পুব-মুখী নীতির ওপর ভারতের জোর

For Sharing

দুই দিনের রাশিয়া সফরে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনঝো আবের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেন। জাপানের সঙ্গে ভারতের খুবই মজবুত সম্পর্ক রয়েছে;  দুই প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে ব্যক্তিগত বন্ধুত্বও রয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রক এই বৈঠককে খুবই আন্তরিক বলে বর্ণনা করেছে। 

এই বৈঠকে, জাপানের প্রধানমন্ত্রীর আসন্ন  ভারত সফরের বিষয়টির ওপর জোর দেওয়া হয়েছিল। জাপানের প্রধানমন্ত্রী বার্ষিক শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে ডিসেম্বর মাসে ভারতে আসবেন। 

উভয় নেতাই,  বার্ষিক শীর্ষ সম্মেলনের আগেই প্রথম ২+২ মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠক অর্থাৎ দুই দেশের বিদেশ ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রীর মধ্যে বৈঠকের বিষয়ে সম্মত হয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী আবে জানিয়েছেন যে ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং-এর সদ্য সমাপ্ত জাপান সফরে প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে সহযোগিতা ও বিনিময়ের বিষয়কে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য যথার্থ আলোচনা হয়েছে। 

উভয় প্রধানমন্ত্রীই জাপান-আমেরিকা-ভারত ত্রিপাক্ষিক বৈঠকের বিষয়ে ইতিবাচক মূল্যায়ন করেছেন। উল্লেখ্য এই ত্রিপাক্ষিক বৈঠকের দুটি ইতিমধ্যেই বুয়েনাস আইরেস ও  ওসাকায় জি-২০ বৈঠকের পাশাপাশি হয়। দুই প্রধানমন্ত্রীই মনে করেন যে এই তিন দেশের মধ্যে শীর্ষ পর্যায়ের বৈঠকের পরম্পরা চালিয়ে যাওয়া উচিত। 

ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের বিষয়ে ভারত ও জাপানের দৃষ্টিভঙ্গী একই। প্রধানমন্ত্রী আবে এক অবাধ ও মুক্ত ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের ও অর্থনৈতিক দিক থেকে এবং এক সমৃদ্ধ ও সুরক্ষিত ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল গড়ে তোলার জন্য জনসম্পর্কের দিক থেকেও দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার গুরুত্বের কথা বলেন। 

আসিয়ানের ১০টি দেশ সহ ১৬টি দেশের সঙ্গে আঞ্চলিক অর্থনৈতিক সহযোগিতা চুক্তি নিয়েও সংক্ষিপ্ত আলোচনা হয়েছিল। উভয় পক্ষই এই বিষয়ে তাদের মতামত রেখেছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বিশেষ করে জানান যে পণ্য ও পরিষেবা বাণিজ্যের ক্ষেত্রে কিছু স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয় রয়েছে এবং যে কোনো আঞ্চলিক বাণিজ্য চুক্তি করার সময় এই বিষয়টি মাথায় রাখার প্রয়োজন রয়েছে যাতে এই চুক্তির ক্ষেত্রে সব পক্ষেরই  সুবিধা হয়। 

শ্রী মোদীর সঙ্গে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী ডক্টর মাহাথির মহম্মদেরও বৈঠক হয়। নির্বাচনে ডক্টর মাহাথিরের জয়কে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এক ঐতিহাসিক জয় বলে বর্ণনা করে বলেন যে ভারত একযোগে মালয়েশিয়ার সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী। 

উভয় পক্ষের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক  বিষয়েও আলোচনা হয়। প্রধানমন্ত্রী মাহাথির জানান  যে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যের পরিমাণ বৃদ্ধি পাচ্ছে কিন্তু মালয়েশিয়ার বাণিজ্যে উদবৃত্ত ছিল এবং তিনি প্রধানমন্ত্রীকে আশ্বাস দেন যে বাণিজ্য বাড়ানোর জন্য এগিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে মালয়েশিয়া চায় যে উভয় পক্ষেরই বাণিজ্যে ভারসাম্য যেন বজায় থাকে। তিনি জানান যে, মালয়েশিয়া ভারতের কাছ থেকে আরও বেশি আমদানি বিবেচনা করবে যাতে মালয়েশিয়ায় ভারতের রপ্তানি বৃদ্ধি পায়। 

জম্মু ও কাশ্মীরে কার্যকরী প্রশাসন ও আর্থ-সামাজিক ন্যায়বিচার প্রদানের লক্ষ্যে ঐ রাজ্য পুনঃসংগঠিত করার বিষয়টি মালয়েশিয়াকে ব্যাখ্যা করা হয়। দুই নেতার মধ্যে সন্ত্রাসবাদের ক্রমবর্ধমান হুমকি নিয়ে আলোচনা হয় এবং ক্রমবর্ধমান আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসের মোকাবিলায় উভয় পক্ষের প্রয়াস নিয়েও আলোচনা হয়। প্রধানমন্ত্রী মাহাথির জানান যে এটি এখন এক  আন্তর্জাতিক সমস্যা হয়ে উঠেছে এবং তিনি দ্ব্যর্থহীন ভাষায় জানান যে মালয়েশিয়া যে কোনো ধরণের সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে। 

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে মঙ্গোলিয়ার রাষ্ট্রপতি খালত্ম্যাগিন বাটুল্গ্যার আলোচনা হয়। এই বৈঠকও খুবই সদর্থক হয়। এই মাসের শেষের দিকে রাষ্ট্রপতি বাটুল্গ্যা ভারত সফরে আসতে পারেন। বেশ কয়েকটি বিষয় নিয়ে উভয়পক্ষের মধ্যে আলোচনা হয়। মঙ্গোলিয়ার জ্বালানী চাহিদা মেটাতে  সেখানে এক বড় তেল শোধনাগার গড়ে তোলার ভারতের চলতি প্রকল্পে ঋণ প্রদানের বিষয় সহ ভারতীয় সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়।  

দুই দেশের মধ্যে সাংস্কৃতিক ও আধ্যাত্মিক বিষয় সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে জনসম্পর্ক গড়ে তোলা নিয়েও আলোচনা হয়। মঙ্গোলিয়ার রাষ্ট্রপতি বিশেষ করে জানান যে, তিনি  তাঁর আসন্ন ভারত সফরে দিল্লী ও ব্যাঙ্গালোর ছাড়াও বোধগয়া সফরের জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন। উলানবাটারে ধোঁয়া ও কুয়াশার প্রভাব মোকাবিলা নিয়েও আলোচনা হয়। শীতের সময় ফসল কাটার পর অবশেষ জ্বালিয়ে দেওয়ার ফলে উদ্ভূত দূষণের মোকাবিলায় ভারত যে সাফল্য পেয়েছে সেই বিষয়েও মঙ্গোলিয়ার রাষ্ট্রপতি কথা বলেন। 

ভারত এই বৈঠকগুলিকে খুবই ফলপ্রসূ বলে বর্ণনা করেছে এবং দেশের ‘পুবমুখী নীতি’র প্রতি তাদের আস্থার কথা জানিয়েছে।

 [মূল রচনা- পদম সিং]