দ্বিতীয় মোদি সরকার শপথ গ্রহণ করল

For Sharing

বিপুল গণসমর্থন নিয়ে শ্রী নরেন্দ্র মোদি গতকাল ভারতের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দ্বিতীয়বার শপথ গ্রহণ করলেন। রাষ্ট্রপতি রাম নাথ কোবিন্দ প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রীসভার ৫৮ জন সদস্যকে মন্ত্রগুপ্তির শপথবাক্য পাঠ করান। ভারতীয় জনতা পার্টি এবং শরিক দলের সদস্যরা ছাড়াও প্রাক্তন শীর্ষ আমলা সুব্রমণিয়ম জয়শঙ্কর মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। শ্রী জয়শঙ্করের অন্তর্ভূক্তি এবারের অন্যতম চমক। শ্রী জয়শঙ্কর ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব  পালন করেছেন। চীনের বিষয়ে তাঁর অভিজ্ঞতা বিশেষ উল্লেখযোগ্য। বিজেপি’র সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহ এবার মন্ত্রীসভার অন্তর্ভূক্ত হয়েছেন। তিনিও এই নতুন  সরকারে গুরুত্ব্পূর্ণ দায়িত্ব পালন করবেন বলে অনুমান।

শ্রী মোদি এবারের জনমতকে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষজনের আশা-আকাঙ্খার প্রতিফলন বলে উল্লেখ করেছন। এবারের মন্ত্রিসভাতে সর্বভারতীয় চরিত্র প্রতিফলিত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী ইতিমধ্যেই জানিয়েছেন, তাঁর সরকার জাতীয় উচ্চাকাঙ্খা এবং আঞ্চলিক আকাঙ্খার ভিত্তিতেই পরিচালিত হবে। একে তিনি সংক্ষেপে আখ্যা দিয়েছেন NARA. তিনি আরো জানিয়েছেন, সর্বাত্মক বিকাশ এবং সুপ্রশাসনই তাঁর সরকারের মূল লক্ষ্য হবে।

ধারাবাহিকতা বজায় রেখে পরিবর্তন – এই মূলমন্ত্রটি মন্ত্রীসভার নির্বাচনেও লক্ষ্য করা গেছে। রাজনাথ সিং, নীতিন গড়করি, রামবিলাস পাসোয়ান, নরেন্দ্র সিং তোমর, পীযূষ গোয়েল, স্মৃতি ইরানী দ্বিতীয়বারের জন্য মন্ত্রীসভার সদস্য হয়েছেন। গজেন্দ্র সিং শেখাওয়াত, গিরিরাজ সিং এবং মহেন্দ্র নাথ পান্ডে তাঁদের উল্লেখযোগ্য অবদানের জন্য এবারে ক্যাবিনেট মন্ত্রী পদে উত্তীর্ণ হয়েছেন। উল্লেখ্য, ৫৮ জন সদস্য বিশিষ্ট এই মন্ত্রীসভায় ২৪ জন ক্যাবিনেট মন্ত্রী, ৯ জন স্বাধীন দায়িত্বপ্রান্ত প্রতিমন্ত্রী এবং ২৪ জন প্রতিমন্ত্রী রয়েছেন।

এবারের মন্ত্রীসভায় আরেকজন উল্লেখযোগ্য সংযোজন হলেন ওড়িশার বালাসোর সংসদীয় ক্ষেত্রের প্রতাপচন্দ্র সারঙ্গি। তাঁর আড়ম্বরহীন জীবনযাত্রা এবং মানবসেবায় তাঁর অনন্য ভূমিকা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সহ বহু মানুষকে অনুপ্রাণিত করেছে।

গতকাল নতুন মন্ত্রীসভার শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়ে সপ্তদশ লোকসভা নির্বাচনের প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হয়েছে। প্রথম ক্যাবিনেট বৈঠকে লোকসভার সদস্যদের শপথ গ্রহণের জন্য সংসদের একটি স্বল্পকালীন অধিবেশন ডাকা হবে।

উল্লেখ্য, এবারে দেশের জনগণের ৬৭ শতাংশ অর্থাৎ ৯০ কোটিরও বেশি মানুষ শ্রী মোদির উন্নয়নমূলক নীতিকে সমর্থন জানিয়েছেন। উন্নয়নের লক্ষ্যে নিবেদিত সরকার বিশ্ব অর্থনীতির জন্যও তাৎপর্যপূর্ণ। বর্তমান বিশ্ব অর্থনীতি পরিস্থিতি নতুন সরকারের সামনে বিশেষ উদ্বেগের বিষয় হয়ে উঠতে পারে। ইতিমধ্যেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে বাণিজ্য সংঘাত, ইরানের ওপর নতুন করে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার ফলে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে সংকট দেখা দিয়েছে। এর ফলে অপরিশোধিত তেলের মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে এবং ভারতের মুদ্রাস্ফীতির ওপরেও এর প্রতিকূল প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। মোদি সরকার পূর্ববর্তী সময়কালে মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে অনেকাংশেই সফল হয়েছে। এই সাফল্য বজায় থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে। নতুন সরকার কৃষিক্ষেত্র এবং কৃষকদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করবে বলেও আশা করা হচ্ছে।

রাষ্ট্রপতি ভবনে আয়োজিত গতকালের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে BIMSTEC  দেশগোষ্ঠীর প্রধানরা উপস্থিত ছিলেন। কিরগিজস্তানের রাষ্ট্রপতি এবং মরিশাসের প্রধানমন্ত্রীও ঐ অনুষ্ঠানে যোগ দেন। ভারতের ‘প্রতিবেশীদের অগ্রাধিকার’ নীতিই এতে প্রতিফলিত হয়েছে। এতে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে যে, ভারত সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের সামগ্রিক উন্নতিতে আগ্রহী।

(মূল রচনাঃ মনীশ আনন্দ)