ব্রিক্স বিদেশ মন্ত্রীদের বৈঠক

For Sharing

বিশ্ব ইতিহাসে  দ্রুত পট পরিবর্তন হচ্ছে।  পশ্চিম থেকে পূর্বে এবং উত্তর থেকে দক্ষিণে ক্ষমতার পরিবর্তন ঘটছে। এই পরিবর্তনের ধরণ বেশ দ্রুততর। এটি  ঐতিহাসিক পরিবর্তন। বর্তমান যুগে এই প্রথম সম্পদ এবং জনসংখ্যা একই স্থানে কেন্দ্রীভুত। এই পরিবর্তন থেকেই জন্ম হয়েছে ব্রিক্সের। বিশ্ব এবং তার কর্মকর্তারা দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। বিশ্বের দৃষ্টি এখন ব্রিক্সের ওপর নিবদ্ধ।

এই গোষ্ঠী অন্য গোষ্ঠীর মত নয়, প্রাক্তন মহাশক্তিধর দেশগুলি, আগামীদনের বিভিন্ন শক্তিশালী দেশ এবং এশিয়া, আফ্রিকা এবং ল্যাটিন আমেরিকার সম্ভাব্য শক্তিগুলিকে নিয়ে এটি গঠিত। ব্রিক্স এক বিকল্পের সন্ধান দিয়েছে। সব চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল বিশ্ব অর্থনীতির স্থিতিশীলতা এবং সমৃদ্ধির জন্য অত্যাবশ্যক উদীয়মান শক্তিগুলির ভূমিকার প্রতি এই গোষ্ঠী আলোকপাত করে। ব্রিক্স আন্তর্জাতিক সম্প্রর্কের ক্ষেত্রে এক নতুন সংগঠন। জি-৭এর তুলনায় এটি অধিক প্রতিনিধিমূলক। ব্রিক্সের যাত্রার দ্বিতীয় দশক শুরু হয়ে গেছ।

গত সপ্তাহে ব্রিক্সের বিদেশ মন্ত্রীপর্যায়ের বৈঠকে বহুপাক্ষিকতা এবং আন্তর্জাতিক বিষয়ে রাষ্ট্রসংঘের কেন্দ্রীয় ভূমিকার প্রতি  সর্বসম্মত সমর্থন  জানানো হয়। কিছু কিছু পশ্চিমী দেশ আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলিকে ততটা গুরুত্ব না দিলেও ব্রিক্স রাষ্ট্রসংঘ, বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা এবং আন্তর্জাতিক অর্থ তহবিলের মত সংগঠনগুলির সংস্কারের পক্ষে মত প্রকাশ করেছে। মন্ত্রীরা রাষ্ট্রসঙ্ঘকে আরো কার্যকর ও দক্ষ করে তোলার প্রয়োজনীয়তার প্রতি গুরুত্ব আরোপ করেন।

বিদেশ মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে  রাষ্ট্রসংঘের অধীনে কঠোর আন্তর্জাতিক আইনের ভিত্তিতে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে মোকাবিলার জন্য সঙ্ঘবদ্ধ প্রয়াসের আহ্বান জানানো হয়। ভারত সম্ভবত সবচেয়ে জোরালোভাবে এবং দৃঢ়তার সঙ্গে আন্তার্জাতিক এবং আঞ্চলিক সন্ত্রাসবাদের আশংকার কথা উত্থাপন করে। ভারতের মত অন্য কোনো দেশকে হয়তো রাষ্ট্রের মদতপুষ্ট সন্ত্রাসবাদের শিকার হতে হয় নি। ভারত এই জঙ্গীবাদের মোকাবিলায় পাঁচ দফা বিশ্ব কৌশলের উল্লেখ করেছে-সময়মতো গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়, আধুনিক যোগাযোগের অপব্যবহার রোধ, উন্নত সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা গড়ে তোলা, যাত্রী চলাচলের বিষয়ে তথ্য ভাগ করে নেওয়া এবং আন্তর্জাতিক জঙ্গী মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের উল্লেখ।

মন্ত্রীরা জঙ্গী আক্রমণ এবং সমস্ত ধরণের সন্ত্রাসবাদের নিন্দা করেছেন।  সন্ত্রাসবাদ দমনে ব্রিক্সের গৃহীত ব্যবস্থার ফলে যে অগ্রগতি হয়েছে তারা সে কথা স্বীকার করেন।

সড়ক, পরিবহন এবং মহাসড়ক মন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রী জেনারেল ভি কে সিং রিও বৈঠকে ভারতের প্রতিনিধিত্ব করেন। তিনি পলাতক অর্থনৈতিক অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সম্পদ উদ্ধারের জন্য প্রধানমন্ত্রীর ন’দফা কর্মসূচির উল্লেখ করেন।

ব্রিক্সের বিদেশমন্ত্রীরা মধ্য প্রাচ্য এবং উত্তর আমেরিকার বর্তমান দ্বন্দ্বের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন কারণ এর ফলে আঞ্চলিক এবং আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি অনেকাংশে প্রভাবিত। মন্ত্রীরা  আফগান-নেতৃত্বাধীন এবং আফগান পরিচালিত শান্তি এবং আপোশরফা প্রক্রিয়ার প্রতি জোর দিয়ে বলেন যে এর ফলে  ঐ দেশ এবং প্রতিবেশী অঞ্চলের শান্তি এবং স্থিতিশীলতা সুনিশ্চিত করবে।

তবে, ভেনেজুয়েলার বিষয়ে ব্রিক্স সদস্যদের মধ্যে ভিন্ন মত লক্ষ্য করা যায়। রাশিয়া বাইরের হস্তক্ষেপের বিরোধীতা করে, ব্রাজিল ভেনেজুয়েলার সমস্যা সমাধের জন্য ব্রিক্স দেশগোষ্ঠীর প্রতি আহ্বান জানান। তবে সকলে একমত হয় যে ভেনেজুয়েলার রাজনৈতিক অচলাবস্থার শান্তিপূর্ণ সমাধান আবশ্যক।

ব্রাজিলের নতুন রাষ্ট্রপতি এবছরের গোড়ার দিকে ক্ষমতায় আসার সময় কিছুটা অনিশ্চয়তার সৃষ্টি হয়েছিল। অনেকেই অনুমান করেছিলেন রাষ্ট্রপতি বলসোনারো আন্তর্জাতিক পশ্চিমী নেতাদের প্রতি বিশেষ করে  রাষ্ট্রপতি ডোলাল্ড ট্রাম্পের প্রতি তাঁর আনুগত্য পরিবর্তন করতে পারেন। কিন্তু তিনি ব্রিক্স এবং তার কর্মসূচিকে মনে প্রাণে সমর্থন করেন। বলসোনারোর ব্রিক্স সভাপতিত্বের মূল স্তম্ভ হল, শক্তি, শান্তি, নিরাপত্তা, অভিনবত্ব এবং উন্নত অর্থব্যবস্থা। আর এগুলি ব্রিক্স কর্মসূচির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।  ব্রিক্স বিদেশ মন্ত্রীরা সেপ্টেম্বরে নিউ ইয়র্কে রাষ্ট্রসংঘ সাধারণ সভার ৭৪তম অধিবেশনের   সঙ্গে সঙ্গতি রেখে পরবর্তি বৈঠকে মিলিত হবেন। (মূল রচনাঃ অ্যাশ নারায়ন রায়)