ভারত-জাম্বিয়া সম্পর্ক

For Sharing

আফ্রিকা মহাদেশের দক্ষিণাঞ্চলীয় রাষ্ট্র জাম্বিয়ার রাষ্ট্রপতি এদগার চাগোয়া লুঙ্গু  আমাদের রাষ্ট্রপতি রাম নাথ কোবিন্দের আমন্ত্রণে সম্প্রতি ভারত সফর করে গেলেন। জাম্বিয়ায় নতুন সরকার গঠনের পর এই প্রথম সে দেশের কোনো রাষ্ট্রপ্রধান সরকারী সফরে ভারতে এলেন। উল্লেখ করা যেতে পারে, প্রায় ১৬ বছর আগে ২০০৩ সালে জাম্বিয়ার তৎকালীন রাষ্ট্রপতি লেভি মায়ানাওয়াসা ভারত সফরে আসেন। 

সাম্প্রতিক বছরগুলিতে ভারত সরকার  সরকারী নীতির অঙ্গ হিসেবে আফ্রিকার দেশগুলির সঙ্গে যোগাযোগ ক্রমশ বৃদ্ধি করছে। ফলে ভারতের সঙ্গে আফ্রিকা মহাদেশের বিভিন্ন দেশের রাজনৈতিক অর্থনৈতি ও সাংস্কৃতিক ঘনিষ্ঠতা এক নতুন মাত্রায় উন্নীত করার প্রয়াস জোরদার করা হচ্ছে। দু পক্ষের মধ্যে উচ সরকারী পর্যায়ে নিয়মিত  সফর বিনিময় হচ্ছে। ভারতের রাজনৈতিক নেতারা মোট ৩২ বার জাম্বিয়া সফর করেছেন। জাম্বিয়ার রাজনৈতিক নেতারা মোট ৩৫ বার নতুন দিল্লি সফরে এসেছেন। নতুন দিল্লির আয়োজিত তৃতীয় ভারত-আফ্রিকা শিখর সম্মলনে বহু আফ্রিকী নেতা অংশ গ্রহণ করেছেন। রাষ্ট্রপতি রাম নাথ কোবিন্দের ২০১৮’র এপ্রিলে সরকারী স্তরে জাম্বিয়া সফরের পর ওই দেশের রাষ্ট্রপতির এটাই প্রথম নতুন দিল্লি সফর। 

 জাম্বিয়ার রাষ্ট্রপতি এদগার চাগোয়া লুঙ্গু নতুন দিল্লি এসে পৌঁছুলে রাষ্ট্রপতি ভবনে এই সফররত অতিথিকে আনুষ্ঠানিক স্বাগত জানানো হয়। তিনি নতুন দিল্লির রাজঘাটে জাতির জনক মহাত্মা গান্ধীর সমাধিস্থলে গিয়ে পুষ্পস্তবক নিবেদন করেন। এর পর রাষ্ট্রপতি রাম নাথ কোবিন্দের সঙ্গে বৈঠকের পর এদগার চাগোয়া লুঙ্গু প্রধান মন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে প্রতিনিধি পর্যায়ে আলোচনা করেন। জাম্বিয়ার রাষ্ট্রপ্রধান নতুন দিল্লিতে ভারত-জাম্বিয়া ব্যবসায়িক মঞ্চের সভায় অংশ গ্রহণ করেন। 

জাম্বিয়ার রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মধ্যে বৈঠকে দুই নেতা প্রতিরক্ষা, নিরাপত্তা, খনিজ সম্পদ,বাণিজ্য, বিনিয়োগ, পরিকাঠামো,তেজঃশক্তি, স্বাস্থ্য, দক্ষতা উন্নয়ন ও সংস্কৃতি সহ দ্বিপাক্ষিক স্বার্থ জড়িত নানা বিষয়ে সহযোগিতার ক্ষেত্রগুলি নিয়ে আলোচনা করেন। উভয় নেতা, রাষ্ট্রপতি রাম নাথ কোবিন্দের জাম্বিয়া সফরের সময় ওই দেশের সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তিগুলি রূপায়ণের অগ্রগতি নিয়েও কথা বলেন। রাম নাথ কোবিন্দের জাম্বিয়া সফরকালে ভারতের পক্ষ থেকে ওই দেশকে ৩০ লাখ ডলার মূল্যের ওষুধ ও চিকিৎসা উপকরণ সহায়তা ছাড়াও  মহাত্মা গান্ধী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জন্য এক লাখ ডলার অনুদানের যে ঘোষণা করা হয়েছিল, জাম্বিয়ার রাষ্ট্রপতি তার প্রাপ্তি স্বীকার করেন ও এ জন্য ভারত সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা ব্যক্ত করেন। 

এদগার চাগোয়া লুঙ্গু তাঁর দেশের উন্নয়নী কর্মসূচিতে, বিশেষ ক’রে, সে দেশের প্রতিরক্ষা বাহিনীর আধুনিকীকরণে ভারতের অবদানের প্রশংসা করেন। এই সফরে দু দেশের মধ্যে বেশ কয়েকটি মৌ বা সমঝোতা স্মারকপত্র স্বাক্ষর করে হয়েছে, যেমন ভূ ত্বত্ত্ব ও খনিজ সম্পদ সহযোগিতা, স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা সহযোগিতা, কলা ও সংস্কৃতি সহযোগিতা, ভারতের পররাষ্ট্র পরিষেবা প্রতিষ্ঠান ও জাম্বিয়ার কূটনীতি ও আন্তর্জাতিক অধ্যয়ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সহযোগিতা; দুটি দেশের নির্বাচন কমিশনের মধ্যে সহযোগিতা, টেলি শিক্ষা ও টেলি মেডিশিন বিষয়ে সহযোগিতা ইত্যাদি।  

ভারত সৌর শক্তি এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারী শিল্পদ্যোগ সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ কিছু ঘোষণা করেছে। রাষ্ট্রপতি লুঙ্গু তাকে স্বাগত জানিয়েছেন। এসবের মধ্যে রয়েছে ক্ষুদ্র ও মাঝারী শিল্পের বিকাশে সহায়তা করা, জাম্বিয়ায় কৃষি বিকাশের লক্ষ্যে ১০০টি সৌর সেচ পাম্পের জন্য অনুদান প্রদান, জাম্বিয়ার বিমান ঘাঁটিতে মোতায়ের জন্য ৫টি দমকলের গাড়ি এবং মানবতামূলক সহায়তা হিসেবে ১০০০ মেট্রিক টন চাল এবং ১০০ মেট্রিক টন মিল্ক পাওডার প্রদান। এই সব ঘোষণা   জাম্বিয়ার ক্রমবিকাশে ভারতের সুদৃঢ় এবং অব্যাহত সহায়াতার প্রতিফলন।
বাণিজ্য এবং বিনিয়োগ সম্পর্ক দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। উভয় নেতা বাণিজ্য সম্পর্কে বৃদ্ধির ওপর জোর দিয়েছেন। দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমান ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পেয়ে ২০১৮-১৯এ ৮৩০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে। জাম্বিয়াতে ভারতীয় বেসরকারী বিনিয়োগ বিশেষ করে খনি, পরিকাঠামো, উৎপাদন, ওষুধপত্র এবং ক্রমাগত বেড়ে চলেছে। জাম্বিয়ার রাষ্ট্রপতির সফর ভারত ও জাম্বিয়ার বর্তমান মজবুত দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে নতুন গতি সঞ্চার করেছে। (মূল রচনাঃ-ডঃ নিবেদিতা রায়)