পরমাণু  চুক্তির আওতায় ইরাণের প্রতিশ্রুতি প্রত্যাহার

For Sharing

ইরাণ ঘোঘণা করেছে যে ২০১৫র জুলাইয়ে তারা বিশ্ব শক্তির সঙ্গে যে পরমাণু চুক্তিতে রাজী হয়েছিল তার আওতায় প্রতিশ্রুতি তারা প্রত্যাহার করে নিচ্ছে। এর কারণ হিসেবে ইরাণ জানিয়েছে যে ইওরোপীয় সংঘ পরমাণু চুক্তিতে তাদের প্রতিশ্রুতি পালনে ব্যর্থ হয়েছে, তাই ইরাণেরও কোনো দায় নেই। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র পরমাণু চুক্তি থেকে একতরফাভাবে নিজেদের প্রত্যাহার করে নেবার পর থেকে ইরাণ এবং ইওরোপীয় গোষ্ঠী এই চুক্তি বাঁচানোর চেষ্টা করে চলেছে। ইওরোপীয় ইউনিয়ন এবং ইরাণের মধ্যে বোঝা পড়া হয় যে পরমাণু চুক্তিতে ইরাণকে যে সব অর্থনৈতিক প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল তা সুনিশ্চিত করা হবে এবং তাহলে ইরাণও চুক্তি অনুযায়ী তাদের অঙ্গীকার পালনে সক্ষম হবে জানায়।

ইরানী পরমাণু শক্তি সংস্থার নির্দেশক আলি আকবর সালেহি এই সিদ্ধান্তের  সমর্থনে যুক্তি ব্যাখ্যা করেন। ড. সালেহি বলেন ইওরোপীয় ইউনিয়ন তাদের প্রতিশ্রুতি পালনে ব্যর্থ হওয়ায় তাদেরও প্রতিশ্রুতি থেকে প্রত্যাহার করে নেওয়ার অধিকার রয়েছে। তিনি বলেন বৈদেশিক বাণিজ্যে ইরাণের প্রবেশাধিকার পর্যাপ্তভাবে পুনঃ প্রতিষ্ঠিত করতে ইওরোপীয় পক্ষগুলি ব্যর্থ হয়েছে। উল্লেখ্য মার্কিন নিষেধাজ্ঞার ফলে ইরানের এই প্রবেশাধিকার বন্ধ হয়েছিল এবং সেই কারণে ইরাণ চুক্তি অনুযায়ী তাদের প্রতিশ্রুতি পালন থেকে নিজেদের প্রত্যাহার করে নেবার সিদ্ধান্ত নেয়।

একটি ইরাণী সংবাদ সংস্থা  গত সপ্তাহে জানিয়েছে যে ইরাণের বিদেশ মন্ত্রী জাভে জারিফ  ইওরোপীও ইউনিয়নের বিদেশী নীতি সংক্রান্ত প্রধানকে চিঠি লিখে পারমাণবিক গবেষনা এবং বিকাশের কার্যকলাপ সীমিত করা সংক্রান্ত তাদের প্রতিশ্রুতি থেকে নিজেদের প্রত্যাহারের কথা জানিয়েছেন। এই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ইরাণ ইউরেনিয়াম সম্বৃদ্ধকরণের কাজ দ্রুত গতিতে চালিয়ে যাবার জন্য সেন্ট্রিফিউজ বিকশিত করার প্রক্রিয়া শুরু করবে। তবে এই নতুন ব্যবস্থা হবে শান্তিপূর্ণভাবে কারণ এসব চলবে আই এ ই এর নজরদারীতে এবং ইওরোপীয় ইউনিয়ন তাদের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করলে তারা আবার এই সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করবে।

যাইহোক ইরাণের বর্তমান সিদ্ধান্তকে পরমাণু চুক্তি  সমাপ্ত হলো বলে ধরে নেবার কোনো কারণ নেই; বরং এগুলিকে ইরাণ যাতে দ্রুত অর্থনৈতিক সুবিধা পায় তা সুনিশ্চিত করতে ইওরোপীয় সঙ্ঘের ওপর চাপ সৃষ্ঠির লক্ষ্যে গৃহীত পদক্ষেপ বলে বিবেচনা করতে হবে। ফ্রান্সের নেতৃত্বাধীন ইওরোপীয় ইউনিয়ন অবশ্য পরমাণু চুক্তিকে বাঁচাবার চেষ্টা করে চলেছে, গতমাসে জি ৭এর বৈঠকে তার স্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া গেছে। ফরাসী রাষ্ট্রপতি এম্যানুয়েল ম্যাক্রোঁর আমন্ত্রণে ইরাণী বিদেশ মন্ত্রী জাভেদ সারিফ বৈঠকে যোগ দিতে বিয়ারিট্‌জে যান এবং সেখানে মার্কিন রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্পও উপস্থিত ছিলেন। যদিও ফরাসী রাষ্ট্রপতির এই প্রয়াস মার্কিন এবং ইরানের মধ্যে প্রকৃত আলোচনায় পর্যবসিত হয় নি, তবে একে চুক্তি বাঁচানোর জোরদার প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা যেতে পারে।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরাণের মধ্যে দ্বন্দ্ব প্রতিনিয়ত তীব্রতর হয়ে উঠছে এবং পারস্য উপসাগরে ট্যাংকার দখলের প্রশ্ন সংক্রান্ত বিষয়গুলি ক্রমশ পরিস্থিতকে আরো জটিল করে তুলছে। এই পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলির উচিত উত্তেজনা প্রশমনের প্রয়াস চালানো। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এখন পর্যন্ত ইরানের ওপর তাদের সর্বাধিক চাপ সৃষ্টির নীতি অব্যাহত রেখেছে এবং এই নীতির আওতায় মার্কিন প্রশাসন এই সিদ্ধান্তে অনড় রয়েছে যে যারাই ইরানের কাছ থেকে তেল ক্রয় করবে তাদের বিরুদ্ধে শাস্তি ব্যবস্থা আরোপ করা হবে। তবে এই নীতি ইরানী পরমাণু চুক্তির মূল দর্শনের পরিপন্থি কারণ এতে ইরাণকে তাদের পরমাণু কর্মসূচি হ্রাস করলে অর্থনৈতিক সুবিধা দেবার আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল।

ভারত পরিস্থিতির ওপর অনবরত দৃষ্টি রেখে চলেছে কারণ ইরাণ জ্বালানীর এক গুরুত্বপূর্ণ উৎস। তাছাড়া ইরাণ ভারতের সম্প্রসারিত প্রতিবেশী অঞ্চলের দেশ তাই এই অঞ্চলের শান্তি ও স্থিতিশীলতা ভারতের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আশা করা যায় যে বিশ্বের শক্তিধর দেশগুলি শীঘ্রই ইরানী পারমাণবিক সংকটের  বন্ধুত্বপূর্ণ সমাধানে সক্ষম হবে। (মূল রচনাঃ আসিফ সুজা)