মজবুত সরকার গঠনে ভারতের রায়

For Sharing

ভারতের ভোটদাতাদের বিপুল সমর্থনে ভারতীয় জনতা দল – বিজেপি’র নেতৃত্বে জাতীয় গণতান্ত্রিক জোট – এনডিএ সাধারণ নির্বাচনে উল্লেখযোগ্য ফলাফল করেছে। গত ৩৫ বছরের ইতিহাসে এই প্রথমবার কোনো দল লোকসভায় ৩০৩টি আসন নিয়ে একক সংখ্যা গরিষ্ঠতা অর্জন করল। উন্নয়ন ও জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়টিকে সামনে রেখে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি পর পর দুবার জয়ী হলেন।

সাত দফায় অনুষ্ঠিত এই সপ্তদশ লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি ভারতীয় জনগণের ব্যাপক সমর্থন পেয়েছে। এবারের নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গ ও তেলেঙ্গানায় উল্লেখযোগ্যভাবে আত্মপ্রকাশ করেছে বিজেপি। ভারতের জাতীয় কংগ্রেসের নেতৃত্বে বিরোধী দলগুলি বিশেষ প্রভাব ফেলতে পারে নি। গত পাঁচ বছরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাজকর্ম বহু ভোটদাতাকে আকৃষ্ট করেছে।

গত পাঁচ বছরে এনডিএ ১৩৩টি উন্নয়নমূলক প্রকল্প চালু করার ক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা গ্রহণ করেছে। সরকারের পয়ঃপ্রণালী, রান্নার গ্যাস, ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট, যথাযথভাবে ভর্তুকি পৌঁছে দেওয়ার মতো প্রয়াসকে জনগণ স্বাগত জানিয়েছেন।

জাতীয় নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও এনডিএ সরকার যথেষ্ঠ দৃঢ় পদক্ষেপ নিয়েছে। তারা সন্ত্রাসকে কোনোভাবেই বরদাস্ত না করার স্পষ্ট বার্তা পৌঁছে দিতে সক্ষম হয়েছে। জম্মু ও কাশ্মীর সহ সীমান্তপারের সন্ত্রাসের মোকাবিলায় ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনী অসাধারণ সাফল্য পেয়েছে। পুলওয়ামা সন্ত্রাসবাদী হামলার পর, পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরের বালাকোট, চকোরি এবং মুজফফরাবাদে জৈশ-এ মহম্মদ জঙ্গি গোষ্ঠীর ঘাঁটির বিরুদ্ধে ভারতের অভিযান বিশেষ দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। পাকিস্তানে ভেঙে পড়া ভারতীয় যুদ্ধবিমানের চালক উইং কম্যান্ডার অভিনন্দন বর্তমানকে নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনতেও মোদি সরকার উল্লেখযোগ্য ভূমিকা গ্রহণ করে।

ভারতের পররাষ্ট্র নীতিকেও প্রধানমন্ত্রী মোদি নতুন দিকনির্দেশ দিয়েছেন। ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় প্রতিবেশীদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক স্থাপনে শ্রী মোদির ‘পূবে সক্রিয়’ নীতি নিশেষভাবে কার্যকর হয়েছে। সাফল্যের সঙ্গে ডোকলামে অচল অবস্থা নিরসন এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, চীন, সৌদি আরব, ইরান এবং ইসরায়েলের সঙ্গে আরো ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক স্থাপন ভারতের জনগণকে আকৃষ্ট করেছে। ২০১৯’এর এই সাধারণ নির্বাচনে জাতি, ধর্ম, ভাষা, লিঙ্গ নির্বিশেষ সাধারণ মানুষ শ্রী মোদির সপক্ষে মত দিয়েছেন।

ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সামনে এখন গুরু দায়িত্ব। তাঁকে এখন সাধারণ মানুষের জন্য খাদ্য, অর্থ, বাসস্থান ও শৌচালয়ের সুবিধা প্রদানের ওপর বিশেষভাবে নজর দিতে হবে। মাথা পিছু ২ হাজার ডলার আয়ের হিসেবে ভারত এখন মাঝারি আয় বিশিষ্ট দেশের তালিকাভূক্ত হতে চলেছে। ব্যয়ে সক্ষম দেশের নতুন উদীয়মান শ্রেণী আরো বেশী করে আকাঙ্খা পূরণের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। গ্রামীণ যুব সম্প্রদায়ও শহরের যুব সম্প্রদায়ের পাশাপাশি কর্মসংস্থানের প্রত্যাশী হয়ে উঠছে।

ভারতের অর্থনীতিতেও বিশেষ অগ্রগতি প্রয়োজন। গত পাঁচ বছরে খাদ্য মূল্যে মাঝারি বৃদ্ধি হয়েছে। বিশ্ব বাণিজ্য সংঘাত বা  প্রকৃত যুদ্ধের আশংকার প্রেক্ষিতে পণ্যমূল্যের ওপর প্রতিকূল প্রভাব পড়ার  সংকেত পাওয়া যাচ্ছে।

নতুন সরকারকে সবচেয়ে বেশী গুরুত্ব দিতে হবে কর্মসংস্থান সৃষ্টির ওপর। সরকারের ‘দক্ষ ভারত’ এবং ‘মুদ্রা’ ঋণদান যোজনার ওপর আরো বেশী গুরুত্ব দিতে হবে। শিক্ষা ও উৎপাদনের ওপরেও জোর দিতে হবে।

কর ব্যবস্থাতেও আরো সংস্কার প্রয়োজন। জিএসটি চালু করা হলেও এই ব্যবস্থার আরো সরলীকরণ করতে হবে। এর জন্য জনগণের ক্রয় ক্ষমতা তথা সরকারের রাজস্ব আদায়ের পরিমাণ দুইই বাড়াতে হবে।

২০১৪ সালের তুলনায় এবারে মানুষ আরো বেশী প্রত্যাশা করছেন। ভারতের জনগণের বিশ্বাস, প্রধানমন্ত্রী মোদি সমস্ত সমস্যা সমাধানে এবং দেশের অর্থনীতিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে সক্ষম হবেন। জনগণের আশা আগামী পাঁচ বছরে ভারত একটি নতুন উচ্চতায় পৌঁছবে।

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান সহ বিশ্ব নেতৃবৃন্দ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে অভিনন্দন জানিয়েছেন এবং নতুন বিশ্ব গড়ে তোলার প্রয়াসে তাঁর সঙ্গে একযোগে কাজ করার আশা প্রকাশ করেছেন।

(মূল রচনাঃ শিবাজী সরকার)