রাষ্ট্রপতির সফরে পশ্চিম আফ্রিকার সঙ্গে ঘনিষ্টতা বৃদ্ধি

For Sharing

ভারতীয় রাষ্ট্রপতি রাম নাথ কোবিন্দ ফরাসী ভাষাভাষী প্রধান তিনটি পশ্চিম আফ্রিকী দেশ বেনিন, গাম্বিয়া এবং গিনি  সফর করেন। ভারত বিশেষ করে ফরাসীভাষী প্রধান পশ্চিম আফ্রিকার সঙ্গে সম্পর্ককে কতটা গুরুত্ব দেয় এই গন্তব্য নির্ধারণ তারই পরিচয় বহন করে।

এই তিনটি দেশে রাষ্ট্রপতি কোবিন্দের সফর ছিল ঐতিহাসিক। কারণ এখানে কোনো ভারতীয় রাষ্ট্রপতির এটাই প্রথম সফর। ইংরাজীভাষী আফ্রিকী দেশগুলির মত ফরাসীভাষী আফ্রিকীদেশ সমুহের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক তেমন মজবুত নয়, এর মূল কারণ ভাষাগত প্রতিবন্ধকতা, যোগাযোগের অভাব এবং দূরত্ব। সম্পর্ক উন্নয়নের নানান প্রয়াস সত্বেও এক্ষেত্রে তেমন উন্নতি ঘটি নি। এই অঞ্চলের দেশগুলির সঙ্গে সম্পর্ক মজবুত করার প্রয়াসের অংগ হিসেবেই উচ্চ পর্যায়ের সফরের আয়োজন করা হয়। সম্প্রতি ভারত আফ্রিকায় ১৮টি মিশন খোলার কথা ঘোষণা করে যাতে এই অঞ্চলের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক বাড়ানো যায়।

সফরকালে রাষ্ট্রপতি কোবিন্দ সংশ্লিষ্ট নেতাদের সঙ্গে প্রতিনিধি পর্যায়ের আলোচনা করেন, বেনিন এবং গাম্ভিয়ার জাতীয় সভায় ভাষণ দেন এবং এই তিনটি দেশে বসবাসকারী ভারতীয় সম্প্রদায়ের লোকজনের সঙ্গে কথা বলেন। আলোচনার বিষয়বস্তু ছিল বাণিজ্য, বিনিয়োগ, সৌর শক্তি, কৃষি, ডিজিটাল প্রযুক্তি, ক্ষমতা বৃদ্ধি, সমুদ্র নিরাপত্তা এবং প্রতিরক্ষার মত গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক মজবুত করা। এছাড়া আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে অভিন্ন উদ্বেগের বিষয়ের প্রতিও আলোকপাত করা হয়।

বেনিনে উভয় পক্ষ রপ্তানি বৃদ্ধি এবং পারস্পরিক  বিনিয়োগের বিষয়ে একমত হয়। রাষ্ট্রপতি কোবিন্দ ই-ভিসা সম্প্রসারণের কথা ঘোষণা করেন এবং বলেন যে এর ফলে বাণিজ্যিক সম্পর্ক উন্নত হবে। গাম্বিয়া  ভারতীয় শিল্পোদ্যোগ এবং বিনিয়গের প্রতি সহযোগিতা প্রদান করবে বলে রাষ্ট্রপতি কোবিন্দ আশা প্রকাশ করেন। গিনিতে খনি, পরিকাঠামো, স্বাস্থ্য এবং ওষুধপত্র ক্ষেত্রে ভারতীয় কোম্পানীগুলি বিনিয়োগে আগ্রহী বলে শ্রী কোবিন্দ উল্লেখ করেন।

এই সব দেশে অংশীদারিত্ব বৃদ্ধির জন্য রাষ্ট্রপতি একাধিক কর্মসূচির কথা ঘোষণা করেন। বেনিনের জাতীয় অগ্রাধিকার প্রকল্পগুলির জন্য ১০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ঋণের কথা ঘোষণা করা হয়। ইংরেজী দক্ষতার বিশেষ আই টি ই সি পাঠ্যক্রম এবং বেনিনের বিদেশী কূটনৈতিকদের জন্য বিশেষ পেশাদারী পাঠ্যক্রম, দক্ষতা উন্নয়নের জন্য গাম্বিয়াকে ৫০০,০০০ ডলার সহায়তা এবং কুটির শিল্প প্রকল্পের কথা  ঘোষণা করা হয়। এছাড়া, বিচার বিভাগ, পুলিশ, প্রশাসন এবং কারিগরি বিশেষজ্ঞ জ্ঞানের ক্ষেত্রে প্রশিক্ষণের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। রাষ্ট্রপতি কোবিন্দ জলবায়ু পরিবর্তনের মোকাবিলায় সৌর শক্তির ক্ষেত্রে সহযোগিতার প্রতি গুরুত্ব দেন। আন্তর্জাতিক সৌর জোটে ভারতের হাত মজবুত করার জন্য তিনি বেনিন, গাম্ভিয়া এবং গিনির নেতৃত্বের প্রশংসা করেন রাষ্ট্রপতি কোবিন্দ।

প্রতিরক্ষা এবং নিরাপত্তা সহযোগিতার প্রতিও ভারত গুরুত্ব দেয়। গিনি  উপসাগরে জলদস্যু বৃত্তি বৃদ্ধি পাওয়ায় ভারত বেনিনে প্রশিক্ষণ সহায়তার প্রস্তাব দেয়। এক যৌথ বিবৃতিতে উভয় দেশ সন্ত্রাসবাদ বৃদ্ধি পাওয়ার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে এবং আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদের বিষয়ে একটি সর্বাত্মক চুক্তি গ্রহণের প্রয়োজনীয়তার প্রতি জোর দেওয়া হয়েছে।

সফরকালে অংশীদারিত্ব বৃদ্ধির লক্ষ্যে একাধিক সমঝোতা স্মারকপত্র স্বাক্ষরিত হয়েছে। বেনিনে সাংস্কৃতিক বিনিয়ম, রপ্তানি এবং বিনিয়োগ বীমা ক্ষেত্রে সহযোগিতা, ই-ভিবিএবি অর্থাৎ ই-বিদ্যা ভারতী এবং ই-আরোগ্য ভারতী নেটওয়ার্ক প্রকল্প ইত্যাদি বিষয়ে দুটি দেশের মধ্যে চারটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। গিনিতে চিরাচরিত ওষুধ পত্র এবং হোমিওপ্যাথির ক্ষেত্রে সহযোগিতা সংক্রান্ত সমঝোতা স্মারকপত্র সম্পাদিত হয়েছে।

এই অঞ্চলের সঙ্গে ঘনিষ্ট সম্পর্ক গড়ে তোলার ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতি কোবিন্দের এই তিন দেশীয় সফর সফল হয়েছে।

(মূল রচনাঃ ড. নিবেদিতা রায়)