উন্নয়ন মুখী নতুন FDI নীতি

For Sharing

ভারত সরকার, আর্থিক বিকাশ হার ও  কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধির লক্ষ্যে একটি উন্নয়ন মুখী নতুন প্রত্যক্ষ বৈদেশিক বিনিয়োগ-FDI নীতি  ঘোষণা করল। FDI হল দেশে বিনিয়োগের স্তর বৃদ্ধির লক্ষ্যে ঋণ বহির্ভূত অর্থ সংস্থানের একটি উৎস। FDI সংক্রান্ত এই নতুন নীতি দেশে সহজে ব্যবসার আরও অনুকূল সুযোগ সৃষ্টির সহায়ক হবে।

দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে গতি সঞ্চারের স্বার্থে বিদেশ থেকে অর্থ সংস্থানের প্রধানত দুটি উৎস আছে, একটি হল প্রত্যক্ষ বৈদেশিক বিনিয়োগ-FDI এবং দ্বিতীয়টি –বৈদেশিক পোর্টফোলিও বিনিয়োগ, যেমন মিউচুয়াল ফান্ডে বিদেশী লগ্নী। বিদেশ থেকে মূলধন আগমনের এই দুটি উৎসের মধ্যে দ্বিতীয়টির তুলনায় প্রথমটি অপেক্ষাকৃত স্থিতিশীল; কারণ  বিদেশের মুলধনী বাজারে সুদের হারে ওঠানামার কারণে  পোর্টফোলিও বিনিয়োগের মাত্রায় তারতম্য ঘটে। যেমন বিদেশের বাজারে সুদের হার বৃদ্ধি পেলে বিদেশী লগ্নীকারকরা স্বভাবতই সেই সব দেশে বেশি মাত্রায়  পোর্টফোলিও বিনিয়োগ করবে, ফলে দেশের বাজারে এই বিনিয়োগ কম আকর্ষণীয় হবে। যে কারণে সংশ্লিষ্ট দেশ থেকে মূলধন বেশী মাত্রায় বিদেশের বাজারে চলে যাবে, যাকে বলা হয়ে থাকে ‘ক্যাপিটাল ফ্লাইট’। পোর্টফোলিও বিনিয়োগে যে অর্থ লগ্নী করা হয়, তার একটা বড় অংশ হল হট মানি,অর্থাৎ দ্রুত হস্তান্তরণযোগ্য অর্থ।

কেন্দ্রীয় সরকার তার সাম্প্রতিক ঘোষণায় বেশির ভাগ উৎপাদন ক্ষেত্র, যেমন প্রতিরক্ষা, সম্প্রচার, অসামরিক বিমান পরিবহণ, নির্মাণ, বাণিজ্য, ওষুধ শিল্প, বিমা, পেনসন ও অন্যান্য আর্থিক ক্ষেত্রে স্বয়ংক্রিয় পথেই ১০০ শতাংশ পর্যন্ত প্রত্যক্ষ বৈদেশিক বিনিয়োগ-FDI’এর অনুমতি দিয়েছে। উল্লেখ্য, ভারতের আর্থিক বাজারকে বিদেশী প্রত্যক্ষ লগ্নীকারকদের কাছে অধিক আকর্ষণীয় করে তুলতে সরকার এ বছরের সাধারণ বাজেটে পর্যাপ্ত সংস্থানের প্রস্তাব করেছে।

সরকারী পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০১৪-১৫ থেকে ২০১৮-১৯ পর্যন্ত ভারতে  FDI এসেছে প্রায় ২৮৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। ২০০৯-১০ থেকে ২০১৩-১৪ পর্যন্ত এই পরিমাণ ছিল প্রায় ১৮৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। ২০১৮-১৯ অর্থ বর্ষে FDI এসেছে আনুমানিক ৬৪.৩৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এই পরিমাণ কোনও একটি অর্থ বর্ষে এ পর্যন্ত সবচেয়ে বেশী FDI।

সাম্প্রতিক এক ঘোষণায় কয়লা খনন ক্ষেত্রে স্বয়ংক্রিয় পথে ১০০ শতাংশ FDI’এর অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এর ফলে এই ক্ষেত্রের কাজকর্ম থেকে প্রাপ্ত রয়্যালটি বাবদ রাজস্ব বৃদ্ধি পাবে যা আর্থিক ঘাটতি হ্রাসের সহায়ক হবে।

মেক-ইন-ইন্ডিয়া কর্মসূচিকে উৎসাহ দিতে  চুক্তিবদ্ধ উৎপাদন ক্ষেত্রেও এখন স্বয়ংক্রিয় পথে ১০০ শতাংশ FDI’এর অনুমতি দেওয়া হয়েছে। সরকার সিঙ্গল ব্রান্ডের খুচরো ব্যবসা-SBRT’তেও FDI সংক্রান্ত বিধিনিয়ম শিথিল করার কথা ঘোষণা করেছে। এর ফলে SBRT সংস্থাগুলির পক্ষে সহজে ব্যবসার আরও সুযোগ সৃষ্টি হবে।

নতুন ঘোষণা অনুযায়ী, ডিজিটাল প্রচারমাধ্যমের ক্ষেত্রে সংবাদ ও সমসাময়িক ঘটনাবলী সম্প্রচার বিষয়ক টিভি চ্যানেলগুলির জন্য অনুমতি স্বাপেক্ষে ৪৯ শতাংশ FDI’এর সংস্থান রাখা হয়েছে। এ ছাড়াও ডিজিটাল প্রচারমাধ্যম মারফত সংবাদ ও সমসাময়িক ঘটনাবলী সম্প্রচার আপলোডিং ও স্ট্রীমিং’এর জন্যে  সরকার ২৬ শতাংশ FDI’এর অনুমতি দেবে।

স্মরণে রাখতে হবে, FDI’এর প্রবাহে বিশ্বব্যাপী প্রতিকূল পরিস্থিতির প্রেক্ষিতেই ভারত সরকার এ সংক্রান্ত নতুন নীতি ঘোষণা করল। ২০১৯’এর বিশ্ব বিনিয়োগ রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০১৮’তে বিশ্বব্যাপী  FDI’এর প্রবাহ ১৩ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। ডলারের অংকে হিসাব করলে দেখা যাচ্ছে, ২০১৭’তে বিশ্বব্যাপী  FDI’এর প্রবাহ ছিল ১.৫ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার; ২০১৮’তে এই পরিমাণ কমে হয়েছে ১.৩ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার।  বিশ্বব্যাপী এই পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে ভারত যথাসম্ভব বেশি মাত্রায় FDI আকর্ষণের লক্ষ্যেই এ সংক্রান্ত নীতি আগের তুলনায় আরও উদার ও সরল করল। (মূল রচনাঃ- ডঃ লেখা চক্রবর্তী)