহণ সমাপ্ত হয়েছে। সাত দফায় আয়োজিত এই নির্বাচনে বিপুল সাড়া পাওয়া গেছে। এ বছরের লোকসভা নির্বাচনে মোট ৯০ কোটি ভোটদাতার মধ্যে ৬৬ শতাংশ তাঁদের ভোটাধিকার করেছেন। এই ভোটদানের মধ্য দিয়ে গণতন্ত্রের প্রতি জনগণের বিশ্বাস এবং আস্থা পুণরায় প্রতিষ্ঠিত হল।

ভারতের নির্বাচন কমিশন এবারের সাধারণ নির্বাচনে প্রবীণ নাগরিক এবং বিশেষভাবে সক্ষম ভোটদাতাদের জন্য ব্যাপক ব্যবস্থা গ্রহণ করে। মধ্যপ্রদেশের ইন্দোরের তিন ফিট উচ্চতা বিশিষ্ট বিনীতা জৈন সসম্মানে তাঁর ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। বিহারের পাটনায় জোড়া শরীরের যমজ বোন সাবা এবং ফারাহও দুইজন স্বতন্ত্র নাগরিক হিসেবে ভোট দিয়েছেন। এবার বহু প্রবাসী ভারতীয়ও বিদেশ থেকে দেশে এসে ভোটদান করেছেন। শুধু তাই নয়, কর্মসূত্রে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে থাকা দিনমজুররাও নিজের রাজ্যে গিয়ে ভোটদান করেছেন।  ভোটদানে উৎসাহিত করার জন্য যে ব্যাপক সচেতনতা অভিযান চালানো হয়, এবারে নির্বাচনে ভোটদানের বিপুল সংখ্যা তারই ফল। এবারের তালিকাভুক্ত ৮কোটি ৫০ লাখ নতুন ভোটদাতার সংখ্যা দেখলেই নির্বাচন কমিশনের ব্যাপক প্রস্তুতির বিষয়টি বোঝা যায়।

গতকাল লোকসভা নির্বাচনের চূড়ান্ত দফায় ৮টি রাজ্যের ৫৯টি আসনের জন্য ভোটগ্রহণ করা হয়। এবারের সাধারণ নির্বাচনে মোট ৫৪২টি লোকসভা আসনের জন্য ভোটগ্রহণ করা হয়েছে।  ভোটদাতাদের প্রভাবিত করতে  অর্থের ব্যবহারের অভিযোগে নির্বাচন কমিশন তামিলনাড়ুর ভেলোর আসনের ভোটগ্রহণ বাতিল করে। অন্যদিকে ভারতের রাষ্ট্রপতি ৫৪৫টি আসন বিশিষ্ট লোকসভার জন্য  দুই জন অ্যাংলো ইন্ডিয়ান প্রার্থীর নাম মনোনীত করেছেন।

এবারের সাধারণ নির্বাচনে অন্যতম প্রবীণ ভোটদাতা ছিলেন হিমাচল  প্রদেশের কিন্নোরের ১০২ বছর বয়সী শ্যাম শরণ নেগি। শুধুমাত্র বয়স্ক নাগরিক হিসেবেই নয়, ভারতের প্রথম ভোটদাতা হিসাবেও নির্বাচনী আধিকারিকরা তাঁকে বিশেষভাবে স্বাগত জানান। উল্লেখ করা যায়, ১৯৫১ সালের সাধারণ নির্বাচনে তিনিই ছিলেন দেশের প্রথম ভোটদাতা।

উল্লেখ্য, সাধারণ নির্বাচনের সপ্তম তথা চূড়ান্ত দফায় হিমাচল প্রদেশ, বিহার, পশ্চিমবঙ্গ, পাঞ্জাব, মধ্যপ্রদেশ, উত্তর প্রদেশ, ঝাড়খন্ড ও কেন্দ্রীয় অঞ্চল চন্ডীগড়ে ভোটগ্রহণ করা হয়। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সহ এই পর্যায়ে মোট প্রার্থীর সংখ্যা ছিল ৯১৮ জন। এই পর্যায়ে মোট ১০ মিলিয়ন ভোটদাতার ৬৪ শতাংশ ভোটদান করেন। এবারের সাধারণ নির্বাচনে নির্বাচন কমিশন লিঙ্গ সমতার ওপরেও গুরুত্ব  দিয়েছে। ২০০৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে পুরুষ ও মহিলা ভোটদাতার সংখ্যায় নয় শতাংশের ফারাক ছিল। ২০১৪’য় তা কমে ১.৪ শতাংশ হয়। এবারের নির্বাচনে তা আরো হ্রাস পেয়ে হয়েছে মাত্র ০.৪ শতাংশ। উল্লেখযোগ্য হল, এবার বেশ কয়েকটি রাজ্যে পুরুষের থেকে মহিলা ভোটদাতার সংখ্যা বেশী ছিল।

বিভিন্ন কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারি দপ্তরের বিপুল সংখ্যক কর্মীদের সহায়তায় নির্বাচন কমিশন ৩৮ দিন ব্যাপী এই ভোটগ্রহণ পর্ব পরিচালনা করে। বিভিন্ন স্থানে মোতায়েন আধাসামরিক বাহিনীর বিপুল সংখ্যক কর্মী অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন সুনিশ্চিত করেন। নির্বাচন কমিশন কোনোরকম হস্তক্ষেপ ছাড়া সুষ্ঠু ভোটগ্রহণ সুনিশ্চিত করার লক্ষ্যে, ভোটদাতাদের প্রলুব্ধ করতে অর্থ, মদ সহ বিভিন্ন সামগ্রীর  ব্যবহার বা আদানপ্রদানের বিষয়ে কড়া নজর রেখেছিল। এই প্রেক্ষিতে বাজেয়াপ্ত করা নিষিদ্ধ সামগ্রীর মোট অর্থমূল্য ৩৪০০ কোটি টাকা। উল্লেখ্য, এবারের নির্বাচনের জন্য সরকারের ব্যয়ের মোট পরিমাণের থেকে বাজেয়াপ্ত করা সামগ্রীর অর্থমূল্য বেশী।

এবারের নির্বাচনে অংশগ্রহণের দিক থেকে ভোটদাতারাও বিশেষভাবে প্রশংসার দাবি রাখেন। মোট ১৭ বার লোকসভা নির্বাচনের মধ্যে এই নিয়ে নবমবার ভোটদানের সংখ্যা ৬০ শতাংশ ছাড়ালো। ভোটদানের এই উচ্চ হার গণতন্ত্রের ওপর দেশের নাগরিকদের গভীর আস্থারই পরিচায়ক।

এবারের সাধারণ নির্বাচনের ভোটগণনা হবে আগামী ২৩ তারিখ। উল্লেখ্য, এবারের ভোটগণনায় নির্বাচিত কিছু বৈদ্যুতিন ভোটযন্ত্রে নথিভুক্ত ভোট সংখ্যার সঙ্গে VVPAT’এ নথিভুক্ত ভোট সংখ্যা মিলিয়ে দেখা হবে। ২০১৯’এর নির্বাচন প্রমাণ করল যে, ব্যালটই হল প্রকৃত গণতান্ত্রিক শক্তির উৎস।

(মূল রচনাঃ মনীশ আনন্দ)