শ্রীলঙ্কায় ভারতের সহায়তায় নির্মিত প্রথম আদর্শ গ্রামের উদ্বোধন  

For Sharing

ভারতের সহায়তায় শ্রীলঙ্কার প্রথম আদর্শ গ্রামের উদ্বোধন হল গত ৬ই জুলাই । শ্রীলঙ্কার গৃহ নির্মাণ, নির্মাণ ও সাংস্কৃতিক মন্ত্রকের আদর্শ গ্রাম সংক্রান্ত কর্মসূচীর আওতায় গামপাহা জেলায় এটি তৈরি হয়েছে। এই উপলক্ষ্যে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে নবনির্মিত বাসগৃহগুলি গ্রামবাসীদের হাতে তুলে দেওয়া হয়। শ্রীলঙ্কার গৃহনির্মাণ, নির্মাণ এবং সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী সজিথ প্রেমদাসা, প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি চন্দ্রিকা বন্দরনায়িকে কুমারতুঙ্গা এবং শ্রীলঙ্কায় ভারপ্রাপ্ত ভারতীয় হাইকমিশনার ডঃ শিল্পক আমবুলে ছাড়াও সেদেশের একাধিক রাজনৈতিক নেতা ও উচ্চ পদস্থ আধিকারিক অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

ভারত সরকার এই প্রকল্পের আওতায় শ্রীলঙ্কার বিভিন্ন স্থানে মোট ১০০টি আদর্শ গ্রাম গড়ে তুলতে শ্রীলঙ্কার গৃহনির্মাণ, নির্মাণ ও সংস্কৃতি মন্ত্রককে সহায়তা করেছে। মোট ২,৪০০টি গৃহ নির্মাণে ভারত ১২০০ মিলিয়ন শ্রীলঙ্কার টাকা আর্থিক সহায়তা দিয়েছে। এই লক্ষ্যে ভারত ও শ্রীলঙ্কা ২০১৭’র ২৬শে অক্টোবর একটি সমঝোতা স্মারকপত্র –মৌ স্বাক্ষর করে। এই সমঝোতা অনুযায়ী, গ্রাম শক্তি গৃহ নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় শ্রীলঙ্কার দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রদেশে ৬০০টি বাড়ি নির্মাণে ৬০০ মিলিয়ন শ্রীলঙ্কান টাকা এবং আদর্শ গ্রাম নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় ২৫টি জেলায় ৬০০টি গৃহ নির্মাণে ৬০০ মিলিয়ন শ্রীলঙ্কান টাকা ভারতীয় সহায়তার কথা বলা হয়।

এই প্রকল্পে ভারত সরকার আর্থিক ও প্রযুক্তিগত সহায়তা প্রদান করছে। গৃহ নির্মাণের প্রতিটি স্তরের জন্য পাঁচ বারে নগদে মোট ৫ লক্ষ শ্রীলঙ্কান টাকা নিম্ন আয়ের গৃহহীন মানুষদের জন্য বরাদ্দ করা হয়। এই প্রকল্প গুলি ছাড়াও ভারত সরকার শ্রীলঙ্কার উত্তরে দেশের অভ্যন্তরে বাস্তুচ্যুত মানুষদের জন্য ৫০হাজার গৃহ নির্মাণেও সহায়তা করছে। অন্যদিকে দেশের পূর্বে বাগিচা ক্ষেত্রের জন্য ১০ হাজার গৃহ নির্মাণেও ভারত সহায়তাদানে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ২০১০ এবং ২০১৭য় এ বিষয়ে সমঝোতা স্মারকপত্র স্বাক্ষরিত হয়।

ভারতের ৩০০ মিলিয়ন শ্রীলঙ্কান টাকা আর্থিক সহায়তায় অনুরাধাপুরার সবিতা থেরো গ্রামে ১৫৩টি গৃহ, একটি কমিউনিটি বিল্ডিং, অভ্যন্তরীণ জল সরবরাহ ব্যবস্থা, সন্ন্যাসীদের বাসস্থানের সংস্কার এবং একটি পাঠাগার নির্মাণ করার লক্ষ্যেও দুদেশের সরকার ২০১৭’র ১৪ই জুলাই সমঝোতা স্মারকপত্র স্বাক্ষর করে।

