ভারতের পাঁচ ট্রিলিয়ন অর্থব্যবস্থা হিসেবে গড়ে ওঠার জন্য পরিকাঠামো উন্নয়নের ভূমিকা 

For Sharing

ভারত যাতে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে পাঁচ ট্রিলিয়ন অর্থব্যবস্থা হিসেবে এবং পরবর্তী আট বছরে দশ ট্রিলিয়ন অর্থব্যবস্থা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে তার জন্য সরকারী স্তরে প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।  আর পরিকাঠামো ক্ষেত্রের সার্বিক উন্নয়ন ব্যতিরেকে এই প্রত্যাশাকে বাস্তবায়িত করা যে সম্ভব নয়,সে বিষয়ে তর্কের কোনও অবকাশ থাকতে পারে না। সম্প্রতি সম্পন্ন সংসদের অধিবেশনে অর্থপ্রতিমন্ত্রী অনুরাগ ঠাকুর এক প্রশ্নের জবাবে জানান, সরকার এই লক্ষ্যে পৌঁছনোর জন্য পরিকাঠামো ক্ষেত্রে ব্যয় বরাদ্দ বাড়িয়ে বছরে এক ট্রিলিয়ন ডলারের মত খরচের সংস্থান রাখছে।  তিনি আরও জানান, এই উদ্দেশ্যে ২০১৮-১৯’এর জন্য পরিকাঠামো উন্নয়ন খাতে ধার্য করা হয় ৫.৯৭ ট্রিলিয়ন টাকা।

বর্তমানে ভারত ২.৮ ট্রিলিয়ন ডলার অর্থব্যবস্থা। ২০২৫ নাগাদ এই অর্থব্যবস্থাকে পাঁচ ট্রিলিয়ন ডলার অর্থব্যবস্থার স্তরে নিয়ে যাওয়ার জন্য  প্রয়োজন আগামী পাঁচ বছর সময়ের মধ্যে বছরে গড়পড়তা ৮ শতাংশ বিকাশ হার অর্জনের, যা একেবারেই যে সম্ভব নয়, তা নয়। মনে রাখতে হবে, বিশ্বব্যাপী মন্দা ও মার্কিন-চীন বাণিজ্য লড়াই সত্বেও ভারত ছয় থেকে সাত শতাংশ বিকাশ হার অর্জন বজায় রেখেছে। অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ সংসদে বাজেট আলোচনায় এ বিষয়ে সরকারের বিস্তারিত কর্মসূচি তুলে ধরেছেন।

রিজার্ভ ব্যাংকের আর্থিক নীতি নির্ধারক কমিটি, অর্থ ব্যবস্থার উৎপাদনশীল কর্মক্ষেত্রে ঋণের অধিক প্রবাহ সুনিশ্চিত করতে এ সপ্তাহে মূল সুদের হার প্রথাবহির্ভূতভাবে ০.৩৫ শতাংশ হ্রাস ঘোষণা করল।  এই নিয়ে এ বছরের ফেব্রুয়ারী থেকে  চার পর্যায়ে মূল সুদের হার মোট ১.১ শতাংশ হ্রাস করা হল। এর চূড়ান্ত উদ্দেশ্য হল-  অর্থব্যবস্থার সামগ্রিক উৎপাদনশীল কাজকর্মে, বিশেষ করে পরিকাঠামো ও  ভূ সম্পত্তি ক্ষেত্রের কাজকর্মের অগ্রগতিতে অধিক গতি সঞ্চার করা।

পরিকাঠামো ক্ষেত্রের উন্নয়ন যে কোনও দেশের অর্থনৈতিক বিকাশ প্রক্রিয়ার অন্যতম পূর্ব শর্ত হিসেবে ভূমিকা পালন করে থাকে। উদাহরণ হিসেবে, যে কোনও দেশের মোট অভ্যন্তরীণ উৎপাদন-বা GDP ও সেই দেশের সড়ক, রেল ও বিমান পরিকাঠামো ক্ষেত্রে বিনিয়োগের মধ্যে অত্যন্ত উচ্চ ধনাত্মক সম্পর্ক রয়েছে। এই কারণেই অটল বিহারী বাজপেয়ীর নেতৃত্বে এন ডি এ সরকার ও নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে পর পর দুটি এন ডি এ সরকার স্বর্ণ চতুর্ভূজ নামে জাতীয় সড়ক যোজনা সহ পরিকাঠামো উন্নয়নের ওপর সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।  প্রকৃতপক্ষে দেশের প্রতিটি মানুষের কাছে পরিকাঠামোগত সুযোগ সুবিধা পৌঁছে দেবার অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টির ওপরেই  দেশের সামাজিক ও অর্থনৈতিক রূপান্তরণ প্রক্রিয়ার সাফল্য নির্ভর করে। বিষয়টির গুরুত্ব অনুধাবন করেই সরকার সাম্প্রতিক বছরগুলিতে রেল, সড়ক ও বিমান ক্ষেত্রের  বিভিন্ন পরিকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পে বিপুল পরিমাণে সরকারী লগ্নীর সাথে সাথে সরকারী-বেসরকারী অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে একাধিক প্রকল্পের কাজ এগিয়ে নিয়ে যাবার কর্মসূচি নিয়েছে। পরিকাঠামো ক্ষেত্রে বেসরকারী বিনিয়োগকে উৎসাহ দেবার লক্ষ্যে সরকার পরিকাঠামো-ঋণ-তহবিল-IDF, পরিকাঠামো বিনিয়োগ ট্রাস্ট-INVIT ও ভূ সম্পত্তি বিনিয়োগ ট্রাস্ট- REIT‘র মত একাধিক আর্থিক সংস্থা গঠন করেছে। এ ছাড়াও সরকারী-বেসরকারী অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে রূপায়ণযোগ্য পরিকাঠামো প্রকল্পগুলির কাজকর্মে অগ্রগতির নিয়মিত নিরীক্ষণ করা হচ্ছে।

পরিকাঠামো ক্ষেত্রে বিপুল মাত্রায় বিনিয়োগে উৎসাহ দানের লক্ষ্যে সরকার ২০১৫ সালে প্রায় চারশো বিলিয়ন ডলারের মূলধন সহ একটি জাতীয় বিনিয়োগ ও পরিকাঠামো তহবিল-NIIF গঠন করেছে। এই তহবিল থেকে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে লাভজনক বিভিন্ন প্রকল্পে লগ্নী করা হবে। সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়া ও ক্যানাডার অন্টারিও প্রদেশের সংস্থা NIIF’এ এক বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত লগ্নীর লক্ষ্যে চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। এ বছরের কেন্দ্রীয় বাজেটেও আগামী পাঁচ বছর সময়ে পরিকাঠামো উন্নয়ন ক্ষেত্রে ১০০ লাখ কোটি টাকা বিনিয়োগের সংস্থান রাখা হয়েছে। (মূল রচনাঃ- জি শ্রীনিবাসন)