জি-৭ শিখর সম্মেলন

For Sharing

১৯৭৫ সালে ফ্রান্সের উদ্যোগে জি – ৭ শিখর সম্মেলনের সূচনা হয়। অর্থনৈতিক দিক থেকে অন্যতম অগ্রসর বিশ্বের ৭টি দেশের মধ্যে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বিষয় নিয়ে আলোচনার লক্ষ্যেই এই মঞ্চ গড়ে তোলা হয়। কিছু ক্ষেত্রে  জি-৭ গোষ্ঠীর বহির্ভূত কিছু গুরুত্বপূর্ণ দেশও এই শিখর আলোচনার অন্তর্ভূক্ত হওয়ায় এর বিশ্বজনীন প্রভাব রয়েছে। অর্থ তছরূপ এবং সন্ত্রাসে আর্থিক মদত রোধের লক্ষ্যে  ১৯৮৯ সালে ফ্রান্সের নেতৃত্বে জি-৭ সম্মেলনে ফিনান্সিয়াল অ্যাকশন টাস্ক ফোর্স – FATF গঠন করা হয়।  FATF’এর সদস্য হিসেবে ভারত, এই মঞ্চের মাধ্যমে সন্ত্রাসে পাকিস্তানের আর্থিক মদতের মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক মহলের সক্রিয় সহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছে।

সমস্ত ধরণের অসাম্যের মোকাবিলায় ভারতকে একটি অন্যতম গণতন্ত্রিক দেশ হিসেবে চিহ্নিত করার জন্য ফ্রান্সের আগ্রহের প্রেক্ষিতেই, ফ্রান্সের বিয়ারিটজে আয়োজিত জি-৭ শিখর সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বিশেষ বিয়ারিটজ সহযোগী হিসেবে অংশ নেন। ভারত ও ফ্রান্স জি-৭’এর রূপরেখার মধ্যে থেকে জলবায়ু পরিবর্তন, জৈব বৈচিত্র্য ও সমুদ্রাঞ্চল এবং ডিজিটাল ট্রান্সফরমেশনের আলোচনার ওপরে গুরুত্ব দিয়েছে।

জলবায়ু পরিবর্তন এবং জৈব বৈচিত্র্য প্রসঙ্গে ভারত, জি-৭ এবং ২০১৯’এর সেপ্টেম্বরে নির্ধারিত রাষ্ট্রসংঘ জলবায়ু সংক্রান্ত সম্মেলনের রূপরেখার আওতায় গৃহীত নতুন উদ্যোগগুলিকে সমর্থন জানাবে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এই সম্মেলনে প্লাস্টিকের ব্যবহার রোধ, জল সংরক্ষণ, সৌর শক্তির প্রসার এবং প্রাকৃতিক সম্পদের সুরক্ষার বিষয়ে ভারতের ব্যাপক উদ্যোগের কথা তুলে ধরেছেন।

জি-৭ শিখর সম্মেলনের পর ভারত যে সমস্ত পদক্ষেপ নেবে তার মধ্যে অন্যতম প্যারিস চুক্তি অনুসারে দূষিত গ্যাস নির্গমনের পরিমাণ কম করা। জি-৭ সম্মেলনে গৃহীত শপথ অনুসারে ভারত হাইড্রো ফ্লোরোকার্বনের পরিমাণ হ্রাস  সংক্রান্ত প্রকল্পে অংশ নেবে।

ডিজিটাল ক্ষেত্রে ভারত ও ফ্রান্স উভয়েই আন্তর্জাতিক আইনানুসারে একটি অবাধ, শান্তিপূর্ণ সাইবারস্পেসের মাধ্যমে অর্থনৈতিক ও সামাজিক বিকাশের বিষয়টি সমর্থন করেছে।

জি – ৭ শিখর সম্মেলনে ডেটা সেটের নির্বাচন এবং কৃত্রিম মেধা সংক্রাত্ন প্রযুক্তি বিকাশের গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা হয়। ভারত সহ বিভিন্ন দেশ থেকে কৃত্রিম মেধা সংক্রান্ত বিশেষজ্ঞ দল এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা প্রসারের ওপরে গুরুত্ব দেন। জি – ৭ সম্মেলনের আলোচনায় অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলির দায়বদ্ধতা ও স্বচ্ছতার ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়। এর মধ্যে ইন্টারনেটের মাধ্যমে বিপজ্জনক বিষয়বস্তুর প্রসার রোধে ডিজিটাল ক্ষেত্রে বিভিন্ন সরকার, প্ল্যাটফর্ম ও আর্থিক লেনদেনের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট দায়বদ্ধতার বিষয়টিও রয়েছে। ৫জি প্রযুক্তি এবং তথ্যের অবাধ আদান প্রদান প্রসঙ্গেও আলোচনা হয়।

এই সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ আলোচনায় ভারতের অংশগ্রহণ, ভারতের রূপান্তরে সাইবার স্পেসের ব্যবহারের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক মহলের সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করবে।

প্রধানমন্ত্রী মোদি বিশ্বের ক্ষমতায়নের জন্য প্রযুক্তির ব্যবহারের প্রয়োজনীয়তার ওপরে জোর দিয়েছেন। বিশেষতঃ আরো বেশী উন্নতমানের উদ্ভাবনের জন্য প্রযুক্তির ব্যবহার এবং আরো বেশী উদ্ভাবন ও ডিজিটাল পেমেন্টের ক্ষেত্রে ভারত যেভাবে প্রযুক্তির ব্যবহার করছে তা তুলে ধরেন।

এই জি – ৭ ডিজিটাল উদ্যোগের ফলে ভবিষ্যতে রাষ্ট্রসংঘ সাধারণ সভায় সাইবার স্পেস বিষয়ে আলোচনা এবং একটি বিশেষ প্রস্তাব গ্রহণের পথ প্রশস্ত হতে পারে। বিয়ারিটজে আয়োজিত জি – ৭ শিখর সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির অংশগ্রহণ এবং মার্কিন রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্প ও বিশ্বের অন্যান্য নেতৃবর্গের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক কূটনৈতিক দিক থেকে ভারতের জন্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। উল্লেখ্য, ভারত ২০২২’এ জি -২০ শিখর সম্মেলনে সভাপতিত্ব পাওয়ার লক্ষ্যে অগ্রসর হচ্ছে। এই সমস্ত কিছুর সদর্থক প্রভাব বিশ্ব দরবারে ভারতের ক্রমবর্ধমান নেতৃত্বের ভূমিকার ওপর পড়বে।

( মূল রচনাঃ অশোক মুখার্জি )