পাকিস্তান বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে

For Sharing

পাকিস্তানের কাশ্মীর সমস্যাকে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে তুলে ধরার প্রয়াসগুলি ফলপ্রসূ হচ্ছে না। এমনকি পাকিস্তানের দুই স্থায়ী সহযোগী চীন ও সৌদি আরবও কাশ্মীর প্রসঙ্গে অন্যান্য দেশকে যুক্ত করার বিষয়ে ইসলামাবাদের এই আকস্মিক প্রয়াসে তেমনভাবে সাড়া দিচ্ছে না। রিয়াধ ও পেইচিং উভয়ই ইসলামাবাদকে জানিয়েছে, এ বিষয়ে তাদের বিশেষ কিছু করার নেই। বরং তারা শান্তির আহ্বান জানিয়েছে এবং পাকিস্তানকে সংযম বজায় রাখার পরামর্শ দিয়েছে।

ভারত সংবিধানের ৩৭০ ধারার প্রত্যাহারের ঘোষণা করার সঙ্গে সঙ্গেই পাকিস্তানের অসামরিক ও সামরিক কর্তৃপক্ষ অতিরিক্ত প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে।

ভারত, পূর্বতন জম্মু ও কাশ্মীর রাজ্যকে এক বিশেষ পদক্ষেপের মাধ্যমে জম্মু ও কাশ্মীর এবং লাদাখ – এই দুটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল হিসেবে ঘোষণা করেছে। সংসদের উভয় কক্ষই বিপুল ভোটে এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছে। এই দুটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের সার্বিক বিকাশের লক্ষেই এই পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট অঞ্চলে গত তিন দশক ধরে সীমান্তপার থেকে পাকিস্তান সমর্থিত সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপও এর ফলে নিয়ন্ত্রিত হবে। পাকিস্তান সমর্থিত সন্ত্রাসবাদের ফলে গত তিন দশকে সেখানে ৪২ হাজারেরও বেশী নিরপরাধ ভারতীয় নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন।

৩৭০ ধারা প্রত্যাহার এবং দুটি কেন্দ্র শাসিত অঞ্চল সৃষ্টির ঘোষণা পাকিস্তানের জন্য নিঃসন্দেহে একটি বড় ধাক্কা। ইসলামাবাদও জানে যে, এই পদক্ষেপ ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয় এবং এ বিষয়ে অন্যান্য রাষ্ট্রগুলির কিছু বলার অধিকার নেই। সুতরাং পাকিস্তান তাদের ওপর এর প্রতিকূল প্রভাব নিয়ে সোচ্চার হচ্ছে।

আঞ্চলিক দৃষ্টিভঙ্গির ওপরেও ভারতের এই পদক্ষেপের প্রভাব পড়ছে। ভারতের এই ধরণের পদক্ষেপ পাকিস্তানের কাছে অপ্রত্যাশিত ছিল। পাকিস্তানের আশা ছিল যে, তারা এইভাবেই কাশ্মীর সমস্যাকে জিইয়ে রাখবে এবং তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী তাকে ব্যবহার করবে। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে পাকিস্তানকে এখন নতুন পথ খুঁজতে হবে।

ইতিহাস সাক্ষী কাশ্মীর প্রশ্নে পাকিস্তান কখনই সাফল্য পায় নি। জম্মু ও কাশ্মীরের ভারতে অন্তর্ভূক্তির প্রক্রিয়া যে সম্পূর্ণ, এই বিষয়টি পাকিস্তান কখনই মেনে নিতে পারে নি। উল্লেখ্য, পাকিস্তান বেআইনীভাবে ভারতের কাশ্মীরের ১৩ হাজার স্কোয়ার ফিট অঞ্চল দখল করে রেখেছে।

রাষ্ট্রসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন, ফ্রান্স ও রাশিয়া ভারতের ৩৭০ ধারা প্রত্যাহারের বিষয়ে পাকিস্তানকে কোনরকম সহায়তা করছে না। রাশিয়া ভারতের এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছে। রাশিয়া আশা প্রকাশ করেছে যে, ১৯৭২’এর সিমলা চুক্তি এবং ১৯৯৯’এর লাহোর ঘোষণাপত্রের সংস্থানের অনুসারে ভারত ও পাকিস্তান এই সমস্যার সমাধান করবে।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রও ভারতের এই পদক্ষপের বিষয়ে নিজেদের দূরে রেখেছে। মার্কিন বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছে, ৩৭০ ধারার প্রত্যাহার ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়। তারা সংশ্লিষ্ট অঞ্চলে শান্তির আহ্বান জানিয়েছে।

রাষ্ট্রসংঘও এ বিষয়ে হস্তক্ষেপ বা ভারতের ওপরে চাপ সৃষ্টি করবে না বলে জানিয়েছে। রাষ্ট্রসংঘের মহাসচিব আন্তনিও গুতারেস এ বিষয়ে মধ্যস্থতা করতেও অস্বীকার করেছেন। তিনি উভয় দেশকে সিমলা চুক্তির সংস্থান অনুসারে এর সমাধানের আহ্বান জানিয়েছেন।

সব মিলিয়ে পাকিস্তান আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে গুরুত্ব হারাচ্ছে। সুতরাং তারা এখন আন্তর্জাতিক সমর্থন ও সহানুভূতি আদায়ের চেষ্টা চালাচ্ছে। তবে বর্তমান পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান এবং জেনারেল কামার বাজওয়ার উচিত, অর্থনৈতিক ব্যবস্থা গ্রহণ সংক্রান্ত টাস্ক ফোর্স – FATE’এর পরবর্তী বৈঠকের আগেই FATE’এর কালো তালিকাভূক্ত হওয়া থেকে দেশকে বাঁচাবার জন্য প্রয়াস নেওয়া। সন্ত্রাসে আর্থিক মদত যোগানের বিষয়ে পাকিস্তানের নিষ্ক্রিয়তার কারণে এই আশঙ্কা যথেষ্ট রয়েছে। প্রতিবেশীর বিষয়ে নয়, ইসলামাবাদকে এখন তাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে বেশী মনোনিবেশ করতে হবে।

(মূল রচনাঃ কৌশিক রায় )