ভারতে বাঘের সংখ্যা বৃদ্ধি

For Sharing

ভারতে আগের তুলনায় বাঘের গর্জন বেশি শোনা যায়। তাদের সংখ্যা বেড়ে প্রায় ৩,০০০এ পৌঁছে গেছে। ফলে এই দেশ তাদের জন্য বিশ্বের সবচেয়ে নিরাপদ বাসস্থান হয়ে উঠেছে। ভারত এখন বিশ্বের মোট বন্যপ্রাণীর ৭৫ শতাংশের বাসস্থল। গত চার বছরে তাদের সংখ্যা বেড়েছে ৩৩ শতাংশ।

২০০৬ থেকে ২০১০এর মধ্যে এই পরিমাণ ছিল ২১ শতাংশ এবং ২০১০ থেকে ২০১৪র মধ্যে ছিল ৩০ শতাংশ। সর্বভারতীয় ব্যাঘ্র হিসেব, ২০১৮ শিরোনামাংকিত  সর্বশেষ ব্যাঘ্র সুমারি প্রতিবেদন অনুযায়ী ২০০৬ থেকে বাঘের বার্ষিক গড় বৃদ্ধির সঙ্গে এই  বৃদ্ধির হার সামঞ্জস্যপূর্ণ।

মধ্যপ্রদেশে বাঘের সংখ্যা  সর্বাধিক ৫২৬, তারপর কর্ণাটকে ৫২৪ এবং উত্তরাখন্ডে বাঘের সংখ্যা  ৪৪২। এই প্রতিবেদন তৈরি করেছে যৌথভাবে ভারতের বন্যপ্রাণী প্রতিষ্ঠান, জাতীয় ব্যঘ্র সংরক্ষণ কর্তৃপক্ষ’এন টি সি এ এবং রাজ্য বন বিভাগসমূহ। ভারত প্রতি চার বছরে ব্যঘ্র গণনা করে থাকে। এটি এই সুমারির চতুর্থ সংকলন। আগের তিনটি গণনা সম্পূর্ণ হয় ২০০৬, ২০১০ এবং ২০১৪ সালে।

ভারতে বাঘের সংখ্যার হিসেব রাখার জন্য দ্বৈত নমুনা সংগ্রহের দৃষ্টিভঙ্গী গ্রহণ করা হয় যাতে সংখ্যা নিশ্চিত করার জন্য চিহ্ন ধরে রাখার মাধ্যমে সমীক্ষা করা হয়। এই সমীক্ষায় ভারতের প্রায় ৩,৮২,০০০ বর্গ কিলোমিটার বনাঞ্চলের সমীক্ষা করা হয়। এর মধ্যে ১,৩০,০০০ বর্গ কিলোমিটারের সমীক্ষা করা হয় ক্যামেরা ট্র্যাপের মাধ্যমে।

দুটি ভাগে এই গণনা করা হয়। প্রথম নমুনায় বাস্তব ক্ষেত্র থেকে পরিসংখ্যান সংগ্রহ করা হয়। প্রায় ৪০,০০০ ফিল্ড স্টাফ আনুমানিক ১৮টি রাজ্য থেকে পরিসংখ্যান সংগ্রহ করে। বাঘের উপস্থিতি, আশ্রয় স্থল, সহকারী-প্রাণী, তাদের শিকারের সংখ্যা, মানব প্রভাব এবং অন্যান্য বিষয়ে নথি তৈরি করা হয়।

দ্বিতীয় ভাগে, প্রশিক্ষিত বন্যপ্রাণী জৈববিজ্ঞানীরা বিভিন্ন এলাকায় ক্যামেরা ট্র্যাপ বসায়। তারা বাঘ এবং তাদের শিকার সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করে। দেরাদুনে অবস্থিত ভারতীয় বন্যপ্রাণী প্রতিষ্ঠানে এই সব পরিসংখ্যান নিয়ে সমীক্ষা ও বিশ্লেষন করা হয়।

২০১৮র সুমারি প্রযুক্তিগতদিক থেকে ছিল  এযাবৎকালে দেশের সবচেয়ে গভীর বন্যপ্রাণী গণনার অনুশীলন। এটি পূর্বের তুলনায় সর্বাদিক সথিক এবং সুনির্দিষ্ট। এই সমীক্ষায় এ্যান্ড্রয়েড ফোন ভিত্তিক প্রয়োগ এবং এম-স্ট্রিপ্স ব্যবস্থা কাজে লাগানো হয়েছে। তথ্য সংগ্রহ এবং বিশ্লেষন উভয় কাজেই সফটওয়ার ব্যবহৃত হয়।

ফোন এ্যাপ্লিকেশনে নিজে থেকেই সমীক্ষার তথ্যাদি নথিভুক্ত হয় যায়। এবার প্রায় ১৫,০০০ ক্যামেরা ব্যবহৃত হয়, এর আগে ২০০৬এর গণনায় এই সংখ্যা ছিল ৯০০০।

বন্য প্রাণী জীববিজ্ঞানীরা জানাচ্ছেন বর্ধিত ক্যামেরা ট্র্যাপ এবং এ্যান্ড্রয়েড প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে এবারের হিসেব অনেক বেশি নির্ভুল। প্রায় ৮৩ শতাংশ বাঘ ক্যামেরা ট্র্যাপ করা হয়।

ভারতের ব্যঘ্র সুমারি অনুশীলন বিশ্বের বৃহত্তম বন্যপ্রাণী সমীক্ষা বলে বিবেচিত।

সেন্ট পিটার্সবার্গ ঘোষণাপত্র অনুযায়ী ভারত ২০২২এর শেষ সীমার চার বছর আগেই তাদের প্রতিশ্রুতি পালনে সক্ষম হয়েছে। নতুন দিল্লীতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বিশ্ব ব্যঘ্র দিবসে সমীক্ষার ফলাফল ঘোষণা করেন। তিনি বলেন ভারত উন্নয়ন এবং পরিবেশের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন ভারত  নাগরিকের জন্য অধিক গৃহ নির্মাণ করবে একই সঙ্গে প্রাণীকূলের জন্যও উন্নতমানের আবাসস্থল তৈরি করবে।

বাঘের সংখ্যায় এই বিপূল বৃদ্ধির ফলে একদিকে যেমন ব্যন্যপ্রাণী পর্যটন বৃদ্ধি পাবে পক্ষান্তরে ভারতের অর্থনীতির উন্নয়নের ক্ষেত্রে তা বড় রকমের ভূমিকা পালন করতে পারে।  এছাড়া, পরিবেশ পর্যটনের ফলে স্থানীয় সম্প্রদায়ের লোকজন নিঃসন্দেহে বহুলাংশে উপকৃত হবে। (মূল রচনাঃ কে ভি ভেংকাটসুব্রাহ্মনিয়াম)