প্রতিরক্ষামন্ত্রীর জাপান সফরে সম্পর্কের উন্নতি

For Sharing

প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং ২-৩ সেপ্টেম্বর জাপান সফর করেন এবং তারপর ৫-৬ সেপ্টেম্বর তাঁর কোরিয়া সাধারণতন্ত্র সফরে কথা। ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে ভৌগলিককৌশলগত  মন্থন উদ্ঘাটিত হবার পর এই দুটি সফর খুবই তাৎপর্যপূর্ণ। মন্ত্রী ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে শান্তি এবং স্থিতিশীলতার লক্ষ্যে সেখানকার প্রতিরক্ষা মন্ত্রীর সঙ্গে একাধিক দ্বিপাক্ষিক এবং আঞ্চলিক প্রশ্নে অর্থবহ আলোচনা করেন এবং মত বিনিময় করেন।

শ্রী সিং জাপানের বিদেশ মন্ত্রী তাকেশি ইওয়ার সঙ্গে যৌথভাবে বার্ষিক মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকের সহ-সভাপতিত্ব করেন। এই বৈঠকের লক্ষ্য ছিল ভারত-জাপান বিশেষ কৌশলগত এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্ব বৃদ্ধি করা। উভয় নেতা দুটি দেশের দ্বিপাক্ষিক প্রতিরক্ষা এবং নিরাপত্তা সম্পর্ক উন্নয়নের দিশায় ব্যাপক কথাবার্তা বলেন। শ্রী সিং জাপানের প্রধানমন্ত্রী আবে সিঞ্জোর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। প্রতিরক্ষা সম্পর্কে ক্রমোন্নতির ফলে ভারত এবং জাপান ইতিমধ্যেই  বড় বড় সামরিক মঞ্চ যৌথভাবে বিকাশের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। শ্রী সিং এর সফরের সময় সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব নিয়ে আলচনা হয়েছে।

শ্রী সিং এর সফরের উল্লেখযোগ্য বিষয়ের মধ্যে রয়েছে জাপান থেকে ভারতে  ইউ এস-২ এ্যাম্ফিবিয়াস বিমান সরবরাহের বিষয়ে জাপানী প্রতিরক্ষা মন্ত্রীর সঙ্গে আলচনা। এই প্রশ্নটি দীর্ঘ দিন থেকে বকেয়া পড়ে রয়েছে। এছাড়া, প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার বিস্তারিত বিষয় পর্যালোচনা করা হয়। ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা হয়, সেখানে চীনের ক্রমবর্ধমান উপস্থিতি পরিলক্ষিত হচ্ছে। ভারত, জাপান এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বার্ষিক  মালাবার সামুদ্রিক মহড়ার অংগ। এর লক্ষ্য হল তিনটি দেশের নৌবাহিনীর মধ্যে উন্নত আন্তঃ পরিচালনযোগ্যতা অর্জন করা। এবছর সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে ত্রিপাক্ষিক  মালাবার মহড়া অনুষ্ঠিত হবে। কাশ্মীর প্রশ্নকে কেন্দ্র করে ভারত ও পাকিস্তানের উত্তেজনার মধ্যে এই সফর অনুষ্ঠিত হয়, সেই কারণে শ্রী সিং কাশ্মীর প্রশ্নকে আন্তর্জাতিক রুপ দেওয়ার জন্য পাকিস্তানের দুরভিসন্ধির বিষয়ে জাপানী নেতৃত্বকে অবহিত করেন।

প্রতিরক্ষা মন্ত্রী জাপানের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীর কাছে জম্মু ও কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা প্রত্যাহারের বিষয়ে কেন্দ্র সরকারের সিদ্ধান্তের বিষয়ে চীনের পাকিস্তানকে সমর্থনের প্রসঙ্গটিও উত্থাপন করেন। ভারত চীনের ওপর কূটনৈতিক চাপ অব্যাহত রাখার প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছে।

নরেন্দ্র মোদি সরকারের অনুচ্ছেদ ৩৭০ সংক্রান্ত সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে চীনের বিরোধী প্রচার খন্ডন করতে দক্ষিণ চীন সমুদ্রে পেইচিং এর পেশী প্রদর্শনের বিরুদ্ধে নতুন দিল্লী সরব হওয়ার কয়েক দিন পরেই ভারত-জাপানের  এই বিবৃতি। ইওয়ার সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের পর এই যৌথ বিবৃতি জারী করা হয়। তাতে বলা হয় ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল এবং সমগ্র বিশ্বে  উন্নতি ও সম্বৃদ্ধি সুনিশ্চিত করার জন্য   ভারত এবং প্রশান্ত মহাসাগরের শান্তি ও স্থিতিশীলতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।  এছাড়া কোরিয় উপদ্বীপ এবং দক্ষিণ চীন সমুদ্রের ঘটনাবলী সহ ভারত-প্রশান্ত মহাসগরীয় অঞ্চলের বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতি সম্পর্কে খোলাখুলি মত বিনিময় হওয়া একান্ত আবশ্যক। জাপানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনায় শ্রী সিং তাঁকে জম্মু ও কাশ্মীরে ৩৭০ তুলে নেওয়ার বিষয়ে অবহিত করেন। শ্রী সিং শ্রী আবেকে বলেন যে জম্মু ও কাশ্মীরে পাকিস্তানের কোনো বক্তব্য থাকতে পারে না কারণ এটি ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংগ। এমাসের পরের দিকে রাষ্ট্রসংঘ সাধারণ সভার অবসরে শ্রী মোদি ও শ্রী আবের বৈঠকের সম্ভাবনা রয়েছে, সেই প্রেক্ষিতে এই ব্যাখ্যা খুব তাৎপর্যপূর্ণ।

বিবৃতিতে অক্টোবর ২০১৮র মোদি এবং আবের ভিসন স্টেটমেন্টের উল্লেখ করা হয়, তাতে এই দুই এশিয় নেতা অবাধ ও উন্মুক্ত ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের বিষয়ে অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। এবছর পরের দিকে জাপান-ভারত বার্ষিক শিখর বৈঠকের আগে ভারত ও জাপান তাদের প্রথম বিদেশ এবং প্রতিরক্ষা মন্ত্রী পর্যায়ের আলোচনা ২+২র আয়োজন করবে। এর উদ্দেশ্য হল ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে শান্তি ও সম্বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধি করা। উভয় পক্ষ জাপান-ভারত-মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ত্রিপাক্ষিক মাইন-বিরোধী ব্যবস্থা মহড়া মাইনেক্স চালিয়ে যাবার অঙ্গীকার করেছে। গত জুলাইয়ে মাইনেক্স অনুষ্ঠিত হয়। (মূল রচনাঃ অধ্যাপক রাজারাম পান্ডা)