কৃষকদের জন্য নতুন সরকারের নীতি

For Sharing

দ্বিতীয় নরেন্দ্র মোদি সরকারের প্রথম মন্ত্রীসভার বৈঠকে তাৎপর্যপূর্ণ এবং যথার্থভাবেই কৃষিক্ষেত্র এবং কৃষকদের কল্যাণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বৈঠকে ‘প্রধানমন্ত্রী কৃষি সম্মান যোজনা’কে আরো প্রসারিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এর আওতায় ভারতের ১৪ কোটি ৫০ লক্ষ কৃষককে বছরে ৬ হাজার টাকা করে অনুদান দেওয়া হবে।

এছাড়াও ১ কোটিরও বেশী কৃষককে আয় সহায়তা হিসেবে ২ হাজার টাকা করে দেওয়া হবে। কেন্দ্রীয় কৃষি মন্ত্রক জানিয়েছে, ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের আর্থিক সহায়তাদানের লক্ষ্যে সরকার প্রধানমন্ত্রী সম্মাননিধি বা PM KISAN যোজনা চালু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এটি লোকসভা নির্বাচনের কিছু আগে গোরখপুরে ঘোষিত কর্মসূচীরই অঙ্গ।

পিএম কিসান হল, মূলতঃ আর্থিক অন্তর্ভূক্তিকরণ কর্মসূচী। এর আওতায় নির্ধারিত অর্থ কৃষকের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে সরাসরি পৌঁছে যাবে। প্রাথমিকভাবে ২০১৯-২০’র ভোট অন অ্যাকাউন্ট বাজেটে এই কর্মসূচীর  ঘোষণা করা হয়েছিল। ২ হেক্টর বা তার থেকে কম জমি রয়েছে এমন ১২ কোটি ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের প্রতি বছর ৩ বারে মোট ৬ হাজার টাকা করে দেওয়া হবে। দেশে কৃষি সমস্যার মোকাবিলায় এই কর্মসূচীর পরিকল্পনা করা হয়েছে।

ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের ব্যাঙ্ক ব্যবস্থায় অন্তর্ভূক্তিকরণ এখনও ব্যাপক নয়। ফলে এই শ্রেণীর কৃষকদের জন্য কৃষি ঋণ মকুবের মতো কর্মসূচী ততটা ফলপ্রসূ হয় না। তাছাড়া অনেক ক্ষেত্রে কৃষি ঋণ মকুবের সিদ্ধান্ত বিভিন্ন রাজ্যের সরকারি অর্থ ব্যবস্থার ওপর প্রতিকূল প্রভাব ফেলে।

প্রধানমন্ত্রী কিসান যোজনা সার্বিকভাবে খাদ্য শস্য, তৈল বীজ, তুলো ও আখ চাষের বৃহত্তর উৎপাদনের ক্ষেত্রের বিভিন্ন সমস্যা নিরসনেও সহায়ক হবে।

সরকার বর্তমানে ‘কর্মসংস্থান সুনিশ্চিতকরণ নীতি’র পরিবর্তে ‘সুনিশ্চিত আয়ের নীতি’র ওপর বেশীও গুরুত্ব দিচ্ছে। ‘সুনিশ্চিত আয়’ ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষক সহ সমাজের সমস্ত প্রান্তিক শ্রেণীর মানুষকে প্রকৃত মর্যাদা ও ক্ষমতা প্রদান করবে। যদিও তা কৃষিক্ষেত্রের পরিকাঠামো সংক্রান্ত সমস্যার স্থায়ী সমাধান নয়।

কৃষিক্ষেত্রের বিকাশের জন্য মূলধনের উৎস সুনিশ্চিত করতে হবে। কৃষিক্ষেত্রের বিকাশের হার ১৪ থেকে ১৫ শতাংশ হলে আগামী ৫ বছরে কৃষকদের আয় দ্বিগুণ করার লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করা সম্ভব হবে। জলসেচের ব্যবস্থা নতুনভাবে ঢেলে সাজাতে হবে কারণ এখনও পর্যন্ত কৃষিক্ষেত্রের একটি বড় অংশ বর্ষার উপর নির্ভরশীল।

তবে এই ধরণের কর্মপরিকল্পনা রূপায়ণে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীসভায় যে আর্থিক প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে, সরকারকে তার সঙ্গে বরাদ্দ অর্থের সংস্থানের বিষয়টিও খতিয়ে দেখতে হবে। অন্যান্য বহু দেশে এই বিষয়টি খতিয়ে দেখার জন্য একটি আর্থিক পরিষদ থাকে। PM KISAN কর্মসূচীর বাস্তবায়নে এটি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ।

অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমন যে বাজেট পেশ করবেন তাতে এই কর্মসূচীর বরাদ্দের বিষয়টি আরো স্পষ্ট হবে। আগামী বাজেটে কৃষি ক্ষেত্রের ওপর  গুরুত্ব দেওয়া হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

পিএম কিসান সম্মান যোজনার পুরো আর্থিক ব্যয়ভার কেন্দ্রের। তবে ভবিষ্যতে এই কর্মসূচী কেন্দ্র ও রাজ্যের আর্থিক অংশীদারিত্বেও রূপায়িত হতে পারে বলে অনুমান। তবে সার্বিকভাবে জনকল্যাণের দিক থেকে এটি একটি দৃঢ় পদক্ষেপ বলে মনে করা হচ্ছে। বহু রাজ্যও তাদের কৃষক কল্যাণ কর্মসূচী নতুনভাবে রূপায়ন করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

আর্থিক বিকাশের হার সব ক্ষেত্রে মানব বিকাশকে সুনিশ্চিত করতে পারে না, সুতরাং পিএম কিসানের মতো কর্মসূচী দেশের সাধারণ কৃষকদের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে বিশেষভাবে প্রয়োজন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ‘সবকা সাথ, সবকা বিকাশ, সবকা বিশ্বাস’ এবং ‘কেউ পিছিয়ে থাকবে না’ – এই বার্তার বাস্তবায়নে এই কর্মসূচি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। এর মাধ্যমে দেশের প্রান্তিক মানুষের মর্যাদা বৃদ্ধি পাবে এবং ক্ষমতায়ন হবে; ফলে অদূর ভবিষ্যতে দেশের আর্থিক বিকাশে তাদের অংশগ্রহণ আরো সহজ হবে।

( মূল রচনাঃ লেখা চক্রবর্তী )