ভারতীয় অর্থনীতি উচ্চ বিকাশের পথে

For Sharing

আন্তর্জাতিক অর্থ তহবিল (আই এম এফ)  সর্বশেষ ওয়ার্ল্ড ইকনমিক আউটলুকে বর্তমান অর্থ বছরে ভারতের মোট অভ্যন্তরীণ উৎপাদন বা জি ডি পি ৭% এবং আগামী বছর ৭.২% হবে বলে তাদের আনুমানিক হিসেবে জানিয়েছে। ২০১৯এর কেন্দ্রীয় বাজেটের প্রাক্কালে সরকারের প্রকাশিত অর্থনৈতিক সমীক্ষায় যে পরিসংখ্যান দেখানো হয়েছে আই এম এফ এর এই অনুমান তার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং এ থেকে স্পষ্ট ইঙ্গিত পাওয়া যায় যে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে প্রতিকূল অবস্থা থাকা সত্বেও ভারতের অর্থনৈতিক বিকাশ খুবই আশাপ্রদ।

বাণিজ্য লড়াই, সংরক্ষণবাদ, চীন সহ বড় বড় অর্থনীতিতে মন্দাভাব এবং  আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ হ্রাস ইত্যাদির প্রেক্ষিতে আই এম এফ এই অর্থ বছরে তাদের পূর্বাভাস ৭.৩ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৭ শতাংশ করেছে। এই সব প্রতিকূলতার প্রেক্ষাপটে ভারতের অর্থনৈতিক আনুমানিক বিকাশের হার নিঃসন্দেহে তাদের মুকুটে এক নতুন পালক  সংযোজনের সমতুল্য। দুর্বল আন্তর্জাতিক অবস্থা সত্বেও ধারা বাহিক বিকাশের মূল কারণগুলির মধ্যে রয়েছে মজবুত অভ্যন্তরীন অর্থনৈতিক উপাদন, অর্থনৈতিক নীতিতে সংস্কার এবং আর্থিক শৃংখলা।

গত পাঁচ বছরে ভারতের অর্থনৈতিক বিকাশের হার ৭.৫ শতাংশের আশেপাশেই রয়েছে, এর ফলে এটি বিশ্বের দ্রুততম বিকাশশীল অর্থনীতি হয়ে উঠেছে। ক্রয় ক্ষমতার সমতার’ পি পি পি-র নিরিখে ভারত বর্তমানে বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি; কেবল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং জার্মানীর পরেই ভারতের স্থান। গত কয়েক বছরে ভারত পণ্য ও পরিষেবা কর’ জি এস টি, অসচ্ছলতা এবং দেউলিয়া বিধি’ আই বি সির মত বেশ কিছু অর্থনৈতিক সংস্কার সাধন করেছে। জি এস টি সহযোগিতামূলক যুক্তরাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার এক অসাধরণ পরীক্ষণ বলে প্রশংসিত হয়েছে। অন্যদিকে বাণিজ্যিক প্রক্রিয়াকে সহজতর করে তোলার ক্ষেত্রে আই বি সি সহায়ক বলে মনে করা হয়। সাম্প্রতিক অতীতে আই এম এফ ছাড়াও বিশ্ব ব্যাংক এবং এশিয় উন্নয়ন ব্যাংকের মত নানান আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক সংগঠন এই ধরণের সংস্কারের প্রশংসা করেছে। এছাড়া ব্যবসা বাণিজ্য সহজ করা এবং আন্তঃসীমান্ত বাণিজ্যের মত বিষয়গুলিও এই বিকাশ হারের ক্ষেত্রে অবদান জুগিয়েছে।

ভারত ব্যবসা বাণিজ্য সহজ করা এবং বিদেশী বিনিয়োগ আকর্ষণের মত সংস্কার অব্যাহত রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ভারতের প্রত্যক্ষ বিদেশী বিনিয়োগের পরিমাণ আগের বছরের তুলনায় ৬শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ২০১৮-১৯এ হয়েছে ৬৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। বিনিয়োগের পরিমাণ বছরে ৩০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে নিয়ে যেতে সরকার বিমান চলাচল এবং বীমা ক্ষেত্রেকে উন্মুক্ত করার পরিকল্পনা করছে।  প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ভিসন অনুযায়ী  ভারত তার অর্থনীতিকে ২০২৪এর মধ্যে ৫ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারে উন্নীত করার লক্ষ্যে কাজ করে চলেছে। ভারতীয় অর্থনীতি বর্তমানে ২.৮৭ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছে গেছে। আগামী পাঁচ বছরে তাকে দ্বিগুণ করার জন্য বিকাশ হার হতে হবে প্রায় ৮শতাংশ। অব্যাহত  কাঠামোগত সংস্কার, কম ব্যয়ের মূলধন এবং বর্ধিত পরিকাঠামো ব্যয়ের মত কার্যকলাপের লক্ষ্যমাত্রা সরকার দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় আসার পর তাদের প্রথম বাজেটেই ধার্য করেছে। মেক ইন ইন্ডিয়া প্রয়াসকে এগিয়ে নিয়ে যেতে সরকার সানরাইজ এবং উন্নত প্রযুক্তি ক্ষেত্রে বৃহৎ উৎপাদন প্রকল্প স্থাপনের জন্য স্বচ্ছ প্রতিযোগিতামূলক নীলাম প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন কোম্পানীকে আমন্ত্রণের কর্মসূচি শুরু করবে।

উচ্চ বিকাশ হার বজায় রাখার সঙ্গে সঙ্গে ভারত মুদ্রাস্ফিতিকে ৪ শতাংশে সীমিত রাখতে সক্ষম হয়েছে। এছাড়া চলতি খাতে জি ডি পি ঘাটতির অনুপাতকেও আয়ত্বের মধ্যে রাখা সম্ভব হয়েছে।  আই এম এফ এর আনুমানিক হিসেব প্রশংসাযোগ্য হলেও ভারত এতে আত্মসন্তুষ্ট নয়। সংস্কার কর্মসূচিকে দ্রুত এগিয়ে নিতে তারা কৃত সংকল্প। আইন কানুন সরল করা ও রাজস্ব একত্রীকরণ, ব্যাংক ব্যবস্থা ও শ্রম ক্ষেত্রে ইতিবাচক পরিবর্তন এবং সরকারী ঋণ হ্রাসের মাধ্যমে অর্থনৈতিক বিকাশের গতি ত্বরান্বিত হবে এবং আগামী দিনগুলিতে ভারত উচ্চ বিকাশ হার অর্জন করতে সক্ষম হবে বলে আশা করা যায়। (মূল রচনাঃ সত্যজিৎ মোহান্তি)