কেন্দ্রীয় বাজেটের বিষয় সমূহ

For Sharing

২০১৯এর কেন্দ্রীয় বাজেটের প্রধান লক্ষ্য হবে অর্থনৈতিক বিকাশ মজবুত করা। বিকাশের গতি ত্বরান্বিত করতে রাজস্ব একত্রীকরণের পথ থেকে দূরে থাকার প্রয়োজন হতে পারে। এবার জি ডি পির সাড়ে তিন শতাংশ ঘাটতির নিয়ম কঠোরভাবে মেনে চলা সম্ভব নাও হতে পারে কারণ অর্থনীতিকে বিকাশের পূর্বতন পথে ফিরিয়ে আনার জন্য মূলধন পরিকাঠামো ক্ষেত্রে অধিকতর সরকারী বিনিয়োগ আবশ্যক। অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণের প্রথম বাজেট ভাষণে এই সাহসী পদক্ষেপ আশা করা হচ্ছে।

তবে ব্যয় হ্রাসের মাধ্যমে যদি রাজস্ব একত্রীকরণের লক্ষ্য অর্জন করা যায় দীর্ঘ মেয়াদে বিকাশের ক্ষেত্রে এর প্রতিকূল পরিণাম হতে পারে। উপযুক্ত কর সংস্কারের মাধ্যমেই কেবল করের   অধিক করা আদায় সম্ভব। বিকাশের গতি ত্বরান্বিত করতে কর্পরেট কর পুনর্বিন্যাস করা হবে বলে আশা করা যেতে পারে। গত বাজেটে কর্পরেট কর কমিয়ে ২৫ শতাংশ করা হয়, তবে কেবল ক্ষুদ্র এবং মাঝারী শিল্পের জন্য এই ব্যবস্থা ঘোষিত হয়েছিল। ব্যয়ের ক্ষেত্রে কৃষক এবং মহিলাদের জন্য সুবিন্যস্ত কিছু প্রকল্পের কথা ঘোষণা করা হতে পারে। তবে এই সব বৃহৎ ঘোষণার পেছনে বাজেট বরাদ্দের সমর্থন থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

সরকার কৃষকদের আয় বৃদ্ধিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সেই কারণেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত ক্যাবিনেট কমিটি ২০১৯-২০র জন্য সমস্ত খারিফ ফসলের ন্যূনতম সমর্থন মূল্য বৃদ্ধি অনুমোদন করেছে। কৃষকদের নিশ্চিত পরিপোষণ মূল্যের মাধ্যমে বিনিয়োগ এবং উৎপাদন বৃদ্ধির পথ প্রশস্ত হবে। ২০১৯-২০র খারিফ ফসলের জন্য সরকার সোয়াবিনের ন্যূনতম সমর্থনমূল্য কুইন্টাল প্রতি ৩১১টাকা, সূর্য্যমুখির ক্ষেত্রে কুইন্টাল প্রতি ২৬২টাকা এবং তৈল বীজের এম এস পি কুইন্টাল প্রতি ২৩৬ টাকা বাড়িয়েছে। কৃষকদের আয় বৃদ্ধির ক্ষেত্রে এটি নিঃসন্দেহে বড় পদক্ষেপ।

আগামী বাজেটে ভারতের নতুন বৃহৎ অর্থনীতি অধিকতর সুস্পষ্ট হবে। ঘাটতি পূরণের জন্য কর বহির্ভূত রাজস্ব শ্রেণীর অধীনে সরকারের কাছে ভারতের রিজার্ভ ব্যাংক থেকে অতিরিক্ত সঞ্চিত ভান্ডার স্থানান্তরের বিষয়ে আলোচনা চলছে। আসন্ন বাজেটে এই বিষয়টিও অধিক স্পষ্ট হবে।

অর্থমন্ত্রী শ্রীমতী নির্মলা সীতারমণের বাজেট ঘোষণায় দেশের নতুন আর্থিক নীতি উন্মোচিত হবে যাতে বোঝা যাবে কর্মসংস্থান সৃষ্টির পথ অধিক প্রশস্ত হবে না কি আর্থিক অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে ন্যূনতম বুনিয়াদী আয় সুনিশ্চিত হবে।

সামাজিক পরিকাঠামো, বিশেষ করে জল এবং পরিছন্নতার প্রতি সরকারের আলোকপাত এবং স্বল্প আয়ের পরিবারের মহিলাদের স্বচ্ছ জ্বালানী প্রদান স্বাগতযোগ্য, তবে স্বাস্থ্য ও শিক্ষার মত অন্যান্য সামাজিক ক্ষেত্রেও ব্যয় বাড়াতে হবে। জাতীয় পুষ্টি মিশনকে মজবুত করার জন্যও বাজেটে নতুন কিছু ঘোষণা থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে।

জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত বিবৃতিও বাজেট ভাষণের অংগ হবে বলে মনে করা হচ্ছে। ব্যবসা বাণিজ্য সহজ করা এবং বিকাশ পুনরুজ্জীবিত করার পন্থা পদ্ধতি আরো সুস্পষ্ট করাও আবশ্যক বলে অনেকেই মনে করেন।

বিকাশের গতি দ্রুত করতে পরিকাঠামো ক্ষেত্রের প্রতি অধিক গুরুত্ব দেওয়া হতে পারে।

মার্কিন-চীন  বাণিজ্য সংঘাত, তেলের মূল্যে ক্রমাগত ওঠানামা এবং মূদ্রাস্ফিতির মত আন্তর্জাতিক অস্থিরতার প্রেক্ষিতে ভারতীয় অর্থমন্ত্রী এমন সব ব্যবস্থার কথা নিশ্চিতভাবে মাথায় রাখবেন যাতে অভ্যন্তরীন অর্থনৈতিক বিকাশ তার সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যে এগিয়ে চলে।  (ড. লেখা এস চক্রবর্তী)