নজরদারির সক্ষমতা বাড়াতে মহাকাশে ভারতের নতুন চোখ

For Sharing

ভারত গতকাল ভোরে নজরদারি উপগ্রহ RISAT-2B’এর সফল  উৎক্ষেপণ করেছে। এটি সব ধরণের আবহাওয়ায় সীমান্ত অঞ্চলের অতন্দ্র প্রহরায় বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে। ৬১৫ কিলোগ্রাম ওজনের RISAT-2B ৫ বছর সক্রিয় থাকবে বলে জানানো হয়েছে। সীমান্ত অঞ্চলে অবৈধ অনুপ্রবেশ এবং সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপের মোকাবিলায় এই উপগ্রহ কার্যকর ভূমিকা নেবে। প্রথাগত রিমোর্ট সেন্সিং উপগ্রহগুলি শুধুমাত্র দিনের আলোতেই নির্দিষ্ট স্থানের আলোকচিত্র গ্রহণে সক্ষম। রাতের অন্ধকারে বা মেঘলা দিনে ততটা কার্যকর হয় না। তবে নতুন এই র‍্যাডার ইমেজিং উপগ্রহটিতে বিশেষ ধরণের সিনথেটিক অ্যাপারচার র‍্যাডার রয়েছে, যা যে কোনো ধরণের আবহাওয়ায় র‍্যাডার বিম ব্যবহার করে স্পষ্ট আলোকচিত্র পাঠাতে সক্ষম হবে। RISAT-2B’এর এক্স ব্যান্ড সিনথেটিক অ্যাপারচার র‍্যাডার নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুর গঠন এবং গতিবিধির বিস্তারিত বিবরণ পাঠাতে সক্ষম।

পোলার স্যাটালাইট উৎক্ষেপণযান –PSLV C46, RISAT-2B ছাড়াও আরো দুটি দেশীয় পদ্ধতিতে, স্বল্প ব্যয়ে নির্মিত বিক্রম প্রসেসর এবং এবং ইন্টেরিয়াল নেভিগেশন সিস্টেম বহন করেছে। ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা – ইসরোর চেয়ারম্যান ডঃ ডি কে শিবন জানিয়েছেন, ভারতের ভবিষ্যৎ উৎক্ষেপণ যান সংক্রান্ত মিশনের জন্য এটি একটি বৈপ্লবিক পদক্ষেপ হবে বলে মনে করা হচ্ছে। বিক্রম প্রসেসর ভবিষ্যতে ইসরোর উৎক্ষেপণ যান নিয়ন্ত্রণে বিশেষ ভূমিকা নেবে।

RISAT সিরিজের উপগ্রহগুলি সব ধরণের আবহাওয়ায় উপযোগী ইসরোর প্রথম নজরদারি উপগ্রহ। সবধরণের আবহাওয়ায় কাজ করতে সক্ষম হওয়ায় নিরাপত্তার বাহিনীর কাজকর্ম এবং বিপর্যয় মোকাবিলার ক্ষেত্রে বিশেষ উপযোগী। RISAT-2B মেঘলা দিন বা রাতের অন্ধকারেও নতুন বাঙ্কার চিহ্নিত করতে পারবে।

RISAT-2B খরিফ মরশুমে ফসল উৎপাদনের পরিমাণ নির্ধারণেও বিশেষভাবে সহায়ক হবে। মে থেকে সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত এই খরিফ মরশুমের সময় সাধারণত মেঘলা আকাশ থাকে অথবা বৃষ্টি হয়। বন্যা ও ঘূর্ণীঝড়ের বিস্তারিত তথ্য ছাড়াও বনাঞ্চল, মাটির ধরণ, জমির ব্যবহার ইত্যাদির জন্য RISAT’এর পাঠানো তথ্য বিশেষ সহায়ক হবে।

গত ১০ বছরে RISAT-2B হল ভারতের তৃতীয় র‍্যাডার ইমেজিং স্যাটালাইট। ইসরো ২০০৮এ মুম্বাই জঙ্গি হামলার প্রেক্ষিতে   RISAT’এর পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণের পরিকল্পনায় পরিবর্তন করে। RISAT-2’এর সি ব্যান্ড সিন্থেটিক অ্যাপারচার প্রস্তুত না থাকায়  RISAT-1’এর আগে RISAT-2 উৎক্ষেপণের সিদ্ধান্ত নেয়। ২০০৯’এ RISAT-2 এবং ২০১২ RISAT-1 উৎক্ষেপণ করা হয়। দুটি উপগ্রহেরই কার্যকালের মেয়াদ বর্তমানে সম্পূর্ণ হয়েছে। RISAT-2B, RISAT-2’এর স্থলাভিষিক্ত হবে।

আগামী সময়ে ইসরো মহাকাশ থেকে ভূপর্যবেক্ষণের জন্য আরো বেশ কিছু র‍্যাডার ইমেজিং স্যাটালাইট তৈরির পরিকল্পনা গ্রহণ করছে। এবছরেই আরো চার থেকে পাঁচটি এইধরণের উপগ্রহ উৎক্ষেপণের পরিকল্পনা রয়েছে।

গতকালের এই উৎক্ষেপণ PSLV’র কার্যকারিতাকে আরেকবার প্রমাণ করল। এই যানের মাধ্যমে এখনও পর্যন্ত ৪৮টি উৎক্ষেপণের মধ্যে মাত্র দুটি উৎক্ষেপণ ব্যর্থ হয়েছে। ১৯৯৩ সালে এটি একবার ব্যর্থ হয়। ২০১৭’য় PSLV সাফল্যের সঙ্গে উৎক্ষেপণ করা সম্ভব হলেও বিভিন্ন কারণে নেভিগেশন উপগ্রহ IRNSS-1H কক্ষপথে স্থাপন করা সম্ভব হয় নি। তবে ২০০৮’এ ভারতের প্রথম চন্দ্র অভিযান – চন্দ্রযান -১’এর জন্য PSLV’র সফল ব্যবহার করা হয়। ২০১৩’য় ভারতের প্রথম মঙ্গল অভিযানেও এটি ব্যবহৃত হয়।

আগামী জুলাই মাসে চাঁদে ভারতের পরবর্তী অভিযান – চন্দ্রযান -২ হবে বলে নির্ধারিত রয়েছে। ভারতের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ এবং যুগান্তকারী অভিযান হবে বলে অনুমান করা হচ্ছে।

(মূল রচনাঃ বিমান বসু)