ভারত আফ্রিকার সঙ্গে যোগাযোগ বৃদ্ধি করছে  

For Sharing

ভারত, আফ্রিকার রাষ্ট্রসমূহের সঙ্গে তার সম্পর্ক বৃদ্ধির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। এরই প্রমাণ স্বরূপ কেন্দ্রে নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে এন ডি এ সরকার দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় আসার পরে নবনিযুক্ত পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ভি মুরলীধরণ তিনদিনের সফরে নাইজেরিয়া গেলেন। নাইজেরিয়ার গণতন্ত্র দিবস উদযাপন অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ ছাড়াও শ্রী মুরলীধরণ সে দেশের রাষ্ট্রপতি মহম্মদু বুহারি ও উপরাষ্ট্রপতি ইয়েমি অসিনবাজো সহ সে দেশের  শীর্ষ নেতৃবর্গের সঙ্গে আলোচনা করলেন। গণতন্ত্র দিবস উদযাপন অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী আফ্রিকার অন্যান্য দেশের নেতৃবর্গ যেমন- দক্ষিণ আফ্রিকা,নাইজার, ইথিওপিয়া ও মিশরের বিদেশ মন্ত্রীদের সঙ্গেও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী কথা বলেছেন।

পররাষ্ট্র মন্ত্রকের মতে, এই সফর ভারত ও নাইজিরিয়ার মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কেরই প্রতিফলন। ২০০৭ সালে দুটি দেশের মধ্যে সম্পর্ককে কৌশলগত অংশীদারিত্বের পর্যায়ে উন্নীত করা হয় এবং এর অঙ্গ হিসেবে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা মজবুত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। ২০১৭-১৮ সালে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল ১১৭৬ কোটি মার্কিন ডলার। আফ্রিকার দেশগুলির মধ্যে নাইজিরিয়া হল ভারতের সর্ববৃহৎ বাণিজ্যিক অংশীদার। এছাড়া নাইজিরিয়া হল ভারতে পঞ্চম সর্ববৃহৎ অপরিশোধিত তেল রপ্তানিকারক ও দ্বিতীয় সর্ববৃহৎ তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহকারী দেশ। ভারতের তেজশক্তি নিরাপত্তার ক্ষেত্রে নাইজিরিয়া যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে এই পরিসংখ্যানই তার প্রমাণ। এক কথায় ভারতের জীবাশ্ম জ্বালানীর  মোট প্রয়োজনের ১২ শতাংশ পূরণ করে নাইজিরিয়া। নাইজিরিয়ায় ভারতীয় সম্প্রদায়ের উপস্থিতিও বিশেষ উল্লেখযোগ্য।

নাইজিরিয়া ছাড়াও আফ্রিকা মহাদেশের অন্যান্য দেশের সঙ্গেও ভারত তার কৌশলগত ও বাণিজ্যিক অংশীদারিত্ব বৃদ্ধি করতে আগ্রহী। এরই অঙ্গ হিসেবে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর আগামী মাসে পশ্চিমী আফ্রিকার কয়েকটি দেশ সফরে যাবার কথা।

নতুন দিল্লি গত পাঁচ বছরে আফ্রিকী দেশগুলির সঙ্গে সম্পর্কে উন্নতি সাধনের লক্ষ্যে বেশ কিছু বলিষ্ঠ পদক্ষেপ নিয়েছে। ২০১৪ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে ভারতের বেশ কয়েকজন  শীর্ষস্থানীয় সরকারি নেতা ২৫ বার আফ্রিকার বিভিন্ন দেশ সফরে গিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে এন ডি এ সরকার আফ্রিকার দেশগুলির সঙ্গে সম্পর্ক মজবুত করার এক ধারাবাহিক প্রচেষ্টা হাতে নিয়েছে। এ বছর নতুন দিল্লিতে ভারত-আফ্রিকা মঞ্চ শিখর সম্মেলনের আয়োজন করা হচ্ছে। এতে আফ্রিকার দেশগুলির ৪০ জন রাষ্ট্র বা সরকার প্রধান অংশ নেবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

উল্লেখ করা যেতে পারে, কেন্দ্রে মোদি সরকারের প্রথম বারের কার্যকালে রাষ্ট্রপতি রাম নাথ কোবিন্দ, উপরাষ্ট্রপতি এম ভেংকাইয়া নাইডু এবং প্রধানমন্ত্রী স্বয়ং আফ্রিকার প্রায় ২০টি দেশ সফরে যান। ২০১৫ সালে ভারতে অনুষ্ঠিত আফ্রিকী মঞ্চ শিখর সম্মেলনে প্রায় ৪১ জন রাষ্ট্র বা সরকার প্রধান যোগ দিয়েছিলেন। পর্যবেক্ষক মহলের মতে, রাষ্ট্রসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে ভারতের স্থায়ী সদস্য পদের দাবীর সমর্থনে আফ্রিকার প্রায় ৫৫টি দেশের ভূমিকা বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ ।

২০১৫ সালে নতুন দিল্লিতে অনুষ্ঠিত  ভারত-আফ্রিকা মঞ্চ শিখর সম্মেলনে ভারত আফ্রিকার দেশগুলিকে সুবিধাজনক শর্তে এক হাজার কোটি মার্কিন ডলার ঋণ সহায়তা ঘোষণা করে। ভারতীয় কোম্পানিগুলির আফ্রিকায় মোট লগ্নীর পরিমাণ ৫ হাজার ৪০০ কোটি মার্কিন ডলারের মত। আফ্রিকার সঙ্গে ভারতের বাণিজ্যের পরিমাণও বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬ হাজার ২০০ কোটি মার্কিন ডলার। ভারত ইতিমধ্যেই আফ্রিকার ৪৪টি দেশকে কৃষি, পরিকাঠামো, সরকারি পরিবহণ, নির্মল জ্বালানী ও সেচ ব্যবস্থার উন্নতি সাধনে ১১০০ কোটি মার্কিন ডলার সহায়তা দিয়েছে। এছাড়াও ২০২১ সালের মধ্যে আফ্রিকার  বিভিন্ন দেশে ১৮টি নতুন দূতাবাস স্থাপনের কথাও নতুন দিল্লি ঘোষণা করেছে।

সমুদ্র উপকূলবর্তী কয়েকটি আফ্রিকী দেশের সঙ্গে  সমুদ্র পথে বাণিজ্যিক সুযোগ সুবিধা বৃদ্ধির জন্যও নতুন দিল্লি কাজ করছে। বিভিন্ন দেশগোষ্ঠী যেমন- ব্রিকস ও ইবসা’র সঙ্গেও ভারত বহুপাক্ষিক সহযোগিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে নিরলস কাজ করছে। ভারত ও আফ্রিকী দেশগুলির মধ্যে সমুদ্র সহযোগিতার যে বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে তা বাস্তবায়িত করতে উভয় পক্ষই বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে।  ( মূল রচনাঃ বিনীত ওয়াহি)