GSP মর্যাদা প্রত্যাহার বৈষম্যমূলক

For Sharing

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভারতকে প্রদত্ত অভিন্ন বাণিজ্যিক অগ্রাধিকার প্রণালী বা GSP’র মর্যাদা এবছরের ৫ই জুন তারিখ থেকে প্রত্যাহারের কথা ঘোষণা করেছে। উল্লেখ করা যেতে পারে, সাধারণত শিল্পোন্নত দেশগুলি বিকাশশীল দেশগুলিকে  GSP’র দিয়ে মর্যাদা থাকে। এই মর্যাদা কোন বৈষম্য না রেখে একতরফাভাবেই দেওয়া হয়ে থাকে। GSP’র আওতায় এই সুবিধাভোগী দেশগুলি তাদের কয়েকটি পণ্য বিনা শুল্কে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রপ্তানি করতে পারে। দেখা গেছে, এর ফলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং সংশ্লিষ্ট দেশগুলির মধ্যে তাদের বাণিজ্যিক সম্পর্ক সম্প্রসারিত হয়েছে যা উভয় দেশের ক্ষেত্রেই লাভজনক প্রমাণিত হয়েছে। ভারত এই সুবিধার আওতায় প্রায় তিন হাজার পণ্য বিনা শুল্কে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বিক্রি করতে পারে। ২০১৮ সালে এই ধরণের পণ্য রপ্তানির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৬২০ কোটি মার্কিন ডলার।

দুগ্ধ পণ্য ও চিকিৎসা উপকরণ উৎপাদনকারী কয়েকটি  মার্কিন সংস্থার পক্ষ থেকে  তাদের ব্যবসায়িক স্বার্থহানির অভিযোগের  কারণে ওয়াশিংটন  ২০১৮ সালের এপ্রিল মাসে GSP সুবিধা পর্যালোচনা শুরু করে। সেই অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্প ২০১৯’এর ৫’ই জুন থেকে ভারতকে GSP সুবিধাভোগী রাষ্ট্রের তালিকা থেকে বাদ দেবার বিষয়টি কার্যকর বলে ঘোষণা করেছেন। WTO’র সদস্য,এমন  বিকাশশীল দেশ গুলিকে যে বিশেষ কিছু  বাণিজ্যিক সুবিধা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র দিয়ে থাকে, সেগুলিও রাষ্ট্রপতি ট্রাম্প ভারতকে আর না দেবার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। মার্কিন রাষ্ট্রপতি বলেছেন, তাঁর দেশে তৈরি কিছু দুগ্ধজাত পণ্য, কৃষি পণ্য ও চিকিৎসা উপকরণ  ভারত সরকার, সে দেশের বাজারে প্রবেশের অনুমতি না দেওয়ায় নতুন দিল্লিকে প্রদত্ত GSP সুবিধা  প্রত্যাহার করে নেওয়া হল।  তিনি আরও বলেছেন, একমাত্র বিকাশ শীল দেশগুলিই এই GSP সুবিধা পাবার যোগ্য; আর ভারত যেহেতু এখন আর বিকাশশীল দেশ হিসেবে গণ্য নয়, তাই সে এখন থেকে এই সুবিধা পেতে পারে না। উল্লেখ্য, মার্কিন বাণিজ্য মন্ত্রী উইলবার রস তাঁর সাম্প্রতিক নতুন দিল্লি সফরে,  মার্কিন চিকিৎসা সরমজাম ও টেলিযোগাযোগ উপকরণ আমদানির ওপর ভারত সরকারের নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থাপনার বিরুদ্ধে আপত্তি ব্যক্ত করেন।

এদিকে ভারতকে প্রদত্ত GSP সুবিধা প্রত্যাহারের ঘোষণাকে বিশেষজ্ঞ মহল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শিল্প সংরক্ষণবাদ নীতিরই প্রমাণ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তাঁরা বলেছেন, রাষ্ট্রপতি ট্রাম্পের অনুসৃত আন্তর্জাতিক বাণিজ্য নীতি সে দেশে এর আগেকার সরকারগুলির অনুসৃত নীতির পরিপন্থী। আর এর ফলে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে অহেতুক বাণিজ্য বিরোধের সৃষ্টি হবে। বর্তমান মার্কিন- চীন বাণিজ্যিক লড়াই তারই প্রমাণ।

ভারতীয় শিল্প  মহাসংঘ বলেছে  ওয়াশিংটন সব দিক বিবেচনা না করেই চটজলদি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে যা ভারতীয় রপ্তানি কারকদের স্বার্থ ক্ষুণ্ন করবে। উভয় পক্ষ আলাপ আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টির একটি সন্তোষজনক নিষ্পত্তিতে পৌঁছুবে বলে এই সংস্থা আশা ব্যক্ত করেছে।

ভারত, ওয়াশিংটনের এই সিদ্ধান্তকে দুর্ভাগ্যজনক আখ্যা দিয়েছে; এবং বলেছে, এর ফলে দুটি দেশেরই বাণিজ্যের ক্ষতি হবে। GSP সুবিধা প্রত্যাহারের কারণে অলংকার, চামড়া, রাসায়নিক ও প্লাস্টিক পণ্য, কৃষি, ওষুধপত্র ও শল্য চিকিৎসার উপকরণ সহ ভারতের বেশ কয়েকটি শিল্পের ওপর প্রতিকূল প্রভাব এড়াতে সরকার ইতিমধ্যেই বেশ কিছু ব্যবস্থার কথা ঘোষণা করেছে।

ব্যবসায়িক স্বার্থ রক্ষার জন্য অন্যান্য দেশের বাজার খুঁজতে  রপ্তানিকারকদের উৎসাহ দিতে হবে।   মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে সংযত করতে মার্কিন পণ্য আমদানির  ওপরেও শুল্ক ধার্য করা যেতে পারে। তবে  দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ওপর কোনও প্রতিকূল প্রভাব পড়ে  এমন কোনো সিদ্ধান্ত ভারত নেবে না বলে স্পষ্ট জানিয়েছে।  ভারতের প্রয়োজন ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শিল্প স্বার্থের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রেখে নতুন দিল্লি ও ওয়াশিংটনকে, দু পক্ষের কাছেই গ্রহণযোগ্য একটি সমাধান সূত্র খুঁজে দেখতে হবে। (মূল রচনাঃ ডঃ স্তুতি ব্যানার্জী)