ভারতের প্রতিবেশী প্রথম ও SAGAR নীতি

For Sharing

ভারতের প্রধানমন্ত্রী রূপে দ্বিতীয় বার শপথ গ্রহণের পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি গত সপ্তাহের শেষের দিকে প্রথম বিদেশ সফরে মালদ্বীপ ও শ্রীলংকা সফর সম্পন্ন করলেন। ভারত যে ‘প্রতিবেশী প্রথম’ নীতি ছাড়াও এই অঞ্চলের সকল দেশের  নিরাপত্তা ও উন্নয়ন-SAGAR নীতি রূপায়ণের প্রতি উচ্চ অগ্রাধিকার দেয়,শ্রী মোদির এই দুটি দ্বীপ রাষ্ট্র সফর তারই প্রমাণ বহন করছে।

প্রধানমন্ত্রী প্রথমে মালদ্বীপে যান। এই সফরে প্রধানমন্ত্রীকে মালদ্বীপের সর্বোচ্চ অসামরিক সম্মান- Rule of IZZUDHEEN সম্মানে ভূষিত করা হয়। দুটি দেশের মধ্যে বেশ কয়েকটি সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়, যেগুলির মধ্যে আছে জল বিজ্ঞান,স্বাস্থ্য, জলপথে যাত্রী ও পণ্য পরিবহণ পরিষেবা, মালদ্বীপের উচ্চ পদস্থ সরকারী কর্মীদের প্রশিক্ষণ, এবং ভারতীয় নৌ বাহিনী ও মালদ্বীপ জাতীয় প্রতিরক্ষা বাহিনীর মধ্যে জাহাজ চলাচল সংক্রান্ত তথ্য বিনিময় চুক্তি।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি মালদ্বীপের সংসদ- People’s Majlis’এ ভাষণ দেন। মালদ্বীপ সংসদের ৮৬ বছরের ইতিহাসে শ্রী মোদির হলেন দ্বিতীয়  বিদেশী গণ্যমান্য অতিথি যাঁকে এই বিরল সম্মান দেওয়া হল।

মজলিস’এ তাঁর ভাষণে প্রধানমন্ত্রী শ্রী মোদি, ন্যায় ও সাম্যের আদর্শের ওপর প্রতিষ্ঠিত একটি গণতান্ত্রিক বিশ্ব ব্যবস্থা ও ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে স্থায়ী শান্তি ও প্রগতির গুরুত্বের ওপর জোর দেন।

শ্রী মোদি, মালদ্বীপের রাষ্ট্রপতি ইব্রাহিম সোলি, সংসদের অধ্যক্ষ মহম্মদ নাশিদ ও  উপরাষ্ট্রপতি ফয়জল নাসিমের সঙ্গে   দ্বিপাক্ষিক, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বহু বিষয়ে আলোচনা করেন। প্রধানমন্ত্রী এ ছাড়াও  সে দেশের একাধিক শীর্ষ স্থানীয় বিরোধী নেতার সঙ্গে বহু বিষয়ে কথা বলেন। তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন মামুন রিফর্ম মুভমেন্টের নেতা মামুন আবদুল গায়ুম, জামুরি পার্টীর নেতা কাশিম ইব্রাহিম ও আদালত পার্টির নেতা ইমরান আবদুল্লা।

মালদ্বীপের রাষ্ট্রপতি ও ভারতের প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে আলোচনার পর জারি করা এক যৌথ বিবৃতিতে রাষ্ট্রপতি সোলি তাঁর সরকারের ‘ভারত প্রথম’ এই নীতি অনুসরণে এবং দুটি দেশের মধ্যে অংশীদারিত্বের আদর্শ ক্রমশ অধিক মজবুত করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। রাষ্ট্রপতি সোলি, রাষ্ট্রসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে ভারতের স্থায়ী সদস্য পদের দাবি ও ২০২০-২১ সালের জন্য এই বিশ্ব সংস্থায় ভারতের অস্থায়ী সদস্য পদকে   সমর্থন করেন।

মালদ্বীপ সফরের পর দেশে ফেরার সময় প্রধানমন্ত্রী স্বল্প সময়ের জন্য শ্রীলঙ্কায় যাত্রা বিরতি করেন। কলম্বোতে চার ঘন্টা অবস্থান কালে শ্রী মোদি, সে দেশের রাষ্ট্রপতি মৈত্রীপাল সিরিসেনা, প্রধানমন্ত্রী রনিল বিক্রমসিংঘে ও মন্ত্রীসভার আরও একাধিক সদস্যের সঙ্গে বৈঠক করেন। শ্রী মোদি, শ্রীলংকার বিরোধী দলের নেতা মাহিন্দা রাজাপক্ষে ও জাতীয় জোট’এর নেতাদের সঙ্গেও কথা বলেন।

নরেন্দ্র মোদি সেন্ট অ্যান্টনি গীর্জায় গিয়ে ইস্টার রবিবারের ভয়াবহ সন্ত্রাসবাদী আক্রমণে নিহতদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

ওই ভয়াবহ সন্ত্রাসবাদী হামলার পর নতুন দিল্লির, শ্রীলংকা   সরকার ও সে দেশের জনগণের পাশে থাকার বার্তা দিতেই প্রধানমন্ত্রী স্বল্প সময়ের জন্যে হলেও ওই দ্বীপ রাষ্ট্রে যান। ওই মর্মন্তূদ ঘটনার পর শ্রী মোদিই হলেন কোনও রাষ্ট্র নেতা যিনি প্রথম শ্রীলংকা সফরে গেলেন। শ্রীলংকার রাষ্ট্রপতি  সিরিসেনা তাঁর স্বাগত ভাষণে বলেন, শ্রী মোদির এই সফরে তাঁর দেশের আর্থিক, বাণিজ্যিক ও পর্যটনের উন্নয়নের অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি হবে। দুই নেতা তাঁদের মধ্যে আলোচনায়  সন্ত্রাসবাদ ও চরম পন্থী মতাদর্শের মোকাবিলায় দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা মজবুত করার ওপর জোর দেন।

মালদ্বীপ ও শ্রীলংকার সঙ্গে  আর্থিক, বাণিজ্যিক ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্র ছাড়াও সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম ও সমুদ্র নিরাপত্তা সহযোগিতা মজবুত করার লক্ষ্যেই প্রধানত প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এই দুটি প্রতিবেশী দেশ সফর করলেন। (ডঃ গুলবিন সুলতানা)