ওসাকায় ভারত-মার্কিন আলোচনা

For Sharing

জাপানের ওসাকায় G-20 দেশগোষ্ঠীর শিখর সম্মেলনের অবসরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সম্মেলনে অংশগ্রহণকারী ৯ টি দেশ-  অস্ট্রেলিয়া , ব্রাজিল, জার্মানি, ইন্দোনেশিয়া, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, সৌদি আরব, তুরস্ক ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে পৃথক ভাবে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করলেন। প্রধানমন্ত্রী তিন দিন ব্যাপী G-20 সম্মেলনের অবসরে জাপান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি এবং রাশিয়া ও চীনের সঙ্গে আর একটি  ত্রিপাক্ষিক বৈঠক সম্পন্ন করলেন। এ ছাড়াও শ্রী মোদি, BRICS দেশ গোষ্ঠীর নেতৃবৃন্দের সঙ্গেও ঘরোয়া আলোচনা করলেন।

G-20  সম্মেলনের প্রধান  আলোচ্য বিষয় ছিল বিশ্ব অর্থব্যবস্থা, বাণিজ্য ও ভূ- রাজনৈতিক বিষয়। শ্রী মোদি মার্কিন রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকে প্রধানত দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য প্রসঙ্গ নিয়ে আলোচনা করলেন, যা এই মুহূর্তে ভারতের কাছে অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয়। চীন ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বর্তমানে যে বাণিজ্য লড়াই চলছে, সেই লড়াই কিছুটা প্রশমিত হওয়ার বার্তা পাওয়া গেল G-20 শিখর সম্মেলনের সমাপ্তিতে। আমদানি/রপ্তানি শুল্ক প্রসঙ্গে নতুন দিল্লির সঙ্গে ওয়াশিংটনের যে টানা পোড়েন চলছে, তার প্রেক্ষিতে ভারত, এই শিখর সম্মেলনের অবসরে পেইচিং ও ওয়াশিংটনের মধ্যে আলোচনার ফলাফলের প্রতি গভীর ভাবে লক্ষ্য রাখছিল। প্রসঙ্গত উল্লেখ করা যায়, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ভারতীয় পণ্য আমাদানির ওপর অগ্রাধিকার মূলক সুবিধা প্রত্যাহার করে নেওয়ায়, তার বদলা হিসেবে ভারতও ২৮ টি মার্কিন পণ্য আমদানির ওপর শুল্ক বৃদ্ধি করায় মার্কিন রাষ্ট্রপতি তার সমালোচনা করেছেন। এ ছাড়াও নতুন দিল্লি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই আচরণের প্রতিবাদে বিশ্ব বাণিজ্য সংগঠন-WTO’র বিবাদ নিষ্পত্তি কমিটির দ্বারস্থ হয়েছে। G-20 সম্মেলনের প্রাক্কালে মার্কিন বিদেশ  মন্ত্রী পম্পেও’র ভারত সফরকালে প্রধানমন্ত্রী তার সঙ্গে বৈঠকে প্রসঙ্গটি উত্থাপন করেন। বৈঠকে, দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য  বিবাদ নিষ্পত্তির লক্ষ্যে দু দেশের বাণিজ্য মন্ত্রীদের মধ্যে নিয়মিত আলোচনার সুপারিশ করা হয়েছে।

সম্মেলনের পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও মার্কিন রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যে বৈঠকে বাণিজ্য ছাড়াও 5-G প্রযুক্তি, প্রতিরক্ষা সম্পর্ক ও ইরান প্রসঙ্গও আলোচনায় উঠে আসে। ভারত তার নিজ স্বার্থ ও পারস্য উপসাগর অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতার স্বার্থে ইরান ও   মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনার আশু নিরসন কামনা করছে।  তবে, তেহেরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে উত্তেজনা সত্বেও ওই উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলি থেকে সমুদ্র পথে ভারতকে তেল সরবরাহে কোনও বাধা সৃষ্টি  হবে না বলে মার্কিন রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রী শ্রী মোদিকে আশ্বাস দিয়েছেন।

মার্কিন রাষ্ট্রপতির সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর আলোচনায় 5-G প্রযুক্তি প্রসঙ্গটি বিশেষ প্রাধান্য পায়। মার্কিন যক্তরাষ্ট্র  5-G প্রযুক্তি ক্ষেত্রে তার বিশেষজ্ঞ জ্ঞান উন্নত করছে, এবং ভারত এই প্রযুক্তি তার ব্যবসা ও কারিগরি ক্ষেত্রে প্রয়োগে আগ্রহ দেখাচ্ছে। সঙ্গে সঙ্গে এই প্রযুক্তির সঙ্গে জড়িত নিরাপত্তার দিকটিও নতুন দিল্লি খতিয়ে দেখছে। ভারত ইতিমধ্যেই দেশে ব্যাপক মাত্রায় এই 5-G প্রযুক্তি ব্যবহারের আশ্বাস দিয়েছে। ভারত, এই প্রযুক্তি সংক্রান্ত দক্ষতা বৃদ্ধি ও  Software বিকাশের কাজকে মেক-ইন্ডিয়া কর্মসূচির অন্তর্ভুক্ত করতে  বিশেষ উৎসাহ দেখিয়েছে, যা দু দেশের ব্যবসায়ী ও শিল্পপতিদের মধ্যে সহযোগিতার ভিত্তিতে কাজের সুযোগ সৃষ্টি করবে বলেই ধারণা।

প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার প্রসঙ্গটি দুই নেতা বিস্তারিত আলোচনা করেন। ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে দ্বিপাক্ষিক নিরাপত্তা অংশীদারিত্ব সহ সামগ্রিক প্রতিরক্ষা সম্পর্কটি নিয়ে আলোচনা হয়। জাপান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ত্রিপাক্ষিক বৈঠকেও প্রধানমন্ত্রী ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে নৌ নিরাপত্তার বিষয়টি উত্থাপন করেন; এবং এ ক্ষেত্রে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার ওপর জোর দেন। এই অঞ্চলে সংযোগ ব্যবস্থা ও পরিকাঠামো উন্নয়নের প্রয়োজনের বিষয়েও তিন নেতার মধ্যে আলোচনা হয়।  ভারত মহাসাগর অঞ্চলে সমুদ্র নিরাপত্তার বিষয়ে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে তিনটি দেশ বার্ষিক সম্মেলন আয়োজনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ভারত মহাসাগর  ও দক্ষিণ চীন সাগর অঞ্চলে চীনের ক্রমবর্ধমান সামরিক আগ্রাসন মূলক আচরণের প্রেক্ষিতে এই সিদ্ধান্ত অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। (মূল রচনাঃ- ডঃ স্তুতি ব্যানার্জী)