পোলান্ড এবং হাঙ্গেরীর সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়ন

For Sharing

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এস জয়শংকরের পোলান্ড এবং হাঙ্গেরী সফর ভারত, মধ্য ও পূর্ব ইওরোপের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নে কতটা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ তার পরিচয় বহন করে।

বেশ কিছু বছর ধরে হাঙ্গেরীর সঙ্গে বহুমুখী সম্পর্ক বিদ্যমান। পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাঙ্গেরীর বিদেশ মন্ত্রী পিটার সিজ্জার্তোর সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে হাঙ্গেরীর বিদেশমন্ত্রী চলচিত্র নির্মাণ, ডিজিটালাইজেশন, জল ব্যবস্থাপনা, সৌর শক্তি এবং ফার্মাসিটিক্যালস ইত্যাদি ক্ষেত্রে সম্পর্ক মজবুত করার ওপর জোর দেন। ভারতীয় পক্ষ হাঙ্গেরীতে ভারতীয় বিনিয়োগ এবং অনুকূল বাণিজ্যিক পরিবেশের ইতিবাচক প্রবনতার প্রশংসা করে। উভয় পক্ষ শিক্ষা পর্যটন এবং বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে দ্বিপাক্ষিক আলোচনার বিষয়ে একমত হয়েছে। আন্তর্জাতিক সৌর জোট আই এস এতে হাঙ্গেরীর যোগদানের সিদ্ধান্ত সঠিক দিশায় এক উপযুক্ত পদক্ষেপ বলে মনে করা হয়। দুটি দেশ অর্থনৈতিক সম্পর্কোন্নয়ন এবং সংসদীয় বিনিময় এবং সহযোগিতা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তার বিষয়েও আলচনা করে।

ড. জয়শংকরের পোলান্ড সফর ছিল গত ৩২ বছরে কোনো ভারতীয় বিদেশমন্ত্রীর সেদেশে প্রথম সফর। পোলান্ডের বিদেশ মন্ত্রী জজেক কজাপুটোভিজ জি ২০ এবং রাষ্ট্রসংঘে ভারতের সক্রিয়া ভূমিকার প্রতি জোর দেন এবং বলেন যে দক্ষিণ এশিয়ায় ভারত পোলান্ডের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। মধ্য ইওরোপ অঞ্চলে অধিক সক্রিয় অংশগ্রহণের বিষয়ে ভারত যথার্থই তাদের আগ্রহের কথা তুলে ধরে। উভয় মন্ত্রী বিশ্বের স্থিতিশীলতা বজায় রখার জন্য কার্যকর বহুপাক্ষিক ব্যবস্থা এবং নিয়ম ভিত্তিক বিশ্ব শৃংখলার প্রয়োজনীয়তার প্রতি জোর দেন।

মন্ত্রীরা দ্বিপাক্ষিক রাজনৈতিক সহযোগিতা এবং অর্থনীতি, শিক্ষা ও সংস্কৃতির ব্যাপক বিষয় নিয়ে কথাবার্তা বলেন।   সন্ত্রাসবাদের বিষয়ে পোলান্ডের স্পষ্ট অবস্থানের কথা জানানো হয়। ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল, পশ্চিম এশিয়া, গণ বিধ্বংসী অস্ত্র বিস্তার রোধ, সামুদ্রিক এবং বিমান পরিবহন  নিরাপত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, জ্বালানী নিরাপত্তা, বিভিন্ন মানবিক প্রশ্ন, শরনার্থী এবং মানবাধিকার ইত্যাদি বিষয় নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।

ইওরোপীয় ইউনিয়ন-ভারত আলোচ্যসূচিকে সক্রিয়ভাবে রুপদানের জন্য পোলান্ডের অঙ্গীকারের প্রশংসা করা হয়।  বৈঠকের অপর উল্লেখযোগ্য সাফল্য হল  পোলিশ জাতীয় বিমান সংস্থা এল ও টি ওয়ারশ থেকে নতুন দিল্লী পর্যন্ত সরাসরি উড়ান চালানোর কথা ঘোষণা করেছে। এর ফলে বাণিজ্যিক এবং পর্যটন সম্প্রসারিত হওয়া ছাড়াও দুদেশের জনগণ আরো ঘনিষ্ট হবে।

বাণিজ্য বিষয়ে বলা যায় মধ্য ইওরোপীয় অঞ্চলে পোলান্ড ভারতের বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদার এবং রপ্তানী গন্তব্য। সেই কারণে ভারতীয় বিদেশ মন্ত্রীর পোলান্ড সফর দুদেশের বর্তমান বাণিজ্য সম্পর্ককে আরো উন্নত করে তুলবে।

ঠান্ডা লড়াইয়ের সময় পূর্ব এবং মধ্য ইওরোপীয় দেশগুলির সঙ্গে ভারতের আন্তরিক সম্পর্ক ছিল। তবে দীর্ঘ দিন এই অঞ্চলের সঙ্গে ভারতের সহযোগিতার সম্ভাবনার সঠিক ব্যবহার হয় নি। ভারতের পক্ষে এই অঞ্চলের সঙ্গে অর্থনৈতিক এবং সাংস্কৃতিক সম্পর্ক উন্নয়ন এবং একই সঙ্গে জনগণের মধ্যে সম্পর্ক গড়ে তোলা খুব গুরুত্বপূর্ণ। তাছাড়া, চীনের ১৬+১ প্রয়াসের ফলে এই অঞ্চলে ভৌগলিক রাজনৈতিক প্রভাব পড়তে পারে।

রাষ্ট্রপতি রাম নাথ কোবিন্দ এবং উপরাষ্ট্রপতি এম ভেংকাইয়া নাইডু সাম্প্রতিক অতীতে পূর্ব, দক্ষিণ এবং মধ্য ইওরোপ সফর করেন। এই অঞ্চলের সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্জ্জীবিত করার দিশায় একে সঠিক পদক্ষেপ বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষ করে হাঙ্গেরী বহুমুখী আন্তর্জাতিক উত্তর-দক্ষিণ পরিবহন করিডোর আই এন এস টি সি প্রকল্পে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। পোলান্ড ইওরোপীয় ইউনিয়নে সপ্তম বৃহত্তম অর্থনীতি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। বর্তমানে ভারতীয় বিনিয়োগকারীদের জন্য কাছে পোলান্ডের অর্থনীতিকে আকর্ষণীয় করে তোলার জন্য দুদেশের সম্পর্ককে আরো গভীর করে তুলতে হবে। বিশেষ করে কাশ্মীরে পাকিস্তানের পদক্ষেপ প্রতিরোধের ক্ষেত্রে আগস্ট মাসে রাষ্ট্রসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের সভাপতিত্বকারী পোলান্ড যে ভূমিকা পালন করেছে সেই প্রেক্ষাপটে ড. জয়শংকরের পোলান্ড সফর খুব তাৎপর্যপূর্ণ বলে দেখা হচ্ছে। (মূল রচনাঃ ড. সংঘমিত্রা শর্মা)