পাকিস্তান আবার পরিত্যক্ত

For Sharing

কাশ্মীর প্রশ্নে পাকিস্তান আবার প্রতিকূল অবস্থায়। জম্মু ও কাশ্মীরে বিশেষ মর্যাদা রদ করার ভারতীয় সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ইসলামাবাদ আন্তর্জাতিক দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করছে। নতুন দিল্লী স্পষ্ট জানিয়েছে যে এই সিদ্ধান্ত তাদের অভ্যন্তরীন বিষয়। ভারত তাদের দৃষ্টিভঙ্গী তুলে ধরতে সফল হয়েছে। ভারতীয় সিদ্ধান্ত বিশ্বের বেশিরভাগ দেশে গৃহীত হয়েছে।

তবুও পাকিস্তান সন্তুষ্ট নয়।  এমনকি এখন তাদের ঘনিষ্ট বন্ধু দেশগুলির কাছেও তারা পরিত্যক্ত হয়ে পড়েছে। গতসপ্তাহে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী এবং সেনা প্রধান সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমীর শাহীর বিদেশমন্ত্রীদের আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। কূটনোতিক রীতি মেনে দুই বিদেশমন্ত্রী কেবল পাকিস্তানের কথা ধৈর্য্য সহকারে শুনেছেন।

তারপর পাকিস্তানের বিদেশ মন্ত্রী শাহ মহম্মদ কুরেশি বলেন, আমরা আশাবাদী যে এই দেশদুটি আমাদের হতাশ করবে না। দুদেশের বিদেশমন্ত্রীরাই আমাদের কথা মন দিয়ে শুনেছেন।

এর চেয়ে অর্থহীন কোনো বিবৃতি হতে পারে না। কেউই বেশি কিছু আশা করে নি। কিন্তু এমনকি পাকিস্তানের বিশ্লেষকরাও একে আনুষ্ঠানিকতার  চেয়ে বেশ কিছু মনে করেন নি। পাকিস্তানের ধারণা তারা কূটনৈতিক আক্রমনে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমীর শাহীকে পাশে পেতে সফল হয়েছে। তবে এই দুই গুরুত্বপূর্ণ আরব দেশকে পরীক্ষা করা যায় নি। এই বৈঠক নিয়ে পাকিস্তানী প্রচার মাধ্যমে ঝড় উঠেছে, প্রচার মাধ্যমে চিন্তাশীলরা বিষয়টি গুরুত্বহীন করে তুলতে পেরেছেন।

এই অপরিণামদর্শী পদক্ষেপের জন্য পাকিস্তানকেই দায়ী করতে হবে। তারা মাঝে মধ্যেই ধনী আরব দেশগুলি থেকে সহায়তা পেয়ে থাকে। গত বছর ইসলামাবাদ রিয়াদ এবং আবুধাবি থেকে ৬ বিলিয়ন ডলার সহায়তা পেয়েছে। সৌদি আরবে বসবাসকারী পাকিস্তানীদের সেদেশের লোকেরা গরীব বলে জানে, সেটাও ভুলে গেলে চলবে না। অথচ উপসাগরীয় দেশগুলিতে কর্মরত ভারতীয়রা তাদের দক্ষতা, শিক্ষা, দূরদৃষ্টি  এবং কারিগরি জ্ঞানের জন্য পরিচিত। তারা যে দেশেই বসবাস করুক না কেন সেখানকার অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

২০১৬ সালে সৌদি আরবের রাজা সালমান ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে সেদেশের সর্বোচ্চ অসামরিক পুরস্কার  প্রদান করেন। সৌদি যুবরাজ মহম্মদ বিন সালমান ২০২১এর মধ্যে ভারতে ১০০ বিলিয়ন বিনিয়োগের অঙ্গীকার করেছেন। এবছর গোড়ার দিকে তিনি পাকিস্তানে ২০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের কথা বলেন। এথেকেই স্পষ্ট বোঝা যায় আরব দেশগুলি সেই দেশের সঙ্গেই সম্পর্ক মজবুত করবে যেখানে  জনগণের কল্যান সাধিত হবে, এক্ষেত্রে ধর্ম কোনো বিষয় নয়। পাকিস্তানের সঙ্গে সৌদি আরবের বাণিজ্যিক লেনদেনের পরিমান ২০১৭-১৮ সালে ছিল মাত্র সাড়ে সাত বিলিয়ন মার্কিন ডলার অথচ একই বছরে ভারত-সৌদি আরবের মধ্যে বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল সাড়ে সাতাশ বিলিয়ন ডলার।

সংযুক্ত আরব আমীর শাহী  পাকিস্তানের বিষয়ে কম উদ্বিগ্ন। ভারতে নিযুক্ত ইউ এ ইর রাষ্ট্রদূত আহমদ আল বান্না ভারতের পদক্ষেপকে অভ্যন্তরীণ প্রশাসনিক বিষয় এবং শান্তি এবং স্থিতিশীলতার লক্ষ্যে গৃহীত ব্যবস্থা বলে জানিয়েছেন। তার কয়েক সপ্তাহ পরই ইউ এ ই তাদের সর্বোচ্চ নাগরিক সম্মানে শ্রী মোদিকে সম্মানিত করেন। পাকিস্তান এতই হতাশ হয় যে তাদের সেনেট বা উচ্চ কক্ষের চেয়ারম্যান সাদিক সাঞ্জরানী ইউ এ ই তে নির্ধারিত সফর বাতিল করেন।

পাকিস্তানের মন্তব্যকারীরা সম্বৃদ্ধ আরব দেশগুলির ভারতের প্রতি সমর্থন জানানোর সমালোচনা করেছেন, অন্যদিকে পাকিস্তানের সাধারণ মানুষ সেনা বাহিনী এবং নেতাদের কাছে জানতে চাইছেন  চীনের পুনর্শিক্ষা শিবিরের উইঘুর মুসলিম সম্প্রদায়ের বিষয়ে তারা কেন মুখ খুলছেন না। তারা খুব ভালো করে জানে যে চীন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডোর সেদেশের জীবন রেখা। এমনকি ইয়েমেনে হত্যা এবং ধ্বংসলীলার বিষয়ে পাকিস্তান কিছু বলে না। সামরিক এবং অসামরিক সহায়তার লোভ কয়েক দশক ধরে পাকিস্তানকে অন্যদের স্বার্থে কাজ করতে বাধ্য করেছে।

বিশ্লেষকরা মনে করেন উদ্যমী কূটনীতি করলে পাকিস্তানের লাভ হবে না। মুসলিম দেশগুলির কাছ থেকে অধিক সমর্থনের আশা করাও বোকামী হবে। ইসলামিক দেশগুলি উপলব্ধি করতে পেরেছে যে তারা কেবল একই সুর বাজাতে  আগ্রহী। ৭২ বছরের অস্তিত্বের ইতিহাসে এখনও তারা দলদল থেকে বেরিয়ে আসতে পারে নি। তাদের প্রতিবেশিরা ফুলেফেঁপে উঠেছে, ইসলামাবাদ এখনও অন্যের দয়ায় জীবিত রয়েছে এবং সন্ত্রাস রপ্তানী করে চলেছে। ফলে বিশ্বে তাদের কোনো অবস্থান নেই। সময় এসেছে পাকিস্তানকে উপযুক্ত পদক্ষেপ নেবার। (মূল রচনাঃ কৌশিক রায়)