ইন্দোনেশিয়ায় জোকো উইডোডো দ্বিতীয়বারের জন্য রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত

For Sharing

প্রায় এক মাস অপেক্ষার পর ইন্দোনেশিয়ায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ফল ঘোষণা করা হল। জোকো উইডোডো দ্বিতীয়বারের জন্য দেশের নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলেন। গত ১৭’ই এপ্রিল অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে ইন্দোনেশিয়ার নতুন রাষ্ট্রপতি ও উপ রাষ্ট্রপতি পদ ছাড়াও দেশের আইন সভা- পিপলস’ কনসাল্টেটিভ অ্যাসেম্বলি ও স্থানীয় সংস্থার নির্বাচনের জন্যেও ভোট নেওয়া হয়।

ইন্দোনেশিয়ার  বৈচিত্রপূর্ণ ভৌগোলিক পরিবেশ, এর আয়তন  ও প্রায় ১৬ কোটি ভোটদাতার সংখ্যার নিরিখে একটি মাত্র দিনে এতগুলি স্তরে এই নির্বাচন সম্পন্ন করা প্রকৃত অর্থেই এক বিস্ময়কর ঘটনা। অবশেষে যাবতীয় জল্পনা কল্পনার অবসান ঘটিয়ে ইন্দোনেশিয়ার নির্বাচন কমিশন-KPU এ মাসের ২১ তারিখে সরকারীভাবে এই নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা করল।

এখানে উল্লেখ করা বোধ হয় অপ্রাসঙ্গিক হবে না, তিনটি গণতান্ত্রিক দেশ ভারত, ইন্দোনেশিয়া ও অস্ট্রেলিয়ার সাধারণ নির্বাচন প্রায় একই সঙ্গে অনুষ্ঠিত হল। ইন্দোনেশিয়ায় জোকো উইডোডো সরকার ও  ভারতে নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে জাতীয় গণতান্ত্রিক জোট- NDA, এবং এরই পাশাপাশি অস্ট্রেলিয়ায় স্কট মরিশন দেশের প্রধানমন্ত্রী পদে বেশ স্বচ্ছন্দেই দ্বিতীয়বারের জন্য ক্ষমতায় ফিরে এলেন। তিনটি দেশে গণতন্ত্রের এই সর্ববৃহৎ উৎসবে, এই বিপুল নির্বাচনী কর্মযজ্ঞে শরিক হলেন প্রায় ১১৫ কোটি ভোট দাতা।

ইন্দোনেশিয়ার কথাই ধরা যাক। দেশে ‘জকই’ নামে জনপ্রিয় জোকো উইডোডো ৫৫ শতাংশের কিছু বেশি ভোট পেলেন। অপরদিকে তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী তথা দেশের বিশেষ বাহিনীর প্রাক্তন কম্যান্ডার প্রবো সুবিয়ান্তো’র অনুকূলে মাত্র ৪৫ শতাংশের মত ভোটদাতা তাঁদের  সমর্থন জ্ঞাপন করলেন। ২০১৪ সালে দেশের বিগত রাষ্ট্রপতি নির্বাচনেও প্রবো সুবিয়ান্তো প্রতিদ্বন্দ্বিতার আসরে ছিলেন এবং এবারের তুলনায় কিছু বেশি ভোট পেয়েছিলেন। এর থেকেই প্রমাণ পাওয়া গেল, জোকো উইডোডো এবারের নির্বাচনে আগের তুলনায় অধিক সংখ্যক ভোট দাতার আস্থাভাজন হতে সফল হয়েছেন।

ইন্দোনেশিয়ায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের পাশাপাশি দেশের সংসদ-পিপলস’ কনসাল্টেটিভ অ্যাসেম্বলির নির্বাচনেও জোকো উইডোডোর নেতৃত্বাধীন Indonesian Democratic Party of Struggle (PDIP), প্রায় দু কোটি ৭০ লাখ ভোটদাতার সমর্থন পেয়ে একক সর্ববৃহৎ দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে।  দ্বিতীয় স্থান পেয়েছে Garindra  Party; এই দল পেয়েছে প্রায় এক কোটি ৭৬ লাখ ভোট।

এদিকে এই নির্বাচনে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ তুলে প্রবো সুবিয়ান্তো ও তাঁর সমর্থকদের  বিক্ষোভ আন্দোলনের জেরে রাজধানী জাকার্তায় দাঙ্গা হাঙ্গামায় ৬ জন নিহত ও দুই শতাধিক আহত হয়েছে। পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে এলেও আরও যে কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম সাময়িক ভাবে ব্লক করা হয়েছে।

ইন্দোনেশিয়ার রাষ্ট্রপতি পদে  জোকো উইডোডো ও ভারতে প্রধানমন্ত্রী পদে নরেন্দ্র মোদি পুনর্নির্বাচিত হওয়ায় দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছুবে বলেই সকল মহলের দৃঢ় বিশ্বাস। আর্থিক বিকাশ, শান্তি ও  স্থিতিশীলতা ছাড়াও সন্ত্রাসবাদ ও অন্যান্য নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ প্রসঙ্গে দুই দেশের এক অভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে। দুটি দেশ পূর্ব এশিয় শিখর সম্মেলন ও ASEAN আঞ্চলিক মঞ্চ ছাড়াও G-20 সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য দেশ।

২০১৮’তে প্রধানমন্ত্রী মোদির ইন্দোনেশিয়া সফরে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক সর্বাত্মক কৌশলগত অংশীদারিত্বের পর্যায়ে উন্নীত করা হয়। ইন্দোনেশিয়ার ‘বিশ্ব সমুদ্র নীতি’ ও ভারতের ‘পূবে সক্রিয় হও’ নীতির অভিন্ন লক্ষ্য হল এই অঞ্চলের সকল দেশের জন্যই নিরাপত্তা ও উন্নয়ন। দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ এখন প্রায় ২০০০ কোটি মার্কিন ডলার; ২০২৫ নাগাদ এই পরিমাণ প্রায় ৫০০০ কোটি মার্কিন ডলার মাত্রায় নিয়ে যাবার লক্ষ্য ধার্য করা হয়েছে।

রাষ্ট্রপতি জোকো উইডোডো ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আবার পাঁচ বছরের জন্য ক্ষমতায় ফিরে আসায় দুটি দেশের নেতৃত্ব দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ  সহযোগিতা ক্ষেত্রে বর্তমান প্রতিবন্ধকতা গুলি দূর করা ছাড়াও সহযোগিতার নতুন নতুন ক্ষেত্র চিহ্নিত করতে আন্তরিকভাবে আগ্রহী হবে বলেই সকলের প্রত্যাশা।  (মূল রচনাঃ- ডঃ রাহুল সিনহা)