শ্রীলংকায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রস্তুতি

For Sharing

শ্রীলংকায় দীর্ঘ দিন ধরে অব্যাহত রাজনৈতিক উতার চড়াওয়ের মধ্যেই আগামী ১৬’ই নভেম্বর রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি  শুরু হয়েছে। তবে এই নির্বাচনকে ঘিরে জনসাধারণের মধ্যে উৎসাহ বা নির্বাচনী ব্যস্ততা এখনও খুব একটা চোখে পড়ছে না, যা অন্যান্য বারের তুলনায় অস্বাভাবিকই মনে হচ্ছে। এর একটা কারন হতে পারে, গত বছর ইস্টার রবিবারের ভয়াবহ সন্ত্রাসবাদী আক্রমণের দুঃস্বপ্ন শ্রীলংকার মানুষ বোধ হয় এখনও কাটিয়ে উঠতে পারছে না। অনেকে আবার মনে করছেন, এবারের এই রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে  প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী দুটি দলের পক্ষ থেকে দেশবাসীকে হয়তো নতুন কিছু দেবার নেই বলেই দেশের মানুষের ধারণা।

শ্রীলংকার প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি মাহিন্দা রাজাপক্ষের ভাই তথা দেশের প্রাক্তন প্রতিরক্ষা সচিব গোটাবায়া রাজাপক্ষে এবারের নির্বাচনে রাষ্ট্রপতি পদপ্রার্থী হচ্ছেন বলে ইতিমধ্যেই ঘোষণা করেছেন। এই উদ্দেশ্যে তিনি তাঁর মার্কিন নাগরিকত্ব ত্যাগ করে শ্রীলংকার নাগরিকত্ব গ্রহণ করবেন বলে এ বছরের শুরুতেই জানিয়ে দেন;এবং এর মধ্যেই তিনি এই কাজটি সম্পন্ন করেছেন। তবে এব্যাপারে এখনও আইনী প্রশ্ন থেকেই গেছে। বিষয়টি এখন আদালতের বিবেচনাধীন।

উল্লেখ করা যেতে পারে, শ্রীলংকায় এল টি টি ই দমন অভিযানে গোটাবায়া রাজাপক্ষে এক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। গোটাবায়া রাজাপক্ষে নির্বাচনে জয়ী হলে তিনি তাঁর বড় ভাই মাহিন্দা রাজাপক্ষের অনুসৃত নীতির পথেই চলবেন বলে রাজনৈতিক মহলের ধারণা। তিনি এই মর্মে তাঁর অবস্থানও স্পষ্ট করেছেন।  এই নির্বাচনে তিনি, বিশেষ করে, দেশের দক্ষিণাঞ্চলের সিংহলী জনগোষ্ঠীর সমর্থন পাবেন বলে আশা করছেন।

অপরদিকে প্রধামন্ত্রী রনিল বিক্রমসিঙ্ঘে  দেশের মধ্য-দক্ষিণ পন্থী ক্ষমতাসীন ইউনাইটেড ন্যাশানাল পার্টী-UNP’র রাষ্ট্রপতি পদ প্রার্থী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারেন।  শ্রীলংকার একজন অভিজ্ঞ রাজনৈতিক নেতা হিসেবেও রনিল বিক্রমসিঙ্ঘের স্বীকৃতি আছে। তিনি পাঁচবার প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন, তিনি চার দশক ব্যাপী শ্রীলংকা সংসদের সদস্য ও ২৫ বছর তিনি UNP’র নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।  তবে রনিল বিক্রমসিঙ্ঘের  রাষ্ট্রপতি পদপ্রার্থী হওয়াকে দেশের অধিকাংশ মানুষ, ও তাঁর নিজের দলেরই অনেকে বিরোধিতা করছেন। এই পদের জন্য তাঁরা চাইছেন একজন তরুণ ও প্রগতিশীল  প্রার্থীকে।  তাঁদের মতে, ক্ষমতাসীন শিরিসেনা সরকারের একজন মন্ত্রী, তথা দেশের প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি রনসিংঘে প্রেমদাসার ছেলে সাজিথ প্রেমদাসা এই পদের জন্য যোগ্য প্রার্থী। তবে UNP দলে রনিল বিক্রমসিংঘের যে প্রভাব রয়েছে, তার প্রেক্ষিতে দলের পক্ষে এ ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ খুব একটা সহজ হবে মনে হয় না।

সাজিথ প্রেমদাসা রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য কিছুদিনের মধ্যেই তাঁর প্রার্থীপদ ঘোষণা করতে পারেন। আর তা হলেই জনগণের আস্থাভাজন  ও শক্তিশালী প্রার্থী হিসেবে এই পদের জন্য দুজন, অর্থাৎ ক্ষমতাসীন প্রধানমন্ত্রী রনিল বিক্রমসিঙ্ঘে ও প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি রণসিঙ্ঘে প্রেমদাসার ছেলে সাজিথ প্রেমদাসা  নির্বাচনী আসরে আসবেন; এবং  নির্বাচনী প্রচারভিযানকে ঘিরে তখনই জনসাধারণের মধ্যে প্রকৃত আগ্রহের সঞ্চার হবে। প্রথম জনের আছে কলম্বোর ক্ষমতাসীন অভিজাত শ্রেণির মধ্যে উজ্জ্বল ভাবমূর্তি,আর দ্বিতীয় জনের আছে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের সিংহলী জনগোষ্ঠীর ব্যাপক সমর্থন।

শ্রীলংকায় আগামী নভেম্বর মাসে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের পর আগামী বছরের প্রথম দিকেই সংসদীয় নির্বাচন। তার পরেই দেশের প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচন হবার কথা। কাজেই আগামী বছর সংসদীয় ও প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচনে প্রেক্ষিতে আসন্ন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনও যে বেশ ঘটনাবহুল হয়ে উঠবে তা প্রত্যাশা করা অযৌক্তিক হবে না। বর্তমানে এই নির্বাচনী প্রচারঅভিযানে তেমন তেজী ভাব লক্ষ্য করা না গেলেও আগামী সপ্তাহগুলিতে  তা ক্রমশ জোরদার হয়ে উঠবে বলেই আশা করা যায়।

ভারত,  ঘনিষ্ঠ প্রতিবেশি ও মিত্র দেশ হিসেবে শ্রীলংকায় এই নির্বাচন অবাধ ও ন্যায়সংগত হবে বলেই কামনা করছে। এই দ্বীপ রাষ্ট্র সাফল্যের সঙ্গে এই নির্বাচন পর্ব সম্পন্ন ক’রে একটি  সার্বভৌম গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে দক্ষিণ এশিয়ার শান্তি ও উন্নয়নে যথাযোগ্য ভূমিকা পালন করে যেতে পারবে বলেই সকল মহলের প্রত্যাশা। (মূল রচনাঃ- এম কে টিক্কু )