সহযোগিতার নতুন নতুন ক্ষেত্রে ভারত-রাশিয়া

For Sharing

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দ্বিতীয় কার্যকালের মেয়াদে ভারত ও রাশিয়া তাদের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে নতুন মাত্রায় নিয়ে যেতে প্রস্তুত। তিনি ২০১৯ এর ৪ থেকে ৬ সেপ্টেম্বর  পঞ্চম বার্ষিক ইস্টার্ন ইকনোমিক ফোরামে প্রধান অতিথি হিসেবে এবং ভ্লাদিভস্তকে দুটি দেশের মধ্যে ২০তম বার্ষিক দ্বিপাক্ষিক শিখর সম্মেলনে অংশ নেবেন। সহযোগিতার নতুন নতুন ক্ষেত্রের অনুসন্ধান করা হচ্ছে এবং ভারত ও রাশিয়ার মধ্যে বর্তমান বিশেষ অধিকার সম্পন্য কৌশলগত অংশীদারিত্বকে আরো উজ্জীবিত করা হচ্ছে।

ভারতীয় সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৩৭০ রদ করার বিষয়টিকে রাশিয়া প্রথমে স্বাগত জানায়। মস্কো একে ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয় বলে অভিহিত করে এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারতের অবস্থানকে সমর্থন করে।

এমাসের গোড়ার দিকে ভারতের বাণিজ্য মন্ত্রী পীযুষ গোয়েল  চার জন মুখ্যমন্ত্রীকে সঙ্গে করে রাশিয়ার সুদূর প্রাচ্যের প্রদেশগুলির সঙ্গে বিভিন্ন ভারতীয় রাজ্যের অংশীদারিত্বের প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করতে ভ্লাদিভস্তক সফর করেন। সেখানে তিনি ফার ইস্টার্ন  ফেডারেল ডিস্ট্রিক্টে রাষ্ট্রপতির দূত এবং রুশ উপ প্রধানমন্ত্রী ইউরি তুতনেভের সঙ্গে কথাবার্তা বলেন। ভারত রাশিয়ার সুদূর প্রাচ্যের প্রতি উন্নত অর্থনৈতিক সহযোগিতা এবং বিনিয়োগের দৃষ্টিতে অগ্রাধিকার দিয়ে থাকে। ভারত এবং রাশিয়া প্রতিরক্ষা, মহাকাশ, শক্তি এবং পরমাণুর মত চিরাচরিত ক্ষেত্রে সহযোগিতা ছাড়াও অন্যান্য ক্ষেত্রের প্রতি জোর দিচ্ছে। এই ক্ষেত্রগুলি দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার স্তম্ভ হলেও আন্তঃ আঞ্চলিক সহযোগিতার জন্য নতুন নতুন ক্ষেত্র যুক্ত করার প্রয়াস চালানো হচ্ছে। রাশিয়ার সুদূর প্রাচ্য ভারতের কাছে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ২০১৮ সালে এই অঞ্চলে নতুন দিল্লীর বাণিজ্যের পরিমান তিন শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে হয়েছে ৭৯০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। রাশিয়ার সঙ্গে ভারতের মোট বাণিজ্যের পরিমান  ১০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ছাড়িয়ে গেছে। উভয় দেশ ২০২৫ সালের এর মধ্যে তাদের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করেছে ৩০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।

ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভালও মস্কো সফর করেন এবং রাশিয়ার জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা নিকোলভ প্যাট্রুশেভের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। উভয় নেতা সন্ত্রাসবাদ বিরোধী কার্যকলাপে সহযোগিতা বৃদ্ধির প্রতি জোর দেন এবং সার্বভৌমত্ব, আঞ্চলিক অখন্ডতা এবং তৃতীয় পক্ষের হস্তক্ষেপ না করার নীতির প্রতি পূর্ণ সমর্থনের বিষয়ে গুরুত্ব আরোপ করেন। জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা মহাকাশ ক্ষেত্র এবং গগনযান কর্মসূচির নিয়ে চলতি সহযোগিতা পর্যালোচনা করতে ROSCOSMOS এর নির্দেশক দিমিত্রি রোগোজিনের সঙ্গেও দেখা করেন। রাশিয়া মস্কোর ইউরি গ্যাগারিন কসমোনাট ট্রেনিং সেন্টারে ১২জন ভারতীয় নভোশ্চরের মধ্যে  চারজনকে ১৫ মাসের প্রশিক্ষণ দেবে। ২০২২এ নির্ধারিত ভারতের গগনযান মিশনের প্রস্তুতি হিসেবে এই  প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শংকর এই সপ্তাহে রাশিয়া সফর করেন। আগামি সেপ্টেম্বরে শ্রী মোদি এবং রাষ্ট্রপতি পুতিনের  বৈঠকের প্রস্তুতি ছাড়াও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ভালদাই ডিসকাশ্যন ক্লাবে ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় আলোচনায় অংশ নেন।

নতুন ভৌগলিক-রাজনৈতিক এবং ভৌগলিক-অর্থনৈতিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে ভারতের এই উচ্চ পর্যায়ের রাশিয়া সফরকে দেখতে হবে। এছাড়া দীর্ঘ মেয়াদী নির্ভরশীল অংশীদার রাশিয়ার সঙ্গে নতুন সহযোগিতার প্রতি ভারতের ক্রমবর্ধমান আলোকপাতের প্রতিও দৃষ্টি দিতে হবে। আশা করা হচ্ছে যে উন্নত দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে কৃষি, হীরা, পালিশ ইউনিট স্থাপন, পর্যটন, মৎসচাষ এবং খনির মত ক্ষেত্রে গুরুত্ব দেওয়া হবে। অতীতে ভারত এবং রাশিয়া জ্বালানী, ডিজিটাল অর্থনীতি, স্টার্ট আপ ও পরিকাঠামো এই ক্ষেত্রগুলির প্রতি অধিক গুরুত্ব দিয়ে এসেছে। প্রধানমন্ত্রী মোদির রুশ সফরের সময় উভয় দেশ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে এক নতুন মাত্রায় পৌঁছে দেবার প্রস্তুতি নিচ্ছে। সেই দিক থেকে ড. এস জয়শংকর এবং শ্রী সার্গেই ল্যাভরভের আলোচনায় সাফল্যের সঙ্গে সহযোগিতার নতুন নতুন ক্ষেত্র চিহ্নিত করা সম্ভব হয়েছে। ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী এবং রাষ্ট্রপতি পুতিন কৌশলগত এবং অর্থনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গীর নিরিখে এই সম্পর্কে অর্থবহ করে তুলতে সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্রগুলি অনুমোদন করবেন। (মূল রচনাঃ ড.মীনা সিং রায়)