দেশের জল সংকট নিবারণে জল শক্তি মন্ত্রকের ভূমিকা

For Sharing

বলা হয় জলই জীবন; অথচ বিশ্বের প্রায় ৮৫ কোটি মানুষ জীবন ধারণের জন্য অতি প্রয়োজনীয় এই মৌলিক উপাদানের সুবিধা থেকে প্রায় বঞ্চিত। বিশ্ব অর্থনৈতিক মঞ্চের প্রকাশিত এক রিপোর্ট অনুযায়ী  প্রধানত যে চারটি কারণে মানব সমাজের অস্তিত্ব বিপন্ন হতে পারে তার মধ্যে জল সংকট অন্যতম।

সমগ্র বিশ্বের প্রসঙ্গ ছেড়ে দিয়ে ভারতের কথাই ধরা যাক। আমাদের দেশও তীব্র জল সংকটের মুখে। জলের লভ্যতা ও গুণমানের দিক থেকে বিগত কয়েক দশকে শহরাঞ্চলের পরিস্থিতিতে উল্লেখযোগ্য উন্নতি হলেও গ্রাম ভারতের অধিকাংশ অঞ্চলের মানুষ এই ধরণের সুবিধা থেকে এখনও প্রায় বঞ্চিতই রয়ে গেছেন।

জল সম্পদের উৎসগুলি জৈব ও রাসায়নিক বর্জ্যে ক্রমাগত দূষিত হচ্ছে। । সমীক্ষায় দেখা গেছে, ২১ শতাংশের মত রোগ ব্যাধির কারণ দুষিত জল। দেশের জল সম্পদের এক বড় অংশ কৃষিকাজের প্রয়োজন পূরণে খরচ হয়ে যায়। পাশাপাশি জন সংখ্যার দৈনন্দিন  জীবন যাত্রায় জলের ব্যবহারও ক্রমশ বাড়ছে।  এই সব কারণে ভূগর্ভস্থ জল স্তর ক্রমশ নীচে নেমে যাচ্ছে আর জল সংকটও ক্রমশ তীব্র আকার ধারণ করছে।

নীতি আয়োগের সাম্প্রতিক সমীক্ষা অনুযায়ী, ভারতের প্রায় ৬০ কোটি মানুষ তীব্র থেকে চরম জল কষ্টের মধ্যে রয়েছেন। ৭৫ শতাংশের মত পরিবারের গৃহে পানীয় জলের সুবিধা নেই। দূষিত পানীয় জলের কারণে প্রতি বছর প্রায় দু লাখ মানুষের মৃত্যু হয়। প্রতি বছর এপ্রিল থেকে জুলাই এই গ্রীষ্ম মরশুমে দেশের অন্তত ৮ টি রাজ্যে জল কষ্ট জনিত পরিস্থিতি চরমে পৌঁছয়। দিন দিন জলবায়ূ পরিবর্তন ও বিশ্ব উষ্ণায়ন পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তুলছে।

ক্রমবর্ধমান জল সংকটের মোকাবিলায় সরকার ‘জল শক্তি’  নামে একটি নতুন মন্ত্রক সৃষ্টি করেছে। এই মন্ত্রক নির্মল পানীয় জল সরবরাহ ছাড়াও দেশের জল সংকটের মোকাবিলায় একটি সার্বিক কর্মসূচি রূপায়ণ করবে। বর্তমানের তিনটি মন্ত্রকের একীকরণ ঘটিয়ে এই জল শক্তি মন্ত্রক গঠন করা হয়েছে। এগুলি হলঃ জল সম্পদ মন্ত্রক; নদী উন্নয়ন ও গঙ্গা পুনরুজ্জীবন মন্ত্রক এবং পানীয় জল ও পরিচ্ছন্নতা মন্ত্রক। নব গঠিত এই জল শক্তি মন্ত্রকের অগ্রাধিকার প্রাপ্ত ক্ষেত্রগুলির মধ্যে আছে বিশুদ্ধ পানীয় জল সরবরাহ; আন্তর্জাতিক ও আন্তঃরাজ্য জল বিবাদের মীমাংসা এবং গঙ্গা ও তার শাখানদীগুলিকে দূষণ মুক্ত করা।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তাঁর নির্বাচনী প্রচারাভিযানে দেশবাসীকে আশ্বাস দিয়ে বলেছিলেন, দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় এলে তাঁর সরকারের অন্যতম  অগ্রাধিকার প্রাপ্ত বিষয়  হবে  নির্মল পানীয় জল সকল মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া। এই উদ্দেশ্যে একটি নতুন মন্ত্রক গঠন করা হবে বলেও তিনি দেশবাসীকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। উল্লেখ করা যেতে পারে, বর্তমানে বেশ কয়েকটি মন্ত্রক পৃথক পৃথকভাবে দেশের জল সমস্যার মোকাবিলায়  নিজ নিজ কর্মসূচি রচনা করে থাকে। যেমন- বন ও পরিবেশ মন্ত্রকের দায়িত্ব নদীর জল সংরক্ষণ; আবার আবাসন ও শহরাঞ্চলীয় মন্ত্রক শহরাঞ্চলীয় জল সরবরাহ ব্যবস্থাটির তদারক করে থাকে। এছাড়াও অতি ক্ষুদ্র সেচ প্রকল্পগুলি কৃষি মন্ত্রকের আওতায় পড়ে।

নতুন সরকার জানিয়েছে, জল সম্পদ, পানীয় জল ও পরিচ্ছন্নতা  বিষয়ক মন্ত্রকগুলির একীকরণ ছাড়াও নব গঠিত জল শক্তি মন্ত্রক  দেশের জলের সামগ্রিক চাহিদা ও জোগানকে পাশাপাশি রেখে জল সঙ্কট মোকাবিলার একটি সর্বাত্মক কর্মসূচি হাতে নেবে। এই মন্ত্রক কৃষি মন্ত্রকের সঙ্গে  একযোগে কাজ করবে। সেই অনুযায়ী দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ভিন্ন ভিন্ন আবহাওয়ায় উৎপাদনের উপযোগী কৃষি পণ্যের চাষ ছাড়াও  জল সাশ্রয়কারী সেচ প্রযুক্তির ব্যবহারের  বিষয়েও পরামর্শ দেবে এই মন্ত্রক।

(মূল রচনাঃ- বিমান বসু)