ভারত-নেপাল পেট্রোলিয়াম পাইপলাইনের উদ্বোধন

For Sharing

ভারত ও নেপাল তাদের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে আরো একটি মাইল ফলক সংযোজন করলো। উভয় দেশের প্রধানমন্ত্রী যৌথভাবে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বিহারের মোতিহারী এবং নেপালের আমলেকগঞ্জের মধ্যে দক্ষিণ এশিয়ায় এযাবৎকালের প্রথম আন্তঃসীমান্ত পেট্রোল পাইপলাইন উদ্বোধন করেন। ৬৯ কিলোমিটার দীর্ঘ এই পাইপলাইনের ৩২.৭ কিলোমিটার ভারতের দিকে এবং ৩৭.২ কিলোমিটার রয়েছে নেপালের অভ্যন্তরে। এর ফলে নেপালের জনগণের জন্য বছরে দু’মিলিয়ন টন পরিশোধিত পেট্র পণ্য সরবরাহ সম্ভব হবে।

এই প্রকল্পকে ভারত ও নেপালের মধ্যে ঘনিষ্ট দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের প্রতীক হসেবে বর্ণনা করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেন মোতিহারী-আমলেকগঞ্জ পাইপলাইন প্রকল্প এই অঞ্চলের জ্বালানী সুরক্ষা বৃদ্ধি করবে এবং পরিবহন ব্যয় হ্রাস করবে। তিনি সন্তোষ প্রকাশ করেন যে উচ্চতম রাজনৈতিক পর্যায়ে নিয়মিত মত বিনিময়ের দরুণ ভারত-নেপাল সম্পর্ক সম্প্রসারিত হয়েছে। নতুন দিল্লী থেকে প্রকল্পের শুভসূচনা করে শ্রী মোদি আস্থা প্রকাশ করেন যে বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুটি দেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের উত্তরোত্তর উন্নতি ঘটবে এবং নেপালের উন্নয়নের প্রয়াসে ভারতের সহায়তারও তিনি প্রতিশ্রুতি দেন।

কাঠমন্ডুতে ভাষণ দেওয়ার সময় নেপালের প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা ওলি বাণিজ্য, পরিবহন এবং পরিকাঠামোর নিরিখে এই পাইপলাইন প্রকল্পকে যোগাযোগের সর্বোত্তম দৃষ্টান্ত বলে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, জনগণের উন্নয়ন, সমৃদ্ধি এবং সুখের দিক থেকে ভারত ও নেপালের  অভিষ্ট লক্ষ্য অভিন্ন।  নেপালের জনগণের জন্য এটি খুব আনন্দের বিষয় যে শ্রী ওলি নেপালে পেট্রল ও ডিজেলের মূল্য লিটার প্রতি দুটাকা কম করার কথা ঘোষণা করেছেন। তিনি বলেন ভারত থেকে নেপালে পাইপ লাইনের মাধ্যমে তেল সরবরাহের ফলে কেবল দামই কম হবে বা সময় কম লাগবে  তাই নয়, এর ফলে সড়কে যানবাহন কমবে এবং বায়ু দুষণ হ্রাস পাবে।

১৯৭৩ সাল থেকে নেপাল তাদের প্রয়োজনের  পুরো তেলই  ভারত থেকে আমদানী করে থাকে এবং চিরাচরিত ভাবে পেট্রোপণ্য  পরিবহনের জন্য  তেলের ট্যাংকার ব্যবহার করা হয়। রাষ্ট্রায়ত্ব ক্ষেত্রের ইন্ডিয়ান অয়েল কর্পোরেশন, নেপাল অয়েল কর্পোরেশনের সঙ্গে ২০১৭ সালে সংশ্লিষ্ট চুক্তি নবীকরণ করেছে যাতে আরো পাঁচ বছর অর্থাৎ ২০২২ সাল পর্যন্ত তেল সরবরাহ অব্যাহত থাকে।

১৯৯৮ সালে মোতিহারী-আমলেকগঞ্জ পাইপলাইন প্রকল্পের প্রস্তাব আসে, কিন্তু তারপর অনেক বছর তার ওপর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয় নি। ২০১৪ সালে প্রধানমন্ত্রী শ্রী মোদির নেপাল সফরের পর তাতে নতুন করে  গতি সঞ্চারিত হয়। তারপর ২০১৫র সেপ্টেম্বরে দুটি দেশের শীর্ষ তেল কম্পানী ইন্ডিয়ান অয়েল  কর্পোরেশন এবং নেপাল অয়েল করপোরেশনের মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। গত বছর এপ্রিল মাসে শ্রী ওলির নতুন দিল্লী সফরের সময় হায়দ্রাবাদ হাউস থেকে দু’দেশের প্রধান মন্ত্রী শ্রী মোদি এবং শ্রী ওলি রিমোট কন্ট্রোলের মাধ্যমে এই প্রকল্পের শিলান্যাস করেছিলেন।

এই প্রকল্পের কাজ ৩০ মাসের মধ্যে সম্পূর্ণ করার কথা নির্ধারিত হয় কিন্তু  উভয় পক্ষের কর্মকর্তাদের অক্লান্ত প্রয়াসের ফলে অর্ধেক সময়ের মধ্যেই সেই লক্ষ্যে পৌঁছনো সম্ভব হয়েছে। নেপালে কোনো ভারতীয় প্রকল্প দ্রুত রুপায়নের ক্ষেত্রে এটি এক রেকর্ড। দুটি দেশ এখন নিয়মিত উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে চলতি প্রকল্পগুলির পর্যালোচনা করে থাকে। গত মাসে ভারত-নেপাল যৌথ কমিশনের বৈঠক হয় কাঠমন্ডুতে, তাতে দুটি দেশের বিদেশমন্ত্রীরা যৌথভাবে পৌরহিত্য করেন। বৈঠকে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের সামগ্রিক বিষয় পর্যালোচনা করা হয় এবং চলতি প্রকল্পগুলির রুপায়ন খতিয়ে দেখা হয় এবং সহযোগিতার নতুন নতুন ক্ষেত্র চিহ্নিত করা হয়। উভয় প্রধানমন্ত্রী দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের অগ্রগতিতে সন্তোষ প্রকাশ করেন। শ্রী ওলি নেপালে ২০১৫র ভূমিধ্বসে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য ৫০,০০০ বাড়ি নির্মাণ করায় ভারতকে ধন্যবাদ জানান। (মূল রচনাঃ রতন সালডি)