এ সপ্তাহে সংসদ

For Sharing

এ সপ্তাহে সংসদের অধিবেশনে  সরকার বেশ কয়েকটি বিল সংসদে পাশ করাতে সফল হল। কোম্পানী বিষয়ক সংশোধনী বিলটি  রাজ্য সভার অনুমোদন পেল। এর ফলে বাজেট অধিবেশনের আগে কার্যকর সবকটি অধ্যাদেশ পূর্ণাঙ্গ আইন হিসেবে অনুমোদিত হল। গত লোক সভায় এন ডি এ সরকার সংশ্লিষ্ট আইনগুলি পাশ করাতে না পারার কারণে দশটির মত অধ্যাদেশ জারি করতে হয়। বাজেট অধিবেশনে সংসদের অনুমোদন পাওয়া বিলগুলির মধ্যে সর্বাধিক উল্লেখযোগ্য হল – তিন তালাক নিরোধক বিল; জাতীয় মেডিক্যাল কমিশন গঠন বিল ও জম্মু ও কাশ্মীর বিষয়ক সংশোধনী বিল।

তিন তালাক বিলের ওপর দীর্ঘ বিতর্কের শেষে কোম্পানী আইন সংশোধনী বিলটি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। এই বিলের একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের সংস্থান অনুযায়ী, কোম্পানী সামাজিক দায়দায়িত্ব পালন বা CSRএর  আওতায়  ধার্য ব্যয়ের যে অংশটি খরচ করা হয় নি তাকে  বাধ্যতামূলকভাবে একটি বিশেষ অ্যাকাউন্টে জমা রাখতে হবে।  দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর রাজ্য সভায় শেষ পর্যন্ত মুসলমান মহিলার বিবাহ সম্পর্কিত অধিকার রক্ষা বিল বা এক কথায় তাৎক্ষণিক তিন তালাক নিরোধক বিল পাশ করানো সম্ভব হল। সুপ্রীম কোর্টের রায়ে  দু বছর আগে বাতিল ঘোষিত মহিলাদের প্রতি চরম অবমাননাকর বহু শতাব্দি প্রাচীন এই প্রথাটি রদ করা সম্ভব হল। লোক সভায় অনুমোদনের পাঁচ দিন পর রাজ্য সভাতে এই বিল পাশ করা হল। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলঃ- রাজ্য সভাতে সরকার পক্ষের প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা না থাকা সত্বেও এবার বিলটি সভার অনুমোদন পেল।

তিন তালাক বিল সংসদে পাশ হবার পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এই টুইট বার্তায় এই বিল পাশ হওয়ায় তাকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, একটি মধ্যযুগীয় কু প্রথা ইতিহাসের আঁস্তাকূড়ে ঠাঁই পেল। মুসলমান মা বোনেরা তাঁদের হৃত সম্মান ফিরে পেলেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাও একে ভারতীয় গণতন্ত্রের  এক মহান বিজয় হিসেবে অভিহিত করেছেন। রাষ্ট্রপতি রাম নাথ কোবিন্দ এই বিল’এ তাঁর সম্মতিসূচক স্বাক্ষর দিয়েছেন। এখন এই আইন অনুযায়ী তিন তালাক উচ্চারণ করে তৎক্ষণাৎ স্ত্রী হিসেবে সংশ্লিষ্ট মহিলার স্বীকৃতি বাতিল করলে স্বামীর তিন বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের সংস্থান রাখা হয়েছে।

এবারের বাজেট অধিবেশনে রাজ্য সভার অনুমোদন পাওয়া অন্যান্য বিলের মধ্যে আছে- দেউলিয়া বিধি বিল; মেডিক্যাল কমিশন বিল,২০১৯; অনিয়ন্ত্রিত আমানত যোজনা বিল,২০১৯; কোম্পানী বিষয়ক সংশোধনী বিল ও মোটর ভেহেকলস সংশোধনী বিল। লোক সভাতে পাশ হওয়া বিলগুলির মধ্যে বিশেষ উল্লেখযোগ্য হল মজুরি বিধি বিল; নদীর জলবিবাদ নিষ্পত্তি বিল ও ক্রেতা সুরক্ষা বিল।

অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ বাজেটের ওপর বিতর্কের জবাবে বলেছেন, এ বছরের সাধারণ বাজেটে কর সংক্রান্ত সংশোধনীগুলির ফলে সহজে ব্যবসার পরিবেশ অধিক অনুকূল হবে ও সরকারের ‘মেক-ইন –ইন্ডিয়া’ কর্মসূচি রূপায়ণে গতি আসবে। ব্যাংক বহির্ভূত আর্থিক কোম্পানীগুলির নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব যাতে  রিজার্ভ ব্যাংক গ্রহণ করে তার পক্ষে সরকার এই অধিবেশনে  অভিমত ব্যক্ত করেছে।

তিন বছর আগে সংসদের অনুমোদন পাওয়া দেউলিয়া আইন-IBC’র  একটি সংশোধনী রাজ্যসভায় পাশ করা হল। এই সংশোধনীতে দেউলিয়া সংক্রান্ত প্রস্তাবের কিছু ত্রুটি সংশোধনের সংস্থান রাখা হয়েছে। এ ছাড়া এই আইনে  IBC’র  কাছে পাঠানো মামলাগুলির সর্বাধিক ৩৩০ দিনের মধ্যে নিষ্পত্তিরও সংস্থান রয়েছে।

১৯৫৬’র ভারতীয় মেডিক্যাল কাউনসিল আইন বাতিল করতে চেয়ে এ সপ্তাহে লোক সভায় জাতীয় মেডিক্যাল কমিশন বিল,২০১৯ পাশ করা হল। বিলটি সভার অনুমোদন পাবার পর কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডঃ হর্ষবর্ধন বলেন এই বিলের মাধ্যমে দেশে মেডিক্যাল শিক্ষা ও মেডিক্যাল কলেজগুলির পরিকাঠামোগত মান উন্নয়নের অধিক সুযোগ সৃষ্টি হবে।

লোক সভায় ক্রেতা সুরক্ষা বিলও পাশ করা হল। এতে ক্রেতাদের অধিকার সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে কেন্দ্রীয় ক্রেতা সুরক্ষা কর্তৃপক্ষ –CCPA প্রতিষ্ঠার সংস্থান রয়েছে। এই আইনের আওতায় কোনও একজন ক্রেতার কাছ থেকেও  অভিযোগ পাওয়া গেলে CCPA অবিলম্বে ব্যবস্থা নেবে,এমনকি মামলাও রুজু করতে পারবে।  ১৯৮৬’র গ্রাহক সুরক্ষা আইনের বিলোপ ঘটিয়ে এই বিল  কার্যকর করা হবে। শ্রম সংস্কারের দিশায় এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে এবারের সংসদের বাজেট অধিবেশনে মজুরি বিল বিধিও লোক সভার  অনুমোদন পেল।

সংক্ষেপে বলতে গেলে, দ্বিতীয় নরেন্দ্র মোদি সরকারের শাসনে সংসদের প্রথম বাজেট অধিবেশনটি ছিল প্রকৃত অর্থেই কর্ম চঞ্চল।  (মূল রচনাঃ- যোগেশ সুদ )