ভারতের চন্দ্রযান-২ মিশন উৎক্ষেপণ

For Sharing

ভারতের দ্বিতীয় চন্দ্র মিশন চন্দ্রযান-২ এবছরের জুলাই মাসে উৎক্ষেপণের পরিকল্পনা করা হয়েছে। সারা দেশের বিভিন্ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান নানান পরীক্ষা নিরীক্ষা এবং তথ্য সংগ্রহের জন্য ১৩টি পেলোড বিকশিত করেছে বলে ভারতের মহাকাশ গবেষনা সস্নগস্থা ইসরো জানিয়েছে। ৩.৮ টন ভর বিশিষ্ট এই মহাকাশ যানে রয়েছে তিনটি মডিউলাস-অরবিটার, ল্যান্ডার (বিক্রম) এবং রোভার (প্রজ্ঞা)।

চন্দ্রযান-১ চন্দ্রের ভূপৃষ্ঠে জলের আবিস্কারের দিক থেকে বিপূল সাফল্য অর্জন করে। সেটি মোট পাঁচটি বিদেশী পেলোড বহন করেছিল। এগুলির মধ্যে তিনটি ছিল ইওরোপের এবং দুটি ছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের। চন্দ্রযান-২ প্রযুক্তিগত দিক থেক উন্নত এবং চন্দ্রের সবচেয়ে আধুনিক মিশন হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

ইসরোর চেয়ারম্যান ডঃ  কে শিবান বলেন ল্যান্ডারের পাঁচ পর্যায়ের এই যান বিক্রম ৬ সেপ্টেম্বর বা তার আগে বা পরে চন্দ্রে অবতরণ করবে এবং রোবোটিক রোভার , প্রজ্ঞা যা চন্দ্রের আশপাশের ভূখন্ডের সমীক্ষা করবে। প্রজ্ঞা চন্দ্র পৃষ্ঠের ৩০০০-৪০০ মিটার পর্যন্ত বিস্তৃত থাকবে। প্রজ্ঞা চন্দ্রে ১৪ পৃত্থি দিবস অবস্থান করবে এবং নানান বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা নিরীক্ষা চালাবে। আর রোভার চন্দ্র পৃষ্ঠের অন্তর্নিহিত বিষয়গুলি  বিশ্লেষণ করবে এবং ১৫ মিনিটের মধ্যে অরবিটারের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ডেটা এবং ছবি পৃথিবীতে পাঠাবে। ৩৮,০০০ কেজি ওজন বিশিষ্ট এই মহাকাশযানে রয়েছে একটি অরবিটার যা ১০০ কিলোমিটার দূরত্ব থেকে চন্দ্রকে পরিবেষ্ঠিত করে রাখবে।

ইসরোর চেয়ারম্যান ডঃ কে শিবান বলেন চন্দ্রযান-২ এই প্রতিষ্ঠানের এযাবৎকালের সবচেয়ে জটিল মিশন কারণ চন্দ্রের দক্ষিণ-মেরুর কাছে নির্বাচিত অবতরণ স্থলে প্রাথমিকভাবে এর হাল্কা অবতরণ আবশ্যক। চন্দ্রযান ১এ মুন ইমপ্যাক্ট তুলনামূলকভাবে এইভাবে তৈরি করা হয় নি। ইসরো জানুয়ারীতে বলেছিল আমরা এমন একটি স্থানে অবতরণ করতে চলেছি সেখানে এপর্যন্ত কেউ যায় নি… তাই এই অঞ্চলের কোনো রকম অনুসন্ধান এখনও হয় নি। চন্দ্রযান ২ প্রায় দশ বছর আগের চন্দ্রযান ১ এর চেয়ে অনেক উন্নত মিশন। চন্দ্রযান ১এ ছিল ১১টি পেলোড-ভারতের পাঁচটি, তিনটি ইওরোপের, ২টি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এবং ১টি বুলগেরিয়ার এবং এই মিশনে চন্দ্র পৃষ্ঠে জল আবিস্কারের কৃতিত্ব অর্জন করা গেছে।                  

যদি ভারত চন্দ্রযান-২এ সফল হয় তবে এই কাজে ভারত হবে চতুর্থ দেশ। এর আগে, রাশিয়া, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং চীন এবং ইস্রায়েল ১২ই এপ্রিল অল্পের জন্য অবতরণে ব্যর্থ হয়। তাদের বেয়ারশীট, লাভার কঠিন আকার নেওয়ার পর সৃষ্ট সমতলে অবতরণের প্রায়াস করে। কিন্তু চন্দ্রযান-২ দক্ষিণ মেরুতে নামার চেষ্টা করছে, একমাত্র চীন ছাড়া কেউ সেখানে  অবতরণের প্রয়াস করে নি।

স্মরণ করা যেতে পারে যে এবছরের জানুয়ারী মাসে চীন তাদের চ্যাং’এ ৪ মহাকাশ যানকে ডার্ক সাইডে অবতরণ করায় আর এটি তুলনামূলকভাবে অপরিচিত।

চন্দ্রযান ২এর সাফল্য ইসরোর মুকুটে আর একটি পালক সংযোজন করবে। মহাকাশ অভিযানের ক্ষেত্রে ভারতের এই মহাকাশ সংস্থা ইতিমধ্যেই একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান করে নিয়েছে। চন্দ্রযান ২ নিঃসন্দেহে এই সাফল্যকে আরো এগিয়ে নিয়ে যাবে। (মূল রচনাঃ যোগেশ সুদ)