ভারতীয় অর্থনীতির যাত্রা এক নতুন শিখরের দিশায়

For Sharing

এই বছরের মধ্যেই ভারত গ্রেট ব্রিটেনের থেকে এগিয়ে  বিশ্বের পঞ্চম বৃহত্তম অর্থনীতি এবং ২০২৫ সালের মধ্যে জাপানকে অতিক্রম করে এশিয়া- প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি হতে চলেছে। সাম্প্রতিক এক রিপোর্টে এমনটাই বলা হয়েছে। লন্ডেন-ভিত্তিক একটি সংস্থা ‘IHS Markit’  দেশের সাধারণ নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও তাঁর দলের জয়ের প্রসঙ্গে জানায় যে মোদী সরকারে দ্বিতীয় দফায় অর্থনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গী সদর্থক হবে এবং দেশের মোট অভ্যন্তরীণ উৎপাদন বা GDP বৃদ্ধির হার ২০১৯ থেকে ২০২৩ পর্যন্ত সময়কালে গড়ে বছরে ৭ শতাংশের আশেপাশে থাকবে বলে ইঙ্গিত দিয়েছে। তাদের মতে ভারতের মোট অভ্যন্তরীণ উৎপাদন হবে ৩ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার।

 বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতির দিশায় ভারতের স্থান ক্রমেই ওপরের দিকে উঠে আসায়, বিশ্বের মোট অভ্যন্তরীণ উৎপাদন হারের গতিতে ভারতের অবদানও বেড়ে চলেছে। এশীয় আঞ্চলিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগে সহায়তা বাড়িয়ে এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলেও ভারত অর্থনৈতিক বিকাশের চালিকা শক্তি হিসেবে এক গুরুত্বপূর্ণ দেশের ভূমিকা পালন করছে। 

শ্রী মোদীর দ্বিতীয় দফার শাসনকালে ভারত বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হতে পারে। তাদের রিপোর্টে IHS Markit জানিয়েছে যে, ভারত সরকারের প্রধান অগ্রাধিকারমূলক নীতি হবে রাষ্ট্রায়াত্ব ক্ষেত্রের ব্যাঙ্কগুলির সংস্কার চালিয়ে যাওয়া এবং তাদের ব্যালান্স শীট থেকে অনুৎপাদক ঋণের বোঝা কমিয়ে আনা।

দেশের  GDPতে উৎপাদন ক্ষেত্রের অবদান নির্ধারিত ২৫ শতাংশের তুলনায় এখনও মাত্র ১৮ শতাংশ  হলেও আগামী দুই দশকে ভারতীয় কর্মীসংখ্যা গড়ে প্রতি বছরে প্রায় ৭৫ লক্ষ হবে বলে জানানো হয়েছে।

 রিপোর্টে বলা হয়েছে ২০১৫ থেকে ২০৫০ সালের মধ্যে ভারতের মোট জনংখ্যা বৃদ্ধি পেতে পারে প্রায় ৩৫ কোটি  এবং এই বর্ধিত জনসংখ্যার জন্য বিদ্যুৎ, পরিস্কার –পরিচ্ছন্নতা, কম খরচে আবাসন এবং গণ পরিবহণের মতো পর্যাপ্ত পরিকাঠামো প্রদান করা সরকারের কাছে অবশ্যই এক গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠবে।

 উৎপাদন ক্ষেত্রের আউটপুট বাড়ানো এবং মজবুত কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’র মাধ্যমে দেশের শিল্প ক্ষেত্রের রূপান্তরণ চালিয়ে যাওয়া এক কৌশলগত অগ্রাধিকার হবে। ২০১৪ সালে যখন ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ চালু করা হয়েছিল, তখন উৎপাদন ক্ষেত্রের  GDPতে অবদান ২৫ শতাংশ ধার্য করা হয়েছিল, কিন্তু ২০১৮ সালেও GDPতে এই উৎপাদন ক্ষেত্রের অবদান ১৮ শতাংশেই সীমিত রয়েছে।

 প্রধানমন্ত্রী মোদীর প্রথম দফার শাসনকালে পরিকাঠামো উন্নয়নে ব্যাপক উন্নতি হলেও পরিবহণ ও বিদ্যুৎ পরিকাঠামোর মতো প্রধান প্রধান ক্ষেত্রে দ্রুত পরিকাঠামো উন্নয়ন এখনও প্রয়োজনীয় অগ্রাধিকার এবং একই সঙ্গে সরকারি নিয়ন্ত্রণ ও লাল ফিতের ফাঁস এই সব ক্ষেত্রে কমানোরও প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। বিশ্ব ব্যাঙ্কের সহজে ব্যবসা করার বিষয়ে ২০১৯-এর সূচকে  ১৯০ টি দেশের মধ্যে ভারতের স্থান ৭৭।

 ব্যাপক জন-সমর্থন নিয়ে সাধারণ নির্বাচনে জয়লাভ আগামী পাঁচ বছরে ভারতে আর্থিক নীতির ধারাবাহিকতা প্রদান করবে।  এই জন-সমর্থন দেশকে এক মজবুত সরকার প্রদান করেছে তাই জোট রাজনীতির কারণে সরকার দুর্বল হয়ে পড়ার মতো সরকারের সামনে কোনো ঝুঁকি নেই এবং এই ধরণের পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে আর্থিক সংস্কার প্রক্রিয়ার গতি স্লথ হয়ে পড়ত।

 প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে ভারতের সমষ্টিকেন্দ্রিক আর্থিক পরিস্থিতি গত পাঁচ বছরে অনেকটাই মজবুত হয়েছে বলে জানিয়ে  IHS Markit তাদের রিপোর্টে বলেছে যে দেশের সাধারণ নির্বাচনের ফলাফলে দেশ গঠনে সরকারের আর্থিক দিশার প্রতি ভোটদাতাদের আস্থা স্পষ্ট প্রতিভাত হয়েছে ।

 ২০১৪ সালে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী দায়িত্বভার নেওয়ার পর থেকে ভারতীয় GDP ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ২০১৪র ২ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার থেকে ২০১৯-এ ৩ ট্রিলিয়ান মার্কিন ডলার হয়ে যাবে বলে  মনে করা হচ্ছে, আর যদি তা হয় তবে ৫ বছরে মোট GDP বাড়বে ১ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর শাসনকালে যে সব বিশেষ বিশেষ আর্থিক নীতির সংস্কার চালানো হয়েছে সেগুলির মধ্যে অন্যতম হল ২০১৭ সালে  ভারতে এক অভিন্ন অপ্রত্যক্ষ কর ব্যবস্থা চালু করার লক্ষ্যে পণ্য ও পরিষেবা কর বা GST রূপায়ন এবং এর ফলে পূর্বতন জটীল কর ব্যবস্থা যেখানে ভিন্ন ভিন্ন রাজ্যে ভিন্ন ভিন্ন কর হার থাকায়  বিভিন্ন রাজ্যে পণ্য বিক্রয়কারী কোম্পানিগুলির লজিস্টিক খরচের হার ছিল বেশি। পণ্য ও পরিষেবা কর এই লজিস্টিক খরচকে কমাতে সাহায্য করবে এবং একই সঙ্গে শিল্পভিত্তিক প্রতিযোগিতাপূর্ণ মনোভাবের উন্নতি ঘটাবে।

[মূল রচনা- পদম সিং]