ভারত- মোজাম্বিক সম্পর্কে ঘনিষ্ঠতা

For Sharing

প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং আফ্রিকার দেশ মোজাম্বিক সফর সম্পন্ন করলেন। রাজনাথ সিং’এর তিন দিনের মোজাম্বিক সফরকালে ওই দেশের  সঙ্গে কৌশলগত সম্পর্ক ও দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে দুটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি স্বাক্ষর করা হল। এর মধ্যে একটি হল অসামরিক বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল বিষয়ক অগ্রিম তথ্য আদান প্রদান ও দ্বিতীয়টি জল বিজ্ঞান বিষয়ক সহযোগিতা বিষয়ক। এই প্রথম ভারতের কোনও প্রতিরক্ষামন্ত্রী মোজাম্বিক সফরে গেলেন।

এই সফরে রাজনাথ সিং,  মোজাম্বিকের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী আতানাসিওটুমুকের সঙ্গে বৈঠকে  ওই দেশকে ভারতের এক গুরুত্বপূর্ণ মিত্র দেশ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, তাঁর এই সফরে দ্বিপাক্ষিক প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও মজবুত হয়ে উঠবে। শ্রী সিং, ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে নৌ নিরাপত্তা মজবুত করার ক্ষেত্রে মোজাম্বিককে ভারতের অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য সহযোগী দেশ হিসেবে উল্লেখ করেন। চোরাচালান, সন্ত্রাসবাদ  ও জলদস্যু বৃত্তির মত নানা বিপদের মোকাবিলা ও সামগ্রিক নৌ সহযোগিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ভারত ওই দেশকে দুটি জাহাজ সহ বেশ কয়েকটি  যোগাযোগ উপকরণ সরবরাহ করেছে। এ ছাড়াও এই জাহাজ গুলির কর্ম প্রণালীর সঙ্গে পরিচিত করতে  ও এগুলির রক্ষণাবেক্ষণের জন্য ভারতীয় উপকূলরক্ষী বাহিনীর  চার সদস্যের একটি দল সে দেশের নৌ বাহিনীকে সাহায্য করছেন।

এর আগে মোজাম্বিকের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিংকে সে দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা পরিস্থিতি সম্পর্কে অবহিত করেন। শ্রী সিং মাপুটোতে মোজাম্বিকের প্রধানমন্ত্রী কার্লস আগস্থিনো দো রোসারিও’র সঙ্গে আলোচনা করেন। দুই নেতা দ্বিপাক্ষিক প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা সহযোগিতা বৃদ্ধির সম্ভাবনা গুলি খতিয়ে দেখেন।

মোজাম্বিকে ভারতের লগ্নীর পরিমাণ ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। বর্তমানে এই পরিমাণ প্রায় ৭০০ কোটি মার্কিন ডলার, যা আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে ভারতের মোট বিনিয়োগের  ২৫ শতাংশের মত।  ভারতের লগ্নী প্রধানত সে দেশের তেজঃশক্তি ও কয়লা ক্ষেত্রে।  ২০১৭’তে ভারতে মোজাম্বিকের রপ্তানির পরিমাণ ছিল সবচেয়ে বেশি। এই পরিমাণ সে দেশের মোট রপ্তানি আয়ের প্রায় ৩৫ শতাংশ।

বিনিয়োগ ছাড়াও দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ সাম্প্রতিক বছরগুলিতে দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। ২০১০ থেকে ২০১৫’র মধ্যে এই পরিমাণ প্রায় পাঁচগুন বেড়ে ২০১৪-১৫’তে দাঁড়িয়েছে ২৪০ কোটি মার্কিন ডলার। মোজাম্বিকে ভারতের রপ্তানি পণ্যের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল পেট্রোপণ্য ও ধাতব পদার্থ; অন্যদিকে ওই দেশ থেকে ভারতে আমদানি সামগ্রী প্রধানত  কয়লা ও কাজুবাদাম।

প্রতিরক্ষা মন্ত্রী তাঁর এই সফরে মোজাম্বিকের সঙ্গে ভারতের যুগ প্রাচীন ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কথা উল্লেখ করেন।  মোজাম্বিকের প্রায় ২০ হাজার নাগরিক ভারতীয় বংশোদ্ভূত। মোজাম্বিকে ভারতীয় সম্প্রদায়ের উপস্থিতিও বিশেষ উল্লেখযোগ্য,যাঁরা ওই দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপুর্ণ অবদান যোগাচ্ছেন।

স্মরণ করা যেতে পারে, ২০১৬ সালের জুলাই মাসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মোজাম্বিক সফরের পর থেকে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এক নতুন মাত্রা পেয়েছে। প্রকৃত অর্থে  ২০১৪ সালে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে কেন্দ্রে এন ডি এ সরকার ক্ষমতায় আসবার পর থেকে কেবল মোজাম্বিকই নয়, সমগ্র আফ্রিকার সঙ্গে ভারতের যোগাযোগ ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। ২০১৫’তে তৃতীয় ভারত-আফ্রিকা শিখর সম্মেলনের পর আফ্রিকার বিভিন্ন দেশের সঙ্গে ভারতের উচ্চ স্তরীয় সরকারী প্রতিনিধিদের সফর বিনিময় হয়েছে। ২০১৫’র পর বিভিন্ন সময়ে ভারতের রাষ্ট্রপতি, উপরাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী ছাড়াও অন্যান্য বেশ কয়েকজন প্রবীণ সরকারী আধিকারিক  আফ্রিকার কয়েকটি দেশ সফর করেছেন। রাষ্ট্রপতি রাম নাথ কোবিন্দ এখন পশ্চিম আফ্রিকার তিনটি দেশ সফর করছেন।

সংক্ষেপে বলতে গেলে, মোজাম্বিকের সঙ্গে ভারতের ঘনিষ্ঠ উন্নয়নী অংশীদারিত্বের কারণে দুটি দেশের মধ্যে জন সম্পর্ক ক্রমশ অধিক মজবুত হয়ে উঠছে।  (মূল রচনাঃ- ভিনিত ওয়াহি)