ভারত-রুশ জ্বালানী সহযোগিতার নতুন দিগন্ত

For Sharing

ভারত রুশ সম্পর্ক মৈত্রী এবং সহযোগিতার বিস্তৃত ক্ষেত্র জুড়ে বিদ্যমান। ভ্লাদিভস্তকে ভারত-রুশ বার্ষিক শিখর সম্মেলন এবং সুদূর পূর্বাঞ্চলীয় অর্থনৈতিক ফোরামের বৈঠকে যোগদানের জন্য  প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির রাশিয়া সফরের আগে দুটি দেশ এই সম্পর্ককে আরো মজবুত করার এবং তাদের জ্বালানী সহযোগিতায় এক নতুন পালক সংযোজনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। মোদি-ভ্লাদিমীর পুতিনের শিখর বৈঠকের সফল প্রস্তুতির জন্য গত সপ্তাহে ভারতের পেট্রোলিয়াম এবং প্রাকৃতিক গ্যাস দপ্তরের মন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান রুশ সফর করে এলেন। ভারত-রুশ চিরাচরিত  এবং পারমাণবিক জ্বালানী সহযোগিতা ঠান্ডা লড়াইয়ের সময় থেকে চলে আসছে এবং উভয় দেশ এই ঐতিহাসিক সহযোগিতায় এক নতুন দিগন্ত সৃষ্টির সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

ভারত ও রাশিয়া ব্যাপক বাজার নেটওয়ার্কের বিকল্প অনুসন্ধান এবং ঝুঁকি হ্রাস করার প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছে। ভারত জ্বালানীর প্রয়োজনীয়তার ক্ষেত্রে অস্থিতিশীল উপসাগরীয় অঞ্চলের ওপর  মূলত নির্ভরশীলতা কম করতে আগ্রহী। রাশিয়ার ওপর বার বার শাস্তি ব্যবস্থা আরোপের আশংকা রয়েছে। তাছাড়া শেল গ্যাস বিপ্লব পরবর্তি সমস্যাও রয়েছে। সেই কারণে তারা বিকল্প জ্বালানী বাজারের জন্য এশিয়ার বাজারগুলির সন্ধান করছে। শ্রী প্রধানের রুশ সফরের সময় জ্বলানী ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরো বৃদ্ধির জন্য পারস্পরিক নির্ভরশীলতার প্রতি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

ভারতীর পেট্রোলিয়াম এবং প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রী উচ্চ পদস্থ সরকারী আধিকারিক এবং শিল্প কর্মকর্তাদের নিয়ে গঠিত এক প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন এবং রুশ সরকারের আধিকারিক এবং বেসরকারী ক্ষেত্রের প্রতিনিধিদের সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠক করেন। রুশ উপ প্রধান মন্ত্রী ইউরি ত্রুতনেভ এবং জ্বালানী মন্ত্রী আলেকজান্ডার নোভাকের সঙ্গে বৈঠকের ফলে হাইড্রোকার্বন ক্ষেত্রের সহযোগিতার বিষয়ে ব্যপক পর্যালোচনা করা হয় এবং রাশিয়ার সুদূর পূর্বাঞ্চল থেকে তেল এবং গ্যাস সরবরাহের বিষয়ে কথাবার্তা হয়েছে।

ভারতীয় মন্ত্রীর মস্কো সফর খুবই ফলপ্রসু হয়েছে। ওপেকের সদস্য রাশিয়া অশোধিত তেলের সরবরাহ  এবং মূল্যস্তরে স্থিতিশীলতা বজায় রাখার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে ভারত আশা প্রকাশ করে। উল্লেখ্য, ভারত ওপেক থেকে তাদের প্রয়োজনের পাঁচ ভাগের চার ভাগ  অশোধিত তেল আমদানী করে।

ভারত এবং রুশ শক্তি মন্ত্রী সর্বাত্মক জ্বালানী সহযোগিতা চুক্তির কাজ চূড়ান্ত করেছে, ভ্লাদিভস্তকে মোদি-পুতিন শিখর বৈঠকে এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে।

ভারতের সঙ্গে রাশিয়ার জ্বালানী সম্বৃদ্ধ সুদূর প্রাচ্যের অঞ্চলগুলিকে সংযুক্ত করা হবে এনার্জী করিডোরের মাধ্যমে। জ্বলানী ক্ষেত্রের বিভিন্ন প্রকল্পে পারস্পরিক বিনিয়োগ বৃদ্ধি করা হবে। ভারতের বৃহত্তম তেল এবং গ্যাস বিনিয়োগের গন্তব্য স্থল হল রাশিয়া। ভারতের উল্লেখযোগ্য রাষ্ট্রায়ত্ব তেল এবং গ্যাস কোম্পানী ও এন জি সি ও আই ও সি এল, রাশিয়ার জ্বলানী কোম্পানীগুলিতে এবং শাখালিন, ভ্যাংকর এবং টাস ইউরিয়াখে বিভিন্ন প্রকল্পে ব্যাপক বিনিয়োগ করেছে।

এর ফলে সাইবেরিয়ার মত অঞ্চলে চীনের সম্প্রসারিত জ্বলানী বিনিয়োগের মধ্যে ভারসাম্য সৃষ্টি করা সম্ভব হবে। ভারতের প্রথম সারির রাষ্ট্রায়ত্ব গ্যাস কোম্পানী গেইল ইন্ডিয়া  ২০১৮ সালে রাশিয়ার গাজপ্রম গ্রুপের সঙ্গে দীর্ঘ মেয়াদী এল এন জি চুক্তি সম্পাদন করেছে। বর্তমানে নয়ারা এনার্জী নামে পরিচিত ইসার অয়েলের মতো কম্পানীতে রোসনেফটের বহু সংখ্যক শেয়ার বিনিয়োগ রয়েছে। ভারত নোভাটেক এর মত রুশ কোম্পানীকে বিনিয়োগের প্রস্তাব দিয়েছে এবং বিভিন্ন অনুসন্ধান, উৎপাদন এবং তেল শোধন সংক্রান্ত কাজে অংশ গ্রহণে আগ্রহী।

শিখর পর্যায়ের বৈঠকের আগে শ্রী প্রধানের সফর থেকে বোঝা যায় যে দুটি দেশ জ্বালানী সহযোগিতার প্রতি কতটা গুরুত্ব দেয়। ভ্লাদিভস্তকে ২০তম বার্ষিক শিখর বৈঠকে দ্বিপাক্ষিক জ্বালনী কূটনীতির ক্ষেত্রে বড় রকমের ফেরবদল হতে চলেছে এবং আন্তর্জাতিক জ্বালানী সংক্রান্ত বিষয়ে সুদূর প্রসারী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে আশা করা যেতেই পারে।। (মূল রচনাঃ সত্যজিৎ মোহান্তি)