বাজেটে পরিকাঠামো উন্নয়নের সংস্থান

For Sharing

এবারের বাজেটের লক্ষ্য হল আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে পাঁচ হাজার ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়ে তোলা। এর জন্য মূলতঃ নির্ভর করা হচ্ছে পরিকাঠামোর ওপর। আগামী পাঁচ বছরে পরিকাঠামো খাতে  ১০০ লক্ষ কোটি টাকার বিনিয়োগ করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। সড়ক, গ্যাস, জল, বিমান গ্রিডের সংস্থান সহ যে এক দেশ এক গ্রিডের কথা বলা হয়েছে পক্ষান্তরে সেটাই পাঁচ ট্রিলিয়ন অর্থনীতির বুনিয়াদ। এর মাধ্যমেই অর্থনীতির গুণগত রুপান্তর ঘটবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ভারতের প্রথম পূর্ণকালীন মহিলা অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণের পেশ করা প্রথম বাজেটে যথার্থভাবেই পরিকাঠামো ক্ষেত্রে বিনিয়োগ বৃদ্ধির প্রতি জোর দেওয়া হয়েছে। নরেন্দ্র মোদি নেতৃত্বাধীন কেন্দ্র সরকারের প্রথম কার্যকালের মেয়াদে অবশ্য পরিকাঠামোর প্রতি সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছিল। সড়ক, বন্দর এবং রেলওয়ের পর্যাপ্ত সম্প্রসারণও ঘটেছে। তাছাড়া সরকার পরিকাঠামো ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা দূর করার যথাসাধ্য চেষ্টাও করেছে। অনেক বন্ধ প্রকল্প সরকার চালু করেছে। এখন সঠিকভাবেই পরিকাঠামো ক্ষেত্রে আরো উন্নতির সংকল্প  গ্রহণ করা হয়েছে।

বাজেটে ২০১৮ থেকে ২০৩০সালের মধ্যে রেলওয়ে খাতে ৫০ লক্ষ কোটি টাকা বিনিয়োগের প্রস্তাব করা হয়েছে। এই প্রস্তাব প্রশংসনীয় কারণ রেলওয়ে কেবল জাতীয় পরিবহন সংস্থাই নয়; এটি ভারতের জীবন রেখা। অতীতে সড়ক ক্ষেত্রের অনুপাতে রেলওয়ের ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত বিনিয়োগের সংস্থান ছিল না। ফলতঃ  মাল এবং যাত্রী পরিবহন তুলনামূলকভাবে সড়ক পথে বৃদ্ধি পেয়েছে। রেলওয়ে যেহেতু ব্যয় সাশ্রয়ী এবং পরিবেশ অনুকুল তাই এই খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি জরুরী। যথাযথ কারণেই রেলওয়ের ক্ষেত্রে সরকারী-বেসরকারী অংশীদারিত্বের মাধ্যমে বকেয়া প্রকল্পের বাস্তবায়নের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া দ্রুত নগরায়ণের দরুণ সংগত কারণেই বাজেটে দিল্লী-মেরাট র‍্যাপিড আঞ্চলিক পরিবহন ব্যবস্থার ধাঁচে সাব-আরবান রেলওয়ের প্রতি আলোকপাত করা হয়েছে। প্রসঙ্গত বলা যায়, বর্তমানের ৬৫৭ কিলোমিটার মেট্রো রেল শহুরে জনগণের জন্য নিঃসন্দেহে সন্তোষের বিষয়। বাজেটে যথার্থ ভাবেই ইস্টার্ন ওয়েস্টার্ন ফ্রেইট করিডোর সম্পূর্ণ করার প্রতি জোর দেওয়া হয়েছে, এর ফলে যাত্রী পরিষেবার জন্য অতিরিক্ত ট্রাক উপলব্ধ হবে। তাছাড়া, রেলওয়েল স্টেশনগুলির দ্রুত আধুনিকীকরণের প্রতি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সরকার পরিকাঠামোর জন্য ১০০ লক্ষ কোটি টাকার সংস্থানের ব্যবস্থা করবে বলেও বাজেটে উল্লেখ করেছে। ক্রেডিট গ্যারান্টি এনহ্যান্সমেন্ট কর্পোরেশন গঠনের পরিকল্পনা সঠিক দিশায় গৃহীত সঠিক পদক্ষেপ বলে বিবেচিত হচ্ছে।

ভারতমালা, সাগরমালা, জল মার্গ বিকাশ এবং উড়ানের মত চলতি প্রকল্পগুলি সম্পূর্ণ করার বিষয়ে বাজেটে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। এই বিষয়ে সন্দেহের কোনো অবকাশ নেই যে এক দেশ, সড়ক, জলপথ, রেলওয়ে, বিদ্যুৎ এবং বিমান চলাচলের জন্য এক গ্রিডের ধারণা রুপায়ণের জন্য বাজেটে স্পষ্টতই আর্থিক সংস্থানের আগ্রহ ব্যক্ত করা হয়েছে। বারানসী-হলদিয়া জলপথ, কম ব্যয়ে ভারতে সমৃদ্ধি নদী পথে পন্য পরিবহনের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত করেছে। রপ্তানি সম্ভাবনা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে সাগরমালা প্রকল্প একান্ত গুরুত্বপূর্ণ। নতুন নতুন বন্দর বিকশিত করা এবং পুরনো বন্দরগুলির ক্ষমতা বৃদ্ধি করা বিশ্ব বাণিজ্যে ভারতের প্রয়াসের অন্যতম অংগ। এই ক্ষেত্রে সাগরমাল প্রকল্প কেন্দ্রস্থলে রয়েছে। রপ্তানি ক্ষেত্র কর্মসংস্থান সৃষ্টির এক সুনিশ্চিত উৎস একথা নতুন করে বলার অপেক্ষা রাখে না।

এছাড়া, বিমান রক্ষণাবেক্ষণ এবং মেরামতের জন্য ভারতকে  এভিয়েশন হাব হিসেবে গড়ে তোলার  নীতি গৃহীত হয়েছে। ভারতমালার দ্বিতীয় পর্যায়ে সারা দেশে ৪৮০০০ কিলোমিটার সড়ক নির্মানের সংকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। এই লক্ষ্যে জমি সংগ্রহের জন্য রাজ্যসরকারগুলিকে সহায়তার কথাও বাজেটে বলা হয়েছে। প্রশংসনীয় হল বর্তমানে দেশের ৯৭ শতাংশ বসতিযোগ্য এলাকায় সড়ক সংযোগ রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী সড়ক যোজনার ফলে গ্রাম ও শহরের দূরত্ব অনেকাংশে কমে গেছে। বাজেটে কৃষকদের সুবিধার্থে গ্রামীণ সড়ক উন্নয়নের প্রতি বিশেষভাবে জোর দেওয়া হয়েছে। পরিকাঠামো খাতে বিনিয়োগ দেশের অর্থনীতিকে নতুন দিশা দেবে এবিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই। প্রতি বছর ২০ লক্ষ কোটি টাকা পরিকাঠামো উন্নয়নের জন্য ব্যয় করা হলে অর্থনৈতিক উন্নয়ন এক নতুন মাত্রা পাবে সে কথা বলাই বাহুল্য। (মুল রচনাঃ মণিষ আনন্দ)