প্যারিসে জি-7 শিখর বৈঠকে ভারত আমন্ত্রিত

For Sharing

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ৪৫তম জি-7 শিখর সম্মেলনে যোগ দেবেন। দক্ষিণ ফ্রান্সের বিয়ারিট্‌জে ২৪-২৬ আগস্ট, ২০১৯ এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। ফরাসী রাষ্ট্রপতি এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ অস্ট্রেলিয়া, চিলি এবং দক্ষিণ আফ্রিকার সঙ্গে ভারতকেও বিশেষ আমন্ত্রিত হিসেবে সম্মেলনে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। জি-7 সাধারণত বিশ্বের বড় বড় নেতাদের আমন্ত্রণ জানায়। এখানে বিশ্বের সামনে যে সব প্রধান প্রধান সমস্যা রয়েছে তা নিয়ে খোলামেলা আলোচনা হয়।

এই আমন্ত্রণ রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক শক্তি হিসেবে ভারতের উত্থানের পরিচয় বহন করে। ফ্রান্স এবং ভারতের মধ্য ক্রমশঃ গভীর হয়ে ওঠা কৌশলগত অংশীদারিত্বের প্রতিফলন হল এই আমন্ত্রণ। প্রধানমন্ত্রী মোদি এবং রাষ্ট্রপতি ম্যাক্রোঁর মধ্যে ক্রমবর্ধমান ব্যক্তিগত সম্পর্ক এবং রসায়নের দলিল হল এই আমন্ত্রণ।

আমন্ত্রণ জানানোর সময় রাষ্ট্রপতি ম্যাক্রোঁ বিশ্বায়ণের উন্নয়ন এবং পরিবেশ সংরক্ষণের ক্ষেত্রে ভারতের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা উল্লেখ করেন। ২০১৫সালে তদানিন্তন ফরসী রাষ্ট্রপতি ফ্রান্সিস ওলান্দের সঙ্গে যৌথভাবে শ্রী মোদি প্যারিসে সি ও পি ২১ বৈঠকের অবসরে আন্তর্জাতিক সৌর জোট (আই এস এ) চালু করেন। তারপর তৎকালীন ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী সেন্ট পিটার্সবার্গে আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক মঞ্চে যোগদানের পর সরাসরি প্যারিসে যান এবং ২০১৭র জুনে শ্রী ম্যাক্রোঁর নির্বাচনের পর তাঁর সঙ্গে দেখা করেন। মার্কিন রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্প প্যারিস চুক্তি থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যাহারের কথা ঘোষণার পর এইসব ঘটনা ঘটে। ২০১৮র মার্চ মাসে ফরাসী রাষ্ট্রপতির ভারত সফরের সময় আই এস এর এই সম্মেলন আয়োজিত হয়।

বিশ্বায়ণ, জলবায়ু পরিবর্তন এবং জলবায়ু সংক্রান্ত ন্যয় বিচারের বিষয়গুলি ছাড়াও প্রধানমন্ত্রী মোদি এবং রাষ্ট্রপতি ম্যাক্রোঁ সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে অভিন্ন অবস্থান গ্রহণ করেন। উভয় দেশ সন্ত্রাসবাদের বিষয়ে জিরো টলারেন্সের নীতি অনুসরণ করে এবং সন্ত্রাসবাদকে প্রতিহত করতে সমস্ত সম্ভাব্য পদক্ষেপ নেবার পক্ষে অভিমত পোষণ করেন এই দুই নেতা। ফ্রান্স সন্ত্রাসবাদ সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক সম্মেলনের জন্য ভারতের আহ্বানের প্রতি সমর্থন জানায়। ২০১৯এর ৮ই জুন মালদ্বীপ সংসদে ভাষণ দেবার সময় ভারতের প্রধান মন্ত্রী এই আহ্বান জানান।

 

সাতটি বৃহৎ, উন্নত অর্থনীতিকে নিয়ে সাত দেশীয় গোষ্ঠী জি-7 গঠিত। এই গোষ্ঠী বিশ্বের মোট সম্পদের ৫৮শতাংশের প্রতিনিধিত্ব করে। এই সব দেশগুলির মধ্যে রয়েছে ক্যানাডা, ফ্রান্স, জার্মানী, ইটালী, জাপান, ব্রিটেন এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।

ইওরোপীয় ইউনিয়নও জি-7 শিখর সম্মেলনের প্রতিনিধিত্ব করে। ১৯৭৫সালে জি-6 শুরু করে ফ্রান্স এবং পরের বছর ক্যানাডাকে অন্তর্ভুক্ত করে এই গোষ্ঠী জি-7 হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। ১৯৯৭ সালে এই গোষ্ঠীতে রাশিয়া যোগ দেওয়ায় এটি জি-8 হয় কিন্তু ২০১৪সালে ক্রিমিয়া অধিগ্রহণ করায় রাশিয়াকে বাদ দেওয়া হয়।

একেবারে শুরু থেকে এই দেশগোষ্ঠী আন্তর্জাতিক অর্থনীতি এবং আর্থিক উন্নয়ন নিয়ে কাজ করছে এবং বিশ্ব বাণিজ্য ও অর্থনীতির উন্নয়নের লক্ষ্যে নিরলসভাবে কাজ করে চলেছে। তবে ১৯৯৯ সালে জি-20 গঠিত হবার পর এর প্রাসঙ্গিকতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। ২০০৭/০৮এর আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক সংকটের প্রেক্ষিতে জি-20কে রাষ্ট্র প্রধান/সরকার প্রধানের স্তরে উন্নীত করা হয়। জি-20 প্রাথমিকভাবে বছরে দুবার বৈঠকে মিলিত হতো, কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলিতে তারা বার্ষিক সম্মেলন করছে। প্রধানমন্ত্রী মোদি ২০১৯এর ২৮-২৯জুনে জাপানার ওসাকায় জি-20 শীর্ষ বৈঠকে অংশ নেবেন। জি-7 শিখর সম্মেলনে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর যোগদানের পর ফ্রান্সে তিনি দ্বিপাক্ষিক সফরে যাবেন।

জি-7 শিখর বৈঠকে শ্রী মোদির অংশগ্রহণ সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ভারতের লড়াইকে অনেকটা এগিয়ে নিয়ে যাবে এবং বিশ্ব পরিবেশ সুরক্ষা ও বহু পাক্ষিক বিশ্ব বাণিজ্যের ক্ষেত্রে ভারসাম্যজনিত অবস্থার সৃষ্টি হবে বলে আশা করাই যেতে পারে। (মূল রচনাঃ অশোক সজ্জনহার)