ভারত-ইউ এ ই সম্পর্ক নতুন উচ্চতায়

For Sharing

গত পাঁচ বছরে সংযুক্ত আরব আমীর শাহী’ ইউ এ ইর বিদেশ মন্ত্রীর পাঁচবার ভারত সফর থেকেই এই দুটি দেশের সম্পর্কের গভীরতা অনুমান করা যেতে পারে। মহামহিম আবদুল্লা বিন যায়েদ আল নাহান, সংযুক্ত আরব আমীর শাহীর বৈদেশিক বিষয়ক এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা দপ্তরের মন্ত্রীর ৭-৯ জুলাই, ২০১৯ তিন দিনের ভারত সফর এই সম্পর্ককে আরো এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে যাবে এবং দুটি দেশের ঐতিহাসিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক ঘনিষ্টতায় এক নতুন উচ্চতা এনে দেবে। গত পাঁচ বছরে এটি পঞ্চম সফর। এই যাত্রা শুরু হয় ২০১৫ সালে যখন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সংযুক্ত আরব আমীর শাহী সফর করেন। সেটি ছিল ৩৪ বছরে কোনো ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রথম এই উপসাগরীয় দেশ সফর। ২০১৫র সফরের সময় কৌশলগত অংশীদারিত্বের যুগের সূচনা হয়। ভারতের কৌশলগত পেট্রলিয়াম রিসেভ কর্মসূচিতে ইউ এ ই প্রথম অংশগ্রহণকারী দেশ। বিদেশ মন্ত্রীর বর্তমান সফরে এই সম্পর্কে আরো বৈচিত্র আসবে বলে আশা করা যায়।

ইউ এ ইর বিদেশ মন্ত্রীর সঙ্গে এসেছেন উচ্চ পর্যায়ের এক বাণিজ্যিক প্রতিনিধি দল, এটি তাঁদের অর্থনৈতিক বিকাশের প্রতিফলন।  বর্তমানে ভারত ইউ এ ইর তৃতীয় বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদার এবং চতুর্থ বৃহত্তম জ্বালানী রপ্তানীকারক। এটিও উল্লেখযোগ্য বিষয় যে ইউ এ ইতে প্রায় ৩.৩ মিলিয়ন অনাবাসী ভারতীয় বসবাস করে এবং ইউ এ ইর সার্বিক উন্নতিতে তাঁদের অভূতপূর্ব অবদান রয়েছে।

এদেশে তিন দিনের সফরকালে শ্রী আবদুল্লা বিন যায়েদ আল নাহান ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড.জয়শংকরের সঙ্গে দেখা করেন এবং বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা, জ্বালানী নিরাপত্তা এবং সন্ত্রাসবাদ বিরোধী ব্যবস্থাদি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। ইউ এ ইর বিদেশমন্ত্রী,  ড. জয়শংকরকে সিরিয়া, লেবানন এবং ইয়েমেনের রাজনৈতিক ঘটনাবলী সম্পর্কে অবহিত করেন। এছাড়া তাঁরা আন্তর্জাতিক রাজনীতির বর্তমান অবস্থা নিয়েও কথাবার্তা বলেন। সন্ত্রাসবাদের উপযুক্ত মোকাবিলা করা ভারত ও ইউ এ ইর দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক। উভয় নেতা সমস্ত ধরণের সন্ত্রাসবাদের মোকাবিলার প্রতি জোর দেন।

সফররত বিদেশ মন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রী মোদির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং উভয়ে দু’দেশের সম্পর্ককে এই নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন। বৈঠকে উভয় পক্ষ দুটি দেশের ঘনিষ্ট সহযোগিতার ক্ষেত্র নিয়ে কথাবার্তা বলেন। শ্রী আবদুল্লা বিন যায়েদ আল নাহান ২০১৮র জুন মাসেও শ্রী মোদির সঙ্গে বৈঠক করেন, তখন তিনি পেট্রোলিয়াম এবং প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রকের আয়োজিত যৌথ ওয়ার্কশপে যোগ দিতে নতুন দিল্লী এসেছিলেন। এর আগে ২০১৬ এবং ২০১৭সালে যুবরাজ শেখ মহম্মদ বিন যায়েদ আল নাহানের সঙ্গেও তিনি নতুন দিল্লী সফর করেন। সাম্প্রতিক বছরগুলিতে ভারত-সংযুক্ত আমীর শাহীর সম্পর্ক উত্তরোত্তর বেড়ে চলেছে। ২০১৯এর মার্চে ইউ এ ই, ইসলামিক সহযোগিতা সংগঠনের সভাপতি হিসেবে  ও আই সির ৪৬তম মন্ত্রী পরিষদের বৈঠকে ভারতকে আমন্ত্রণ জানানোর পর থেকে এই সম্পর্ক আরো উন্নত হয়েছে।

এই সফরের ফলে সাধারণভাবে আরব দুনিয়ার সঙ্গে এবং বিশেষভাবে উপসাগরীয় অঞ্চলের সঙ্গে সক্রিয় সহযোগিতার এক নতুন যুগের সূচনা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী মোদির উৎসাহে এই সম্পর্কে নতুন জোয়ার আসবে  তাতে কোনো সন্দেহ নেই। ভারতের সম্প্রসারিত প্রতিবেশী দেশগুলির বিষয়ে ভারতের নীতি খুবই সুস্পষ্ট এবং তাতে এই অঞ্চলের অর্থনৈতিক এবং কৌশলগত স্বার্থের কথা বলা হয়েছে। এছাড়া, ইউ এ ইর বিদেশ মন্ত্রীর এটি ছিল এক সৌজন্য সফর এবং তা  এই বার্তাই বহন করে যে প্রধানমন্ত্রী মোদির প্রথম কার্যকালের মেয়াদে যে মজবুত সম্পর্কের ভীত তৈরি হয়েছে তা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। (মূল রচনাঃ ড.ফৈজুর রহমান সিদ্দিকী)