5G  প্রযুক্তি ব্যবহার করতে চলেছে ভারত

For Sharing

আগামী ১০০ দিনের মধ্যে ভারতে 5G মোবাইল যোগাযোগ প্রযুক্তির পরীক্ষামূলক প্রয়োগ শুরু হয়ে যাবে। এই প্রজন্মের মোবাইল ফোন নেটওয়ার্কে থাকবে অনেক বেশী নেটওয়ার্ক দ্রুততা,  তথ্য প্রাপ্তির দ্রুততা এবং বর্তমানের  4G নেটওয়ার্কের তুলনায় এর নির্ভরযোগ্যতা আরও বৃদ্ধি পাবে।

এই নতুন  5G প্রযুক্তি পরিষেবার জগতে এক বিবর্তন ও বিপ্লব ঘটাতে পারে এবং দেশের ওপর এর ব্যাপক প্রভাব পড়বে। বর্তমানে দেশে চলা 2G, 3G এবং 4G মোনবাইল নেটওয়ার্কগুলির এক পরিপূরক হিসেবে  5G নেটওয়ার্ক কাজ করবে বলে মনে করা হচ্ছে। ডিজিটাল বিনিময়ের ক্ষেত্রে এই অতিদ্রুত  5G নেটয়ওয়ার্ক এক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে এবং দেশে সামাজিক রূপান্তরণে এই  নেটওয়ার্কের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে।

তেসরা জুন দায়িত্বভার গ্রহণ করে  দেশের টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী রবি শংকর প্রসাদ বলেন আমাদের প্রয়াস হবে এই  5G  প্রযুক্তিকে সমাজের অবহেলিত শ্রেণি, সামাজিক কারণ, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে ব্যবহার করা এবং একই সঙ্গে গ্রামীণ জনগণের কাছে প্রযুক্তি পৌঁছে দেওয়া।

এই বিষয়ে পরীক্ষামূলক কর্মসূচীটি ৬ মাস বা তার থেকেও বেশি সময় ধরে চলতে পারে এবং আগামী বছরের প্রথম দিকেই 5G প্রযুক্তি পরিষেবা ধীরে ধীরে চালু হয়ে যাবে এবং এই পরিষেবা ২০২৪-এর মধ্যে সম্পূর্ণরূপে কাজ করতে শুরু করবে। ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়্যারলেস ওয়েব বা  WWWW ব্যবহৃত হবে  5Gর জন্য।

আগের মোবাইল নেটওয়ার্কগুলি পরিষেবা প্রদান করে কেবলমাত্র ব্যক্তিগত ফোনেই। প্রথম প্রজন্ম অর্থাৎ  1G ফোনগুলি ছিল অ্যানালগ। সেটিও ছিল এক অভাবনীয় বিষয় এবং তৎকালীন সময়ে  সেটিও ছিল তথ্য বিপ্লবের এক সূচনা, কিন্তু সেগুলিতে ছিল খুবই কম মাত্রার স্পেকট্রাম সক্ষমতা ও সুরক্ষা।

দ্বিতীয় প্রজন্মের বা 2G নেটওয়ার্ক ছিল ডিজিটাল প্রযুক্তিকে ঘিরেই। এটি দিত আরও বেশি স্পেকট্রাম সক্ষমতা, সুরক্ষা এবং নতুন নতুন বৈশিষ্ট্য যেমন লিখিত বার্তা (টেক্সট মেসেজ) প্রেরণ এবং কম মাত্রার তথ্য হার যোগাযোগ। তৃতীয় প্রজন্ম বা 3Gর উদ্দেশ্য ছিল সেই প্রযুক্তিতে অনেক দ্রুত তথ্য প্রদান (হাই স্পীড তথ্য)। চতুর্থ প্রজন্ম বা  4G (ইন্টারনেট প্রোটোকল) ছিল এক IP ভিত্তিক প্রযুক্তি যার তথ্য প্রদানের হার ১ gbps পর্যন্ত।

5G পরিষেবা হবে আরও দ্রুত। এই প্রযুক্তিতে আরও নতুন নতুন উপকরণ যেমন যন্ত্র, সেন্সর বা সংবেদী যন্ত্র, যানবাহন, রোবোট এবং ড্রোন সংযুক্ত করা সম্ভব হবে যাতে প্রয়োগ ও পরিষেবা আরও বাড়ানো যায়। এগুলি এক নতুন অর্থনৈতিক সুযোগ এনে দেবে এবং ভারতীয় সমাজব্যবস্থার রূপান্তরণ ঘটাতে এই 5G নেটওয়ার্কে প্রবল সম্ভাবনা প্রদান করবে।

এই নতুন প্রজন্মের নেটওয়ার্ক উন্নয়নের ক্ষেত্রে চিরাচরিত বাধাগুলিকে অতিক্রম করতে সক্ষম হবে। 5G নেটওয়ার্ক ‘ডিজিটাল ইন্ডিয়া’ ও সংশ্লিষ্ট কর্মসূচীগুলির রূপায়ণে এগিয়ে যেতে সাহায্য করবে। নেটওয়ার্কে ইন্টারনেট অফ থিংস বা  IoT  প্রযুক্তির বিপুল বৃদ্ধি পাওয়ার ক্ষেত্রে নেটওয়ার্কগুলির বিশাল পরিমাণে তথ্য বহন করার জন্য প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো সরবরাহ করবে যা আরও সপ্রতিভ হবে  ও  বিশ্বের সঙ্গে আরও বেশিভাবে সংযুক্ত হবে।

দেশের প্রয়োজনের সঙ্গে সমঞ্জস্যপূর্ণ বহু সংখ্যক অ্যাপ্লিকেশনকে সহায়তা করার মতো নমনীয়তা রয়েছে 5Gর।  উন্নত দেশগুলির থেকেও ভারতে এর মূল্য অপরিসীম কেননা এখানে পরিকাঠামো ক্ষেত্রে বিনিয়োগের পরিমাণ তুলনামূলকভাবে কম।

এর সবথেকে ভালো উদাহরণ হলো টেলিফোন যোগাযোগ। ভারতে টেলিফোন ঘনত্ব ১৯৯০ সালের শেষ দিক পর্যন্ত ছিল খুবই কম এবং এর মূল কারণ ছিল টেলিফোন পরিষেবায় বেশি খরচ। কিন্ত ২১টি মোবাইল নেটওয়ার্ক চলে আসায় পরিষেবা প্রদানে খরচ খুবই হ্রাস পেয়েছে। দেশে ১৯৯৫ সালের ৫ শতাংশেরও কম টেলিফোন ব্যবহার ২০১০ সালে বৃদ্ধি পেয়ে হয় ৯৫ শতাংশ এবং তা  দেশের অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। অতি সম্প্রতি 4G স্মার্ট ফোনের ইন্টারনেট ব্যবহার করে যানবাহন ব্যবহার করাও এক বড় উদাহরন। যদিও এটি এখন একেবারেই শুরুর দিকে, কিন্তু  এইভাবে যানবাহন ব্যবহার  উল্লেখযোগ্য পরিকাঠামো মূল্যের প্রতিশ্রুতি বহন করে।

উৎপাদন ক্ষেত্রে, নির্ভুল উৎপাদনের জন্য  5G রোবোটিক্স ব্যবহার করতে সক্ষম হবে, বিশেষ করে যেখানে মানুষ এই সব কাজগুলি নিরাপদে বা প্রয়োজনীয় নির্ভুলভাবে তা সম্পাদন করতে পারে না। 5G কাঁচামাল থেকে পণ্য সরবরাহকে সুচারুরূপে পর্যবেক্ষণ করতে পারে  এবং দেশের বিভিন্ন অংশের উৎপাদন সম্পদকে আরও ভালভাবে সবার সামনে তুলে ধরা যাবে।

কৃষিক্ষেত্রে 5G  নির্ভুল কৃষি, সপ্রতিভ সেচ, উন্নত মানের মৃত্তিকা এবং ফসল নিরীক্ষণ থেকে শুরু করে পশুপালন পরিচালনা সহ এই ক্ষেত্রের সমগ্র বিষয়টির উন্নয়নে সক্ষম হবে।

বিদ্যুৎ ক্ষেত্রে, স্মার্ট গ্রিড এবং স্মার্ট মিটারিং বিকল্প শক্তি প্রযুক্তির বৃদ্ধিকে সক্রিয়ভাবে সহায়তা করতে পারবে। স্বাস্থ্য পরিষেবা ক্ষেত্রে  5G আরও সুচারুরূপে টেলি-মেডিসিন সরবরাহ, টেলি-নিয়ন্ত্রিত রোবোটিক্স অস্ত্রোপচার এবং গুরুত্বপূর্ণ পরিসংখ্যানের নেটওয়ার্কের মাধ্যমে পর্যবেক্ষণ করতে সক্ষম হবে।

 

[মূল রচনা- কে ভি ভেঙ্কটসুব্রমনিয়ান]

____________