শ্রীলঙ্কায় ভারতের হাইকমিশনার তরনজিৎ সিং সিধু জানান, শ্রীলঙ্কায় গৃহনির্মাণ প্রকল্পে অংশগ্রহণ দেশে বাইরে ভারতের সবচেয়ে বড় প্রকল্প।

ভারত শ্রীলঙ্কায় চলতি প্রকল্পগুলি ছাড়াও স্বাস্থ্য, শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন, পরিকাঠামো ও বৃত্তমূলক প্রশিক্ষণ সহ বিভিন্ন জনকল্যাণমুখী উন্নয়ন প্রকল্পে অংশ নিয়েছে। সেদেশে ভারতের আর্থিক সহায়তার পরিমাণ ৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এর মধ্যে ৬০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার দেওয়া হয়েছে অনুদান হিসেবে।

দীর্ঘদিন পর্যন্ত একটি ভ্রান্ত ধারণা ছিল যে, শ্রীলঙ্কায় ভারত যে সমস্ত প্রকল্পে সহায়তা করেছে, তা কেবলমাত্র সেখানকার উত্তর ও পূর্বের তামিল অধিবাসীদের জন্য। শ্রীলঙ্কায় দীর্ঘ সংঘর্ষের অনতিবিলম্বে ভারত সরকার শ্রীলঙ্কার যুদ্ধদীর্ণ এলাকায় ত্রাণ, পুণর্গঠন ও পুণর্বাসন কর্মসূচীতে সহায়তাদানের প্রতিশ্রুতি দেয়। এর ফলে মূলতঃ শ্রীলঙ্কার উত্তর ও পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশগুলিতেই ভারতের সহায়তায় একাধিক প্রকল্প কার্যকর হয়। তবে তা এই দুটি প্রদেশেই সীমাবদ্ধ ছিল না। ভারত শ্রীলঙ্কার কর্তৃপক্ষের অনুরোধে আরো ব্যাপক ক্ষেত্রে উন্নয়নমূলক প্রয়াসে সহায়তা করে। ভারতের সাহায্যেই ১৯৯০টি জরুরি অ্যাম্বুলেন্স পরিষেবার বিষয়টি খানে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। প্রথমে এই পরিষেবা শুরু  হয় দক্ষিণ ও পশ্চিমের প্রদেশগুলিতেই। এই প্রয়াস ব্যাপক সাফল্য পাওয়ার পর শ্রীলঙ্কা সরকার সমগ্র শ্রীলঙ্কাতেই এই প্রকল্প রূপায়নের অনুরোধ জানায় এবং ভারত সরকার এই অনুরোধ গ্রহণ করে। ভারত, শ্রীলঙ্কার রেল ক্ষেত্রের উন্নয়নেও ১.৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ঋণদানের বিষয়ে প্রতিশ্রুতবদ্ধ।

অনেক সময়েই ভারতীয় প্রকল্পের সমালোচনা করে বলা হয় যে, সেগুলি সময়ে সম্পূর্ণ হয় না। এর সমাধানের লক্ষ্যে ছোট আকারের উন্নয়ন প্রকল্প রূপায়নের বিষয়ে উভয় দেশের সরকারের মধ্যে মৌ স্বাক্ষরিত হয়েছে। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, শ্রীলঙ্কায় বর্তমানে ভারতীয় সহায়তায় যে সমস্ত প্রকল্পগুলি রূপায়িত হচ্ছে, তার মধ্যে অনেকগুলি নির্ধারিত গতিতেই এগোচ্ছে। শুধু তাই নয়, বেশ কিছু প্রকল্প নির্ধারিত সময়ের থেকে দ্রুত গতিতে সম্পন্ন হচ্ছে।

(মূল রচনাঃ গুলবিন সুলতানা